রোহিঙ্গাকে কেন্দ্র করে টেকনাফ -উখিয়ায় হুন্ডির ব্যবসা রমরমা

টেকনাফ প্রতিনিধি::
মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিতরণের জন্য বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণ টাকা আসতেছে। তা বিতরণ করা হচ্ছে হুন্ডি মাধ্যামে। আবার অনেকে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন করছে। হুন্ডি ব্যবসা এখন জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে বিনা বাধায়। সরকারের কঠোর নির্দেশ উপেক্ষা করে পুরো উপজেলার একাধিক হুন্ডি ব্যবসায়ী এলাকাকে হুন্ডির স্বর্গরাজ্য পরিনত করেছে। বিদেশে কর্মরত রোহিঙ্গা প্রবাসীরা ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠানোকে ঝামেলা মনে করে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানোর কারনে সরকার হারাচ্ছে প্রচুর পরিমান রাজস্ব।
সরকারী এবং বেসরকারী ব্যাংকে লেনদেন ঝুঁকি থাকায় দেশের ভেতরে ও টেকনাফের হুন্ডি লেনদেনকারীরা নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। সীমান্ত এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আড়ালে হুন্ডি বাণিজ্য করে অনেকেই আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিনত হয়েছে। কিন্তু এর সাথে জড়িত হুন্ডি ব্যবসায়ীদের আইন শৃংখলা বাহিনী চিহ্নিত করলেও অনেকেই এখনো ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে তারা।
জানা যায়, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেনে সরকারের নজরদারী থাকায় টেকনাফের চিহ্নিত ইয়াবা, মানবপাচারের গডফাদাররা দীর্ঘদিন ধরে হুন্ডির মাধ্যমেই কোটি কোটি টাকার লেনদেন করে যাচ্ছে। সেই সাথে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের মাধ্যমে ও ব্যবহার করছে কারবারিরা। উখিয়া, কুতুপালং, টেকনাফ পৌর শহর, হ্নীলা, সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপের হুন্ডি ব্যবসায়ীরা বেঙের ছাতার ন্যায় গজে উঠেছে। তারা বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসব টার্গেট করলেও এবারে রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো টাকাকে টার্গেট করেছে।
অপরদিকে টেকনাফ সীমান্তের এবং মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের বেশীরভাগ কর্মজীবি মানুষ মধ্যপ্রাচ্য দুবাই মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সিংগাপুর, ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্নদেশে কর্মজীবনে থাকেন। তাদের আয়ের বেশীরভাগ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে চলে আসে। বিশেষ করে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে সহিংসতার পর থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার ফলে একমাত্র অর্থের লেনদেন হচ্ছে একমাত্র হুন্ডি মাধ্যমে। যা টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্ত ব্যতীত অন্য কোন স্থান নেই। গোটা আরাকান রাজ্যের প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ টেকনাফও উখিয়ার সীমান্তের হুন্ডি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। এ ছাড়া অন্য কোন বিকল্প পথ নেই। টেকনাফ সীমান্তের যে, সব জনশ্রুত এবং তালিকাভূক্ত হুন্ডি ব্যবসায়ী রয়েছে, তার মধ্যে হ্নীলার মাহবুবুল আলম, আতিক, জয়নাল আবেদীন, নুরুল ইসলাম প্রকাশ বিকাশ ইসলাম, টেকনাফ সদরের ডেইল পাড়ার কালা মোঃ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আমিন, উখিয়ার মাহবুব আলম, মোস্তাক আহমদ, পালংখালীর ছৈয়দুল্লাহ এরা বড় সিন্ডিকেট ও চাউল ব্যবসার আড়ালে মিয়ানমার ভিত্তিক হুন্ডি করে ওরা এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। ওরা ইয়াবার বিক্রিত এবং প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ হুন্ডি এবং মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাকা পাচার করে দিচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তালিকা থাকলেও এরা বীরদর্পে এ কালো ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচঃ ওরা ধরাছোয়ার বাইরে। অনেকের অভিমত, হুন্ডি ব্যবসা বন্ধ করতে পারলে ইয়াবা কারবারীর ব্যবসা অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যাবে।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাইন উদ্দিন খাঁন বলেন, হুন্ডি ব্যবসা দেশের অর্থনীতির চাকা অচল করে দেয়। তারা দেশ এবং জাতীর শত্রু। সুতরাং এর সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*