কক্সবাজারে কবি নূরুল হুদা সড়কের গাইড ওয়াল নির্মাণের আগেই ভেঙ্গে যাচ্ছে

বি,এম হাবিব উল্লাহ,কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি :: কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও কবি নুরুল হুদা সড়কের দুই পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণের আগেই ভেঙ্গে পড়েছে। নির্মাণ কাজে চিংড়ি ঘেরের লোনা পানি ব্যবহারেরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সড়কের পশ্চিম গোমাতলী পাড়ার অংশে গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজ সরেজমিন পরিদর্শণ করেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজনীন সরওয়ার কাবেরী। এসময় তিনি লোনা পানি মিশিয়ে কাজ না করতে ঠিকাদারের লোকজনকে কঠোরভাবে নিষেধ করেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কক্সবাজার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও কবি নুরুল হুদা সড়কের প্রায় ৮ কি:মি: ক্ষতিগ্রস্থ অংশ বাঁশঘাটা হয়ে পূর্ব গোমাতলী বাংলা বাজার থেকে পশ্চিম গোমাতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য চকরিয়া সোসাইটি (প্রা:) লি: নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্টানকে আগামী মে মাসের মধ্যে কাজ সমাপ্তের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কার্যাদেশ দেয়া হয়। আরটিআইপি প্রকল্পের প্রায় ৯ কোটি টাকার বিশাল অংকের বাজেটের এ কাজটি বাস্তবায়নের শুরু থেকেই নিন্মমানের ইটের খোয়া, বালি ব্যবহার করে আসলেও সড়ক বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে অভিযুক্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সড়ক সংস্কারের কাজ তদারকীর দায়িত্বে থাকা সড়ক বিভাগের এসও সরকারী দায়িত্বে পালনে চরম অবেহেলাসহ ঠিকাদারের লোকজনের সাথে আঁতাত করায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার যেনতেনভাবে কাজ বাস্তবায়ন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সরকারী দায়িত্বে পালনে অবহেলার কেন জানতে দায়িত্বরত এসও’র সাথে যোগাযোগ করে তার বক্তব্যে নেয়া সম্ভব হয়নি। খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, কার্যাদেশ পাওয়ার পর গত ১মাস ধরে পূর্ব গোমাতলী বাংলা বাজার থেকে পশ্চিম গোমাতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের কাজ চললেও দায়িত্বরত এসও’র দেখা মেলেনি। এ সুযোগে ঠিকাদারের লোকজন দায়সারাভাবে নানা ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে সড়ক নির্মাণ কাজ করছেন। পূর্ব গোমাতলী থেকে পশ্চিম গোমাতলী বাজার পর্যন্ত উভয় পাশের গাইটওয়াল নির্মাণে ঠিকাদার নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। গাইটওয়াল নির্মাণে ঠিকাদার নিন্মমানের সামগ্রী ও ঘেরের লোনা পানি ব্যবহার করেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। সরেজমিন গতকাল সড়ক সংস্কার কাজ পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজে ইটের গাথূনি-সিমেন্টের সাথে মিঠা পানির পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে ঘেরের লোনা পানি। ঘেরের লোনা পানি ব্যবহার করায় ডা. নজরুলের বাড়ি অংশে গাইড ওয়াল ধ্বসে পড়েছে। এভাবে সড়কের দুই পাশেই গাইটওয়ালে লোনা পানি ব্যবহার করে ওয়ালের পাশ দিয়ে মাটি তুলে রাস্তা ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। পোকখালী ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ বলেন, বাঁশঘাটা থেকে পশ্চিম গোমাতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটি খুবই জন গুরুত্বপূর্ন। সড়কের পশ্চিম গোমাতলী পাড়া অংশে গাইডওয়াল নির্মাণ কাজে লোনা পানি ব্যবহার করায় তিনি ঠিকাদারের লোকজনকে সতর্ক করেছেন। কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সড়কের গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজে লোনা পানি ব্যবহার ও সড়ক সংস্কার কাজে কোন অনিয়ম করা হলে ঠিকাদরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*