অবশেষে চকরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্ণীতিবাজ আর.ই আলোকে শাস্তি মুলক বদলী

বি,এম হাবিব উল্লাহ, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি::
কক্সবাজারের চকরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগের দুর্ণীতিবাজ আর.ই (আবাসিক প্রকৌশলী) ফয়জুল আলীম আলোকে অবশেষে বদলী করা হয়েছে। গত ৮ মে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী পরিদপ্তর এর উপ-পরিচালক-১ মেহেরুননেছা খানম স্বাক্ষরিত এক আদেশে জনস্বার্থে ও দুর্ণীতিবাজ ওই কর্মকর্তার রোষানল থেকে সাধারণ গ্রাহকদের রক্ষা করতে এ বদলীর আদেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। এ খবর প্রচার হলেই এদিন চকরিয়া পৌর শহরে কর্মরত থাকাকালে দুর্ণীতিবাজ এ কর্মকর্তার উপর ক্ষোব্ধ হাজার হাজার সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মাঝে নেমে আসে স্বস্তি। অন্যদিকে চকরিয়ায় গড়ে উঠা ৬৩ টি টমটম গ্যারেজ মালিকের কাছ থেকে মিটারের ধরন ই ট্যারিফ থেকে ডি’টুতে রুপান্তরের এবং মিটারে বিল যাতে বেশি না আসে এ কথা বলে কয়েকজন দালাল মাধ্যমে প্রতি গ্যারেজ মালিকের কাছ থেকে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা সব মিলিয়ে অন্তত দু’কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার কারনে ফোসেঁ উঠছে ওইসব টমটম গ্যারেজ মালিকরা। শোনা যাচ্ছে শুক্রবার নাগাদ টমটম মালিকদের অনেকেই চকরিয়া বিদ্যুত অফিস ঘেরাও করতে পারে। টমটম গ্যারেজ মালিকের মধ্যে মগবাজার খামার পাড়া গ্যারেজের মালিক সেলিম জানিয়েছে, তার থেকে জৈনক দালাল সেলিমের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে মিটারকে ডিটুতে করার জন্য। অথচ,একই দপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী সরওয়ার আলম জানান, ই ট্যারিফ থেকে ডি’টুতে রুপান্তরের ক্ষেত্রে টমটম মিটার সংক্রান্ত কোন প্রকার সরকারী ফি নেয়ার কোন বিধান নেই। এ নিয়ে সু-নির্দিষ্ঠ সরকারী প্রজ্ঞাপন রয়েছে বলেও তিনি জানান। আর.ই আলোর অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যে আদালতে মামলাও হয়েছে কয়েকটা। গত ১১ মার্চ চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সমশের পাড়ার গ্রাহক ছৈয়দ আলম চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে দুর্ণিীতিবাজ আর.ই আলো সহ চকরিয়ায় কর্মরত বিদ্যুতের তিন জুনিয়র এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ছৈয়দ আলমের কাছ থেকে মিটার দেয়ার নামে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যাংক চেকের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে দাবী করা হয়। এ ঘটনা দৈনিক প্রথম আলো সহ বিভিন্ন সংবাদ পত্র ও টিভিতে প্রকাশিতও হয়েছে। পরে এ দুর্ণিীতিবাজ আর.ই আলো কর্তব্য কাজে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ এনে চকরিয়ায় কর্মরত কয়েকজন প্রতারক সাংবাদিকের ইন্দনে ভোক্তভোগিকে ফাসাঁনোর জন্য চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ কোর্টে একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট মামলা করে ওই আর.ই। ওই মামলায় বয়োবৃদ্ধ ছৈয়দ আলম নামের এ নিরীহ লোকটি জেলও খেটেছেন অনেকদিন। পরে গত ২৮ মার্চ চট্টগ্রামে দুদকের গণ-শুনানীতে ছৈয়দ আলমের বড় ছেলে মনছুর আলম উপস্থিত হয়ে ওই প্রকৌশলীর ব্যাপারে অভিযোগ আনে। পরের দিনই প্রথম আলোতে ছবি সহ সংবাদটি প্রকাশিত হয়। ফলে টনক নড়ে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের। বিদ্যুত বিভাগীয় এবং দুদকের পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত শুরু হয় তার বিরুদ্ধে। অবশেষে গত ৮ মে এ আর.ই আলোকে শাস্তিমূলক বদলীর এ আদেশ দেয়া হয়।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী পরিদপ্তর উপ-পরিচালক-১ মেহেরুননেছা খানম স্বাক্ষরিত আদেশে চকরিয়া বিদ্যুৎ বিভাগের এ দুর্ণীতিবাজ আর.ই ফয়জুল আলীম আলো আগামী ১৩ মে’র ভিতর বিদ্যুত বিভাগের(বিউবো’র) পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল (উত্তর) চট্টগ্রামে সংযুক্তি হতেও বলা হয়েছে। তবে নির্ধারণ করে দেয়া সময়ের মধ্যে ওই আর.ই আলো ওই বিদ্যুত স্টেশনে সংযুক্ত না হলে, তাকে ওই সময় ও তারিখেই পুনারয় স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে বলেও আদেশে উল্লেখ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*