উখিয়ার হাট-বাজারের কোটি টাকার খাস জমি বেদখলে

উখিয়া প্রতিনিধি ::উখিয়া উপজেলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের হাট-বাজার গুলো প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই সাথে দখল হয়ে গেছে কোটি কোটি টাকার খাস জমি। প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাসীন নেতাদের যোগসাজশে খাস জমি দখল করে নির্মিত হচ্ছে দোকান পাট। দোকানপাট গুলো থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করছেন ক্ষমতাসীনরা। এদিকে খাসজমি দখল হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন খোদ উপজেলা ভুমি অফিস কর্মকর্তা।
উপজেলার আড়াই লক্ষাধিক মানুষের সাপ্তাহিক মিলনমেলা হিসাবে খ্যাত হাট-বাজার গুলো প্রতি বছর প্রকাশ্যে ইজারা দিয়ে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আদায় করলেও অবৈধ খাস জমি দখল, অব্যবস্থাপনা, বাজার উন্নয়নের অভাবই মুলত বিলুপ্তের ধারপ্রান্তে নিয়ে এসে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এছাড়াও সাপ্তাহিক মিলন মেলা হিসাবে খ্যাত উপজেলার হাট-বাজার রুমখাঁ বাজার, মরিচ্যা বাজার, পাতাবাড়ী বাজার, কুতুপালং বাজার, বালুখালী বাজার, থাইংখালী বাজার ও পালংখালী বাজার প্রাচীনকালের ঐতিহ্য ধারণ করে রয়েছে। নামে-বেনামে অবৈধভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে এইসব হাট-বাজারের সরকারী খাস জমি। সরকারী টিনসেড থেকে শুরু করে সরকারী সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ না করায় এসব হাট বাজারের অস্থিত্ব বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া হাট-বাজার সংকুচিত হওয়ার ফলে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের উপর হাট বসাতে হচ্ছে।
উপজেলার প্রাচীন হাটবাজারের স্মৃতিচারণ করে রুমখা বাজারের প্রবীণ মুরুব্বীরা বলেন, রুমখাঁ বাজার এক সময় সুদূর কক্সবাজার, চকরিয়া, রামু, টেকনাফের মানুষের প্রাণকেন্দ্র ছিল। ব্রিটিশ আমলের পুরনো এই বাজারটিতে এখনো ছাগলের জন্য সুদূর দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে এই বাজারে। তারা এই বাজারের জন্য আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফ মাহমুদ শাহজাদা বলেন, উখিয়ার বাণিজ্যিক নগরী খ্যাত কোটবাজারের উত্থান হলে কালের গহব্বরে হারিয়ে যেতে শুরু করেছে এত্যিবাহী রুমঁখা বাজার। মানুষ এখন কোটবাজার মুখী হয়ে ব্যবসা আরম্ভ করেছে।
সচেতন মহলের দাবী, গ্রামীণ জনপদের কৃষাণ-কৃষাণীদের উৎপাদিত পন্য সামগ্রী বিক্রি এবং স্থানীয় অদিবাসীদের নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য সামগ্রী ক্রয়ের নির্ভর যোগ্য স্থান উখিয়ার হাট বাজার গুলো বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ফলে প্রাচীন কালের ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। অতি শীঘ্রই বাজার গুলো সংস্কার ও ক্ষমতাসীন দখলবাজদের হাত থেকে উচ্ছেদের উদ্যেগ নেওয়ার দাবী জানান তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*