ফটিকছড়িতে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি

ফটিকছড়ি সংবাদদাতা::
টানা তিন দিনের অব্যাহত বর্ষণে ফটিকছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন পৌর এলাকা ও ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে ভাসছে। গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কসহ উপজেলার প্রায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় গত দুদিন ধরে সব ধরণের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে । বৃষ্টি বন্ধ হওয়ায় ১৩ জুন বুধবার থেকে কমতে শুরু করেছে বন্যার পানি।
তবে এখনো , উপজেলার নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কের সুয়াবিল অংশ কোমর সমান পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহসড়কের নাজিরহাট হতে বিবিরহাট পর্যন্ত অংশে হাঁটু পরিমাণ বন্যার পানিতে ডুবে রয়েছে।
ফলে এসব সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় এক এলাকার সাথে অন্য এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্হা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। টানা অভিরাম বর্ষণ ও হালদা নদী, ধুরং, সর্তা, তেলপারাই,লেলাং খালসহ উপজেলার বিভিন্ন খালের পূর্বের ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকার কারণে এ ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও নতুন ভাবে এসব নদী ও খালের বাঁধ ভেঙ্গে উপজেলার ফটিকছড়ি পৌরসভা, নাজিরহাট পৌরসভা, নারায়নহাট, ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি, সুয়াবিল, পাইন্দং, লেলাং, রোসাংগীরি, নানুপুর, বখতপুর, ধর্মপুর, জাফতনগর, সমিতিরহাট, আবদুল্লাপুরের প্রায় এলাকা ও রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ ডুবে রয়েছে। হালদা নদীর সব পানি তলদেশ খ্যাত সমিতিরহাট ইউনিয়নে প্রবেশ করায় ওই ইউনিয়ন পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, ওখানকার ৪০ হাজার মানুষ পানিজিম্মি হয়ে পড়েছে।
ফটিকছড়িতে আকস্মিক এ বন্যার ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন প্রায় ৫ লাখ মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক মাটি ও বেড়ার ঘর। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন গাছের ঢালে, উঁচু ভবনে। ভেসে গেছে হাজারো পুকুর, মাছের ঘের, গবাদি পশু ও হাঁস মুরগি। ডুবে রয়েছে ফটিকছড়ির নাজিরহাট ও বিবিবহাট বাজারসহ ছোট-বড় অর্ধশত হাট-বাজার। এসব বাজারে ব্যবসায়ীরা ঈদের জন্য আনা হাজার কোটি টাকার মালমাল এখন পানিতে নষ্ট হচ্ছে।
অন্যদিকে ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনে পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম না থাকায় বন্যার পানিতে নিমজ্জিত মানুষকে উদ্ধার করাও সম্ভবপর হচ্ছে না। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার রায় মঙ্গলবার বন্যা কবলিত কিছু এলাকা পরিদর্শন করেছেন। রাতে উপজেলার কাঞ্চননগর ছমুরহাটের পাশে বন্যার পানিতে গাছে আশ্রয় নেয়া ৮ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করেছেন। পানিজিম্মি বানবাসীকে উদ্ধারে পর্যাপ্ত নৌকা পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে মঙ্গলবার রাতে থেকে ফটিকছড়িতে বন্যার পানি নেমতে শুরু করেছে। আজ বুধবার দপুরে সকালে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত মাইজভান্ডার, চট্টগ্রাম- খাগড়াছড়ি, সুয়াবিল- কাজীরহাট ও গহিরা হেঁয়াকো, নানুপুর-খিরাম সড়কের কিছু এলাকায় কোমর পর্যন্ত পানি রয়েছে। নাজিরহাট ঝংকার মোড়ের উত্তর পাশে সড়কে পানি বেশি থাকার কারণে নাজিরহাট বাজার হয়ে বিকল্প সকড়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এছাড়াও সুয়াবিল এলাকার বাসিন্দারা নৌকা নিয়ে চলাচল করছে। রাতে মাইজভান্ডার সড়কে থেকে আবু তৈয়ব নামে এক ব্যক্তি পানির স্রোতে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*