নানা ভাবে পিছিয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম

সারা দেশের তুলনায় চট্টগ্রাম অনেক দিকে পিছিয়ে আছে। রাজধানী ঢাকা, কথায় আছে বাণিজ্যিক রাজধানী  চট্টগ্রাম। বাস্তবে বাণিজ্যিক রাজধানীর তেমন কোন উল্লেখযোগ্য কাজ কর্ম চট্টগ্রামবাসী দেখতে পায়নি। চট্টগ্রামের শহর গ্রামাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই নাজুক, শহরে চলাচলের বর্তমানে ফুটপাত  থাকলেও  ব্যবহার উপযোগী নয়।  এখানে রাস্তার দুপাশে হকারদের বাজার,  হাজার  হাজার  হকার এ রাস্তা দখল করে বিক্রি করছে কাপড় চোপড়,প্রসাধনী,তরকারী, ইট বালি,কংকর,চা,পান,সিগারেট  ইত্যাদি, রাস্তার দুপাশে  প্রাইভেট গাড়ির স্ট্যান্ড। সকাল বিকাল স্কুল কলেজ টাইমে রাস্তায় চলাচল করা  এক প্রকার দুরহ হয়ে পড়ছে। স্কুলগামী ছাত্র ছাত্রীদের প্রাইভেট গাড়ির যে ভাবে আধিক্য তেমনিভাবে অফিসগামী ও কম নয়। যার যেখানে ইচ্ছে গাড়ি পার্কিং করে রাস্তা ফুটপাত দখল করে আছে। অনেক ক্ষেত্রে  ট্রাফিক পুলিশ অসহায় কারণ গাড়ি ধরতে গেলেই তিনি হয়ে যান ক্ষমতাবান কোন নেতা বা সরকারী আমলা, আর যদি সাধারণ পাবলিক  হয় তার  তখন বারটা বাজায় ছাড়বে। আইন শুধুমাত্র প্রয়োগ  হচ্ছে নিরীহ মানুষের জন্য। ক্ষমতাধর  আমলা  তারা আইনের অনেক উর্ধ্বে  থেকে যায়। আইনকে অমান্য  করার  কারণে  রাস্তার যানজটের  এ বেহাল পরিস্থিতি।  আইনের যথাযত প্রয়োগের অনুসরণ অনুুকরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে। এটা না থাকার  কারণে অনেকাংশে যানজট হচ্ছে, ট্রাফিকক আইন  অমান্য রাস্তার দু-ধারে গাড়ি মালামাল রাখা। আইন ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাস্তাকে যার যে রকম ইচ্ছে সেভাবেই ব্যবহার করা হচ্ছে, রাস্তাকে যানজট মুক্ত করতে হলে ফুতপাত দখল মুক্ত করতে হবে, মানুষের  হাটা চলার ব্যবস্থা করতে হবে। নম্বর ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ীর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে। ড্রাইভারের অবশ্যই বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে, লাইসেন্সবিহীন অনভিজ্ঞ ড্রাইভার দিয়ে রাস্তায় গাড়ি চালাতে দেয়া যাবে না। শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী যাত্রা ও আসার সময় ফুতপাত হকার মুক্ত রাখতে হবে। স্কুল ও অফিস টাইম সকাল  বিকেল পরিবহণ  সংকট চরমপর্যায়ে দেখা যায়, এ  সময় রাস্তায় পরিবহণ  সংকট দূর  করতে হবে। ছাত্র  ছাত্রীদের পরিবহণে  হাফ  ভাড়ার নিয়ম বাস্তবায়ন করতে  হবে। ড্রাইভার হেলপারদের  গাড়ীতে চাকরির পূর্বে প্রয়োজনীয়   ব্যাবহারিক প্রশিক্ষণ দিতে  হবে।  ডি সি ট্রাফিক ড্রাইভার  হেলপারদের সাথে সৌহার্দপূর্ণ ব্যবহার মাঝে মধ্যে সভা সেমিনারের ব্যবস্থা করতে হবে। মানবধিকার রক্ষা মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টির উদ্দেশ্য ট্রাফিক সার্জেন্ট , ড্রাইভার হেলপার সকলকেই মানববাদী হতে হবে। প্রশাসনের দলীয়করণের উর্ধ্বে উঠে রাস্তার শৃংখলা রক্ষায় সমন্বিত উদ্দোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।  অন্যতায় আসামী মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সড়ক সমূহে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। বর্তমানে ১০ মিনিটের রাস্তায় ১ ঘন্টা লাগে, ২  ঘন্টার রাস্তায় ৪ ঘন্টা চলে যায়,  রাস্তায় মুমুর্ষরোগী নিয়ে বের  হলে করুন পরিনতিতে পড়তে দেখা যায়।  কোন কোন ক্ষেত্রে ট্রাফিকদের বকশিস দিয়ে রাস্তা দখলের সুযোগ করে দিতে দেখা যায়।  ট্রাফিক চাদাবাজী,হর হামেশা রাস্তায় চোখে পড়ে অত্যন্ত খারাপ এ দৃশ্য দেখতে দেখতে বহু  দিন এমন, এ সংস্কৃতির পরিবর্তন কবে হবে বলা মুশকিল। চট্টগ্রামকে  এগিয়ে নিতে হলে সর্ব আগে যানজট মুক্ত নগরী করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশ, হেলপার, ড্রাইভার, যাত্রী,প্রাইভেট গাড়ীর সকলকেই রাস্তার শৃংখলা মানতে বাধ্য থাকতে হবে। তবে চট্টগ্রাম ব্যবসা বাণিজ্য, বাণিজ্যিক রাজধানীর সুফল ভোগ করতে পারে। শত শত নালার উপর অবৈধ দোকান, অফিস ঘর নির্মান করা হয়েছে তা উচ্ছেদ করে নালাকে পানি চলাচলে মুক্ত করে দিতে হবে। নালার উপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে, মশা মাছির উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীর মাধ্যমে  মশা-মাছি নিধনে সারা বছর ব্যাপী বাস্তব কর্মসূচী থাকতে হবে। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশ ঘিরে গড়ে উঠা কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। স্কুলের যে সব শিক্ষক এ  অবৈধ বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বলতে গেলে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা, বাজার মার্কেট স্থাপনা হাসপাতালে ক্লিনিকে সব কিছুতেই প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয় না। ইচ্ছে মত স্কুল, কলেজ, রাস্তার পাশেই গড়ে উঠছে। করা অনুমোদন দেয় তা খতিয়ে দেখতে হবে। যত্রতত্র খুশীমত প্রতিষ্ঠান রাস্তার উপরে হওয়াতে যানজটের অন্যতম কারণ, প্রাইভেট গাড়ীর আধিক্য কমিয়ে গণপরিবহণের যাত্রা বাড়াতে হবে। সু-শৃংখল গণপরিবহণ যাত্রী সাধারণ চায়। চট্টগ্রাম বহুদিকে   পিছিয়ে বসার শেষ নেই।  এমনকার রাজনৈতিক নেতারা চট্টগ্রামের উন্নয়ন ঐক্যবদ্ধ না। তাদেরকে  চট্টগ্রামের উন্নয়নের ব্যাপারে প্লাট ফরমে আসতে হবে। সারা দেশে যে পরিমান উন্নয়ন হয় তার চেয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়নে বহুগুন পিছিয়ে, চট্টগ্রামের রাজত্ব যে ভাবে  কেন্দ্রীয় একাউন্টে যায় তার শতভাগের ৫ ভাগও চট্টগ্রামের জন্য  খরচ হয় না। চট্টগ্রামের রাজত্বের উল্লেখ যোগ্য অংশ  চট্টগ্রামের উন্নয়নে খরচ করতে হবে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের সকল রাজনৈতিক নেতাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখতে হবে। ব্যবসা বাণিজ্য স্বাধীনতার পরে যা ছিল বর্তমানে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা বলে চট্টগ্রামে  ব্যবসা নেই। সব প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা সহ বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে গেছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ কর্মসূচী পরিহার করতে হবে। খাতুনগঞ্জ, আছদগঞ্জ, আগ্রাবাদ, টেরীবাজার ইত্যাদি ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এখন আর সে রকম নাই, ব্যবসায়ীরা তদের পুরনো দিনের অনেক ব্যবসা গুছিয়ে বেকার অলস সময় কাঠাচ্ছে, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীর মর্র্যাদায় রাখতে হলে অবশ্যই চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পুরনো প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামকেই বলতে হবে। নানা কারণে চট্টগ্রাম পিছিয়ে পড়েছে, পড়ছে, আরো পড়বে যদি এখন থেকেই চট্টগ্রামের  ঐতিহ্য রক্ষায় সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক ফলে সোচ্ছার না হয়। এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের দৈনিক পূর্বকোন পত্রিকার প্রকাশ ও পত্রিকা যে ভাবে ভূমিকা রাখে অনুরুপভাবে অন্যান্য পত্রিকার পক্ষ থেকে এ ধরণের ভূমিকার আশা করে চট্টগ্রামবাসী, রাজনৈতিক সামাজিক প্রতিষ্ঠানিক লেখক,গবেষক, বুদ্ধিমানী সাংবাদিক সকলকেই চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে এগিয়ে আসা  দরকার,তবেই চট্টগ্রাম  পিছিয়ে পড়া  থেকে এগিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*