অসংগঠিত শক্তি উদ্বোধন ৭ নভেম্বর রাষ্ট্র ক্ষমতায়

সুমন ভট্টাচার্য্য :: ৪ আগষ্ট দৈনিক প্রথম আলো সংবাদ পত্রে প্রথম পৃষ্টায় জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্যার এর মতামত প্রকাশিত হয়। শক্তির উদ্বোধন, শিরোনামে। উনার মতে, অসংগঠিত শক্তির প্রথম উদাহারন হিসেবে গনজাগরণ মঞ্চ, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলন। অসংগঠিত শক্তির উত্তান। আন্দোলনকারিরা ক্রমে শক্তি সঞ্চয় করেছে। তারা অল্প সংখ্যক থেকে অধিক সংখ্যকে পরিণত হয়েছে। তাদের দাবির ন্যায্য তা প্রধানমন্ত্রী ও স্বীকার করেছেন।

প্রকাশিত লেখায় ১৯৫২ সালে রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান পর্যন্ত যত আন্দোলন ঘটেছে, ক্ষমতাসীনেরা তাকে রাষ্ট্র বিরোধী চিহ্নিত করছে।
উনার অসাধারণ লেখাটি ইতিহাস স্মরণে তাৎপর্য্যপূর্ণ ।এ অর্থে

অসংগঠিত আন্দোলন গনজাগরন মঞ্চের যৌক্তিক বেশ কিছু দাবি সরকার সমর্থন দিয়েছিল। সরকার যখন বুঝতে পারলো গন জাগরন মঞ্চের চলমান আন্দোলন একটি বিচারিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ ধরনের সুযোগ সৃষ্টি থেকে বিরত রাখতে অনেকটা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রনে লাগাম টেনে ধরে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যৌক্তিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী, কোটা সংস্কারে পরিস্কার ঘোষণা দেয়। এ জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেয়। প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনাসহ নির্দেশ প্রদান করেন। সচেতন সব মহল জানে একটি প্রচলিত আইনের প্রয়োজনীয় ধারা, উপধারা সংযোজন, বিয়োজনে বেশ কিছু সময় প্রয়োজন হয়। এ সময়টুকু কোটা সংস্কার আন্দোলন নেতাদের না বোঝার কথা নয়। প্রধানমন্ত্রী সংসদে ও এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। এরপরও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা অসংগঠিত শক্তির বহিঃ প্রকাশ।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র ছাত্রীদের আন্দোলন ন্যায্য। এ কারনে প্রধানমন্ত্রী আশু সমস্যা সমাধানে আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর ও বিভিন্ন অশ্লীল ভাষার প্রদর্শনি আমাদের বিবেক লজ্জায় নত হয়। এ কেমন প্রতিবাদী ভাষা ? এ সকল আন্দোলনের চিত্র নিঃসন্দেহে অসংগঠিত শক্তির প্রকাশ ঘটায়।

এ ধরনের অসংগঠিত শক্তির উত্তান ও আন্দোলনকারীদের  ক্রমে শক্তি সঞ্চয়, অল্প থেকে অধিক হয়। তখন অসংগঠিত শক্তির আড়ালে  শক্তির উৎস খুঁজে বের করা সরকারের দায়িত্ব হয়ে পড়ে।

১৯৫২ সালে রাষ্ট্র ভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম ঐক্য পরিষদ রাজপথে আন্দোলন, সংগ্রামের সকল কর্মসূচি পালন করে। বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন কোন অসংগঠিত আন্দোলন ছিল না। ১৯৫২সাল থেকে শুরু  করে  ১৯৫৪ নির্বাচন, ১৯৫৮,৬০,৬২,৬৬,৬৮,৬৯ পর্যন্ত আন্দোলন। ৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের জয় লাভ। সর্বপরি ৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে। সংগঠিত শক্তির সাংগঠনিক সংগঠন আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে।

১৯৪৮-৭১ পর্যন্ত সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন,বাঙালী জাতীর অবিসংবাদিত নেতা জাতীর পিতা শেখ মুজিবর রহমান।

তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের কাছে প্রতিটি দাবি যৌক্তিক  ছিল সংগঠিত শক্তির সাংগঠনিক ব্যানারে। ফলে সকল নির্যাতন, নিপীড়ন, এমন কি বুলেটের শক্তি দমাতে পারে নি যৌক্তিক দাবিকে। এ জন্য ইতিহাসে সংগঠিত শক্তির আদর্শের সংগঠন আওয়ামীলীগ  চির অক্ষয়, স্বর্ণাক্ষরে লেখা।

স্বাধীনতার মাত্র বছর কয়েক সময়ে,  অসংগঠিত শক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বাঙালী জাতীর পিতাসহ পরিবারের প্রায় সকলকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

জাতীর পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার মধ্যে দিয়ে অসংগঠিত শক্তির উত্তান। হত্যাকারীরা ক্রমে শক্তি সঞ্চয় করেছে, তারা অল্প সংখ্যক থেকে অধিক সংখ্যকে পরিণত হয়েছিল। এতে করে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জেল এর মধ্যেই ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নেয় চার জাতীয় নেতার প্রাণ।

অসংগঠিত শক্তিগুলোর নির্মম বুলেট কেড়ে নেয়, বেশ কিছু বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন। এই জীবন কেড়ে  নেওয়ার মধ্যেই  কি অধিক সংখ্যক শক্তি সঞ্চয় করেছিল। ফলে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লবের সফল অভ্যূত্থান রাষ্ট্র ক্ষমতায়  বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান। যে অভ্যূত্থান ছিল অসংগঠিত শক্তির ফসল।

শক্তির উদ্বোধন শীর্ষক লেখাটির শেষে লিখেছেন, উদ্বোধিত শক্তি নিজের পথ করে গন্তব্য খুঁজে নেয়। তা ইতিহাসে নির্মম সত্যি।
উদ্বোধিত শক্তি নিজের পথ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে খুঁজে নিয়েছিল?

তাই কোটা সংস্কার। নিরাপদ সড়কের ন্যায্য দাবি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর ও রাজপথে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্যে সময় বেঁধে দেওয়াসহ কঠোর কর্মসূচির হুমকি।
খুব স্বাভাবিকভাবেই অসংগঠিত শক্তির  বিষয়ে ব্যাপক অনুসন্ধান জরুরী অত্যাবশ্যকীয়।

লেখক : সুমন ভট্টাচার্য্য
সাংবাদিক, কলামিষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*