★রোহিঙাদের ইতিহাস ও আমাদের করনীয়★

ডাঃ মান্নান ::
প্রথমে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক ও চট্টগ্রাম বাসীর অসুবিধার আশংখায় রোহিঙাদের নিয়ে চুপ ছিলাম, কিন্তু আজ বার্মা কর্তৃক নিরহ কিছু নারী শিশুদের নির্যাতনের ভিডিও চিত্র দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারলামনা, তাই আমার আজকের এই লেখা।
*পুর্বদিকে দুর্গম পাহাড় পর্বত, উত্তর পশ্চিমে ছোট্ট নাফ নদী বেষ্টিত এই আরকান রাজ্য ৪০ বছর আগেও রোহিঙা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা ছিলো,
আরো ৬ শত বছর আগে থেকে বৃটিশ শাসনামল পর্যন্ত এই রাজ্য শাসন করতেন মুসলিম শাসকরা, এঁদের মধ্যে এক ছিলেন রাজা হোসেন শাহ্,এই রাজ্য সভার প্রধান কবি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত কবি আলাওল। তাঁর লিখনীতেও আরকান মুসলিমের অনেক গৌরবজ্বল ইতিহাস পাওয়া যায়, সেই বৃটিশদের অধীনে থাকার সময়েও এদের শান শওকতের কোন কমতি ছিলোনা,
সে সময়ও এ দেশের বিশেষ করে চট্টগ্রামের লোকেরা সে আরকান ও রেঙুন শহরে গিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করত, চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ধনী আবদুল বারী চৌধুরী সহ অনেকে সেই আরকানে ব্যবসা করে বিরাট ধনী লোক হন।
এই আরকান রাজ্যে আদিবাসী রোহিঙারা সে সময়ও অতিথি পরায়ণ ছিলো,বাংলাদেশের জন নন্দিত নেতা বঙবন্ধুকে যখন পাকিস্তান সরকার ফাঁসানোর জন্য আগরতলার ষড়যন্ত্র মামলা দেয় তখনও এই রোহিঙারা বঙবন্ধুকে আশ্রয় দিয়েছিলেন।
মুলত বৃটিশরা এ ভারত উপ মহাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় এই মুসলিম অধ্যুষিত আরকানকে ছোট্ট নাফ নদীর অতি কাছের এই মুসলিম জনপদ বাংলাদেশের সাথে সংযুক্ত না করে দুর্গম পাহাড় থেকে অনেক দুরের সে পৃথিবীর বর্বর, নিষ্টুর, বৌদ্ধ বার্মিজদের হাতে তুলে দেয়, যার ফলে সহজ সরল আরকান রোহিঙাদের ভাগ্যে নেমে আসে পৃথিবীর সেরা নারকীয় এই দূর্যোগ,
ঠিক যেমনটি করা হয়েছে আজাদ কাশমীরকে নিয়ে। আজাদ কাশমীরও সে ৭০ বছর ধরে ভারত কর্তৃক নিপীড়িত হয়ে আসছে।
সর্বপ্রথম ১৯৭৮ সালে বার্মিজ প্রেসিডেন্ট নে উইন এই হাজার বছরের নাগরিক আরকান রোহিঙাদের কোন কারন ছাড়াই অস্বীকার করে বসে আর তখন থেকেই শুরু হয় এই রোহিঙা নিধন।
বঙবন্ধু যখন বাঙালীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের কথা বলেন তখন পাকিস্তানীরা বিশ্বনন্দিত এই নেতাকে সন্ত্রাসী ও রাষ্ট্রোদ্রোহী আখ্যা দিয়ে আগর তলা ষড়যন্ত্র মামলায় আঠকে দেয়া হয়, সেই ৭৮ সাল থেকে জুলুম, হত্যা, নির্যাতনের শিকার রোহিঙা মুসলিমরা যখন এই ২০১২ সালে আতাউল্লাহর নেতৃত্বে নাগরিক অধিকার আদায়ে “আরসা” নামক একটা দল গঠন করে তখন বার্মার সরকার তাদেরকেও সন্ত্রাসী তকমা লাগিয়ে দেয়।
এখানে অবাক করার বিষয় হলো, আমাদের মুক্তি আদায়ে তখন বঙবন্ধুর পাশে ভারত ও রাশিয়ার মতো অনেক দেশ থাকলেও তারা কেউ আজ আতাউল্লাহ বা রোহিঙাদের পাশে নেই। আমরা পাকিস্তান থেকে চেয়েছিলাম একটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র,
আর রোহিঙারা চাচ্ছে, শুধু মাত্র বার্মার হারানো সেই নাগরিত্ব ফিরে পাওয়া, আর নাগরিক সুযোগ সুবিধা, এই অধিকার টুকুও দিতে নারাজ এই বর্বর বার্মিজ নেতুবৃন্দ। এই হলো বার্মা কর্তৃপক্ষ আর রোহিঙাদের মূল দ্বন্ধের কারন। তাই বার্মার সেনা বাহিনী ও সে দেশের বৌদ্ধ মগেরা পৃথিবীর সেরা নিষ্টুর হিটলারের গণ হত্যাকেও হার মানিয়ে আরকানের এই রোহিঙা নিধনে নেমেছে।
পরিশেষে বলতে ও জানতে চাই-
তাদের এই দুর্দিনে আমরা কি পারিনা সে ন্যুনতম সুবিধা বঞ্চিত রোহিঙাদের পাশে দাড়াতে? আমরা কি পারিনা তাদের নাগরিত্ব ফিরে পাওয়ার জন্য বিশ্ব বিবেককে জানাতে! আমরা কি পারিনা আন্তর্জাতিক মহলের মাধ্যমে বার্মার উপর চাপ সৃষ্টি করে তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে? আমি মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী বঙবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সবিনয়ে আবেদন জানাচ্ছি, আপনি যথাযথ প্রদেক্ষপ নিয়ে এই নির্যাতিত রোহিঙাদের পাশে দাড়ান! এই ব্যাপারে দেশের মানুষ আপনার পাশেই আছে।
যদি এ ব্যাপারে এক্ষুনি কোন প্রদক্ষেপ নিতে গাফলতি হয় তাহলে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে রোহিঙারা মুছে যাবে শুধু তা নয়, এই নির্যাতিত রোহিঙাদের অনুপ্রবেশের কারনে দেশের বিশেষ করে আমাদের এই বৃহত্তর দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিশাল ক্ষতির আশংখাও অপেক্ষা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*