সরকারী হজ্ব কাফেলায় রোহিঙ্গাদের নিয়োগে মক্কায় বাংলাদেশীদের মাঝে ক্ষোভ

মক্কা থেকে মো: নাজিম উদ্দিন বাবুল :: বাংলাদেশ হজ্ব মিশন ব্যাতিক্রম। জানি না বাংলাদেশ সরকারের কোন সার্ক্যুলার আছে কিনা বার্মিজদের হজ্বকর্মী নিয়োগ দেওয়ার। যদি সার্ক্যুলার না থাকে তবে কিভাবে একজন হজ্ব অফিসার নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এত বড় অপারাধ করতে পারে। হজ্বকর্মী নিয়োগ দেয়া হয় হাজিদের সেবাদান, রাস্তা ঘাট বা হারিয়ে গেলে তাদের কে নিজ নিজ হোটেলে পৌছিয়ে দেওয়া। অথচ এ সব বার্মাইয়া হজ্বকর্মীরা শুদ্ধ বাংলা বলতে পারে না বা লেখতে জানে না  হাজি সাহেবরা তাদের কথা বোঝে না । তারা কিভাবে হাজিদের সেবা দেবে ? আরো সমস্যা হলো তারা ঠিক মত দায়ীত্ব পালন না করে বিভিন্ন হোটেলে পার্ট টাইম চাকুরী করে। রাত্রে যাদের ডিউটি তারা নিজেদের বাসায় গিয়ে ঘুমিয়ে থাকে। তাদের দেখার কেউ নেই। আরো প্রমাণ আছে বর্তমান হজ্ব অফিসারকে ইন্টারভিউ নেওয়ার সময় যদি জানতে পারে আওয়ামী লীগ করে তা হলে তাদের চাকুরী হবে না। এ রকম অনেকে আমাদের কাছে নালিশ দিয়েছে। তার প্রমাণও দিতে পারবো। হজ্ব মিশন এখন জামাতিদের আড্ডা খানায় ভরে গেছে। কোন আওয়ামী লীগ নেতা সুপারিশ করলে বিভিন্ন আইন কানুন দেখায়। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমরা মক্কা প্রবাসীদের আকুল আবেদন আপনি বাংলাদেশ হজ্ব মিশনে তদন্ত করে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের এ সব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত করে মক্কা হজ্ব মিশনকে দুর্নীতির আঁকড়া থেকে রক্ষা করার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।

ইতিপূর্বে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে এক শ্রেণীর প্রতারক ও অপরাধীচক্র হজ্ব কাফেলার নামে পবিত্র হজ্ব ও ওমরাহ পালনকারী যাত্রীদের সাথে নানা রকম প্রতারণা ও হয়রানী করে যাচ্ছে। পবিত্র মক্কা নগরীতে বাংলাদেশী প্রতারকদের একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে । এরা প্রতিনিয়ত হজ্ব বা ওমরাহ করতে আসা বাংলাদেশী যাত্রীদের ব্যাগ-ব্যাগেজ, পাসপোর্ট ও নগদ ডলার বা সৌদি মুদ্রা চুরি কিংবা গায়েব করে ফেলে । এ নিয়ে হজ্ব যাত্রীদের সাহায্য-সহযোগিতা করার কেউ নেই । ফলে যাত্রীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। এছাড়া রয়েছে নারী ও শিশু পাচারকারী, স্বর্ণচোরা কারবারীসহ নানা ধরনের অপরাধী চক্র।

এদিকে চট্টগ্রামের বহদ্দার হাট ও রেয়াজউদ্দিন বাজার কেন্দ্রিক হুণ্ডি ব্যাবসায়ী,পাসপোর্ট জালিয়ত চক্র, চোরাচালানীদের চক্রটি হজ্ব ও ওমরাহ পালনকারীদের দাবার গুঠির মতো ব্যবহার করছে। অনেকে আবার ওমরাহ হজ্বে পাঠানোর নামে রোহিঙ্গা নারীদের পাচার করছে। বাঁশখালীর রায়ছটা গ্রামের বাবু নামের এক চোরাকারবারী পবিত্র মক্কায় বসে রোহিঙ্গা নারী পাচারের কার্যক্রম মনিটরিং করেন। পবিত্র কাবার পাশে নেদা আল-খলিল নামক হোটেলে আস্তানা গেড়েছে উক্ত বাবু নামের ব্যাক্তিটি।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মোরশেদ বহদ্দার হাট এলাকায় একটি ট্রাভের এজেন্সিতে বসে আর বাবু মক্কার হোটেল লেদা আল-খলিলে বসে চালিয়ে যাচ্ছে মানব পাচারসহ নানা অপকর্ম। বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলায় রয়েছে তাদের নিয়োজিত দালাল আর মক্কা কেন্দ্রিক রয়েছে তাদের বিশাল সিন্ডিকেট। এদের ছবিসহ নানা তথ্য রয়েছে আমাদের হাতে। সম্প্রতি চন্দনাইশ উপজেলার এক ব্রীকফীল্ড ব্যাবসায়ী স্বর্ণ চোরাচালান ব্যবসায় নেমেছে বলে জানা গেছে। হজ্ব কাফেলার নামে নানা কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছে চোরাকারবার। তিনি নিজস্ব দামী গাড়ী নিয়ে ঘুরেন গ্রামে গঞ্জে , গ্রামের সহজ-সরল ধর্মপ্রান বয়স্ক মহিলাদের ওমরাহ হজ্ব পালনের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে। ওমরাহ শেষে দেশে আসার সময় এই মহিলাদের দিয়ে নিরাপদে নিয়ে আসে স্বর্ণ।

পবিত্র মক্কা নগরীতে ওমরাহ্ হজ্ব যাত্রিদের সাথে প্রতারণাকারী সিন্ডিকেট এর এক দুর্ধর্ষ চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাতকানিয়ার এক সন্ত্রাসী ক্যাডার মহিম। হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলার আসামী এ মহিম আরবী ভাষায় কথা বলে নিজেকে আরবীয়ান পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম অব্যাহতভাবে করে যাচ্ছে। এই মহিম নিজেকে সৌদি আরবের (সোরাতা) পুলিশ প্রশাসনের লোক পরিচয় দিয়ে যাত্রীদের মাঝে ভীতির সঞ্চার করে।
চট্টগ্রামের রয়েল টাওয়ারে অবস্থিত আল মোকাম ট্রাভেলস এজেন্সির মোয়াল্লেম পরিচয় দিয়ে ওমরাহ্ হজ্ব যাত্রিদের ব্যাগসহ নানাপ্রকার জিনিসপত্র চুরি করে অনেক ক্ষেত্রে গায়েব করে ফেলে। গায়েব করা ব্যাগ-ব্যাগেজের জন্য আল মোকাম হজ্ব কাফেলার মক্কা অফিসে যোগাযোগ করা হলে পাসপোর্ট সংক্রান্ত ব্যাপারে সহযোগিতা করলেও ব্যাগেজ চুরি ও লুটের সাথে জড়িতদের ব্যাপারে কিংবা ব্যাগেজ উদ্ধারের ব্যাপারে কোন কিছু করার নেই বলে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*