আদালতের নির্দেশ মানছে না দৈনিক চট্টগ্রাম মঞ্চ ও দৈনিক সাঙ্গু

টিপু সুলতান :
Kolilur Rahmanকিছুদিন যাবত চট্টগ্রামের স্থানীয় দৈনিক চট্টগ্রাম মঞ্চ এবং দৈনিক সাঙ্গু পত্রিকা বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরসহ বিভিন্ন ব্যবসার পাইওনিয়ার কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খলিলুর রহমানকে ঘিরে নানারকম কুরুচিপূর্ণ এবং পত্রিকা প্রকাশনা নীতিমালার পরিপন্থি সংবাদ প্রকাশ করে আসছে। এহেন প্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন সমূহের নামকরা নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বলেছেন, শিল্পপতি খলিল সাহেবের বিরুদ্ধে পত্রিকা দু’টোর সম্পাদক পারস্পরিক যোগসাজসে নানা কৌশলে যখন কল্পনা ও মিথ্যার মিশ্রণে একের পর এক সংবাদ প্রকাশ করে যাচ্ছিল তখন কেডিএস গ্রুপ আইনের আশ্রয় গ্রহণ করে। তারা আইনজীবীর মাধ্যমে প্রথমে উকিল নোটিশ প্রেরণ করে। এরপর আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলা দায়ের করে। আদালত আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রাম মঞ্চ ও দৈনিক সাঙ্গুর সম্পাদকের বিরুদ্ধে সমন জারী করে।  কেডিএস চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের আইনজীবী পত্রিকা দুটির প্রকাশিত সংবাদে কিভাবে একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতির চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়েছে তার প্রতি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বলে কেডিএস গ্রুপ সূত্রে জানা যায়। কেননা, পত্রিকা দ’ুটি কেডিএস চেয়ারম্যানের ব্যঙ্গচিত্র এঁকে ‘সহীহ খলিলনামা’ নামে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে সময়সূচি ঘোষণা করে। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে কেডিএস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খলিলুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের চরিত্র হনন করার উদ্যোগ নেয়ায় বাধ্য হয়েই আইনের আশ্রয় নেন এ শিল্পপতি। তাঁর আইনজীবীর আবেদনের যৌক্তিকতা গ্রহণ করে আদালত কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার বিষয়ে পত্রিকা দু’টি কেডিএস এর মালিকের ব্যঙ্গচিত্র সম্বলিত খবর প্রকাশ করতে থাকে যাতে আদালতের নিষেধাজ্ঞাটি তাদের মনপুত হয়নি এ মনোভাব প্রকাশ পায়। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম ও পটিয়া এলাকার বেশকিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষেও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।  প্রতিবাদলিপিতে জানা যায়, দিনের পর দিন একই ধরনের ব্যঙ্গচিত্র এবং একইরকম বক্তব্য ছেপে তারা সংবাদপত্রের নীতিমালা এবং আদালত আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেছে। তাদের প্রতি আদালত যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল-অর্থাৎ ১০ দিন সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল তা কৌশলে প্রতিদিন ভঙ্গ করেছে। বিষয়টি যাচাই করার জন্য আদালত পত্রিকায় কেডিএস চেয়ারম্যানকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদগুলোর কাটিং জমা দেয়ার জন্য আসামী পক্ষকে নির্দেশ দিতে পারেন বলে মনে করেন আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। কি কারণে তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে তার কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশও দিতে পারেন সংশ্লিষ্ট আদালত। বিষয়টি অতীব স্পর্শকাতর বলে আমরা মনে করি। স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক ও সম্পাদক ক্ষুদ্র স্বার্থের বশবর্তী হয়ে একের পর এক দেশের শিল্পপতিদের পারিবারিক বিষয়কে টেনে এনে এতে রং লাগিয়ে পত্রিকায় প্রকাশ করে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকলে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতিগণ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাদের সংবাদ প্রকাশের ধরন দেখে মনে হয়-তারা কোন নৈতিক আদর্শ নিয়ে সাংবাদিকতা করছে না। যে কোনভাবে মনগড়া সংবাদ ছেপে অনৈতিক সুবিধা আদায় এবং ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করার বিশেষ এজেন্ডা এক্ষেত্রে কার্যকর ছিল। প্রতিবাদলিপিতে আরো জানা যায়, এমন সময়ে পত্রিকা দু’টি কেডিএস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ ছেপেছে  যখন তারা শেয়ার মার্কেট থেকে পুঁজি সংগ্রহ করে ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।       ০৯ আগস্ট ২০১৫ তারিখ পর্যন্ত তাদের শেয়ার লট এর আইপিও ক্রয়ের আবেদনের শেষদিন ছিল। তাছাড়া পত্রিকা দুটি আরো কিছু ভুঁইফোঁড় সংগঠনের নামে কেডিএস চেয়ারম্যানের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে স্বার্থান্বেষী মহলকে ব্যবহার করে মানববন্ধন ও এ জাতীয় আরো কর্মসূচির সচিত্র প্রতিবেদন ছেপেছে। এইগুলো করতে গিয়ে তারা নিজেরা পত্রিকার আদর্শ ও উদ্দেশ্য থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। তারা ব্যক্তিগত শত্রুতার পর্যায়ে গিয়ে খলিল সাহেবের বিবাহিতা ও পরবর্তীতে ডিভোর্স হওয়া মহিলার সাথে বাসর ঘরে মালা বদলের ছবি ছেপে দিয়েছে। এটা তাদের কোটিপতি হবার ব্লু-প্রিন্টের কেবল একাংশ। পরবর্তীতে তারা একাজে আরো কিছু শিল্পপতির ব্যক্তিগত জীবনে সংঘটিত ঘটনা ছেপে নিজেদের স্বার্থ আদায় করবে বলে প্রতিবাদলিপি সূত্রে জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*