এখনো সেখানে থমকে দাঁড়ায় পথিক

আমাদের ডেস্ক::
মিরসরাইয়ে ‘ডোবা’ নামের যে মৃত্যুকূপে নিমেষেই ৪৫টি স্বপ্নের অপমৃত্যু হয়েছিল সেটির সামনে এলে আজো থমকে দাঁড়ায় পথিক। দীর্ঘশ্বাসের ভেলায় চড়ে সেই ভয়াল ক্ষণটিতে ফিরে যায় চলতি পথের যেকোন পথিক। স্মরণ করে মর্মস্পর্শি সেই সড়ক দুর্ঘটনার মুহূর্তটিকে।
মনে করার চেষ্টা করে তার চেনা মুখগুলোকে। আর সেই পথিক যদি হন নিহতের কোনো আত্মীয়-স্বজন তাহলে তাদের দীর্ঘশ্বাসের মাত্রাটুকু বেড়ে যায় বহুগুণে। প্রিয়জনকে হারানোর স্থানটুকুর দিকে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলাই যেন তাদের সম্বল হয়ে উঠে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড়তাকিয়া বাজার থেকে আবুতোরাব যাওয়ার পথে চোখে পড়বে ডোবাটি। যেখানে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ ‘অন্তিম’।
মিরসরাই ট্র্যাজেডির সাত বছর পূর্ণ হওয়ায় স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার বলেন, সে দুর্ঘটনায় আমাদের স্কুলের ৩৪ জন ছাত্র নিহত হয়েছে। তাদের শূন্যতা কখনো পূরণ হবার নয়। এখনো মনে হয় তারা আমার আশপাশে ঘোরাফেরা করছে।
তিনি আরও বলেন, ট্র্যাজেডির সময় তৎকালীন শিক্ষা সচিব এসে আবুতোরাব বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা, মিরসরাই স্টেডিয়ামকে মিনি স্টেডিয়াম ও প্রতিটি বিদ্যালয়ে বিআরটিসি বাস দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও অদ্যাবধি কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এছাড়া ১১ জুলাইকে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণা করার দাবি উঠলেও এখনো এটি বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা চাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিগগিরই আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করবে।মায়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির নিজামী বলেন, ১১ জুলাই আমাদের জীবনে এক শোকাবহ দিন। ৪৫ শিক্ষার্থীকে হারানোর শোক আমরা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি।
দিবসটি উপলক্ষে আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বুধবার (১১ জুলাই) নিহত স্কুল শিক্ষার্থীদের স্মরণে মসজিদ, মন্দির, গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা, আবুতোরাব স্কুল প্রাঙ্গণে স্থাপিত স্মৃতিস্তম্ভ ‘আবেগ’ থেকে একটি শোক র‌্যালি বের হয়ে দুর্ঘটনাস্থল ‘অন্তিমে’ গিয়ে শেষ হয়।
সকাল সাড়ে ১১টায় আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিহতদের স্মরণে শোক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। শোক সভায় নিহত শিক্ষার্থীদের স্বজন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সেদিন যা ঘটেছিল সেদিন:
মিরসরাই স্টেডিয়াম থেকে ফিরছিল বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলা শেষে একটি পিকআপ ভ্যানে করে বিজয়ী এবং বিজিত উভয় দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা আবুতোরাব এলাকায় যাচ্ছিল। বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের সৈদালী এলাকায় ৬০-৭০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ডোবায় উল্টে যায় মিনি ট্রাকটি। পরে সে মরদেহের রথ গিয়ে থামে পঁয়তাল্লিশে। অপরদিকে ছেলের মৃত্যু হয়েছে ভেবে হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেলেন হরনাথ নামে এক বাবা।
সর্বশেষ ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর রাত ৯টায় নয়নশীলের প্রয়ান পর্যন্ত ৪৫টি মৃত্যু গুণতে হয়। ৪৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ৮ ডিসেম্বর চালক মো. মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ উদ্দিনকে দু’টি ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই সাজা শেষে জেল থেকে ছাড়া পান চালক মফিজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*