চট্টগ্রাম লালদিঘী বৃক্ষমেলায় ১০ দিনে ১ লক্ষ ৭০ হাজার চারা বিক্রি

স্টাফ রিপোর্টার :: চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১৫ দিন ব্যাপী বৃক্ষমেলার ১০ম দিন অতিবাহিত। সবুজ চাদরে ছেয়ে গেছে সবুজে। ক্রেতা দর্শকের উপচে পড়া ভিড়। শিশুরাও আস্্ছে বৃক্ষমেলায়, কিনছে পছন্দের গাছের চারা। দিন দিন ক্রেতা দর্শক বাড়ছে। বন বিভাগের তথ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, মেলায় বিভিন্ন নার্সারীতে ১০ দিনে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিক্রয় করা হয়েছে।

শহর রেঞ্জ কর্মকর্তা রেজাউল আলম ফরেস্ট রেঞ্জার জানান, শহরের প্রাণকেন্দ্রে এ মেলার সুবাদে মানুষ ছাদের বাগানের জন্য শোভা বর্ধক চারা, টবের চারা আনুপাতিক হারে বেশী কিন্্তে দেখা যাচ্ছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মেলায় বেশী চারা বিক্রয় হচ্ছে। মেলায় বিভিন্ন নার্সারী স্টলে ১০ দিনে ৫৫ হাজার ২ শত ৪১ টি বনজ, ৫০ হাজার ৬ শত ১৫ টি ফলদ, ১৫ হাজার ৬ শত ৪৩ টি ঔষধি বা ভেষজ, ২১ হাজার ২ শত ১২ টি শোভা বর্ধক ও ২৭ হাজার ২ শত ৫০ টি লতা, গুল্ম, অর্কিড, ক্যাকটাস, বনসাঁই, কলমচারা, দেশী-বিদেশী প্রজাতির চারা ও অন্যান্য শ্রেনীর চারা বিক্রয় হয়েছে।

জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বনসাই বাড়ী নার্সারীর স্বত্ত্বাধীকারী বনসাই সমিতির সভাপতি এম. জি জাকারিয়া জানান, তিনি ১ টি থাই ভেলভ্যাট বনসাই ৬ হাজার টাকায় বিক্রয় করেছেন। সর্বনিম্ম ৭ শত এবং সর্বোচ্চ ৬ হাজার টাকায় বনসাই চারা বিক্রয় হয়েছে। অন্যান্য বারের তুলনায় বিক্রি ভালো।

চট্টগ্রাম মহানগর নাসারী মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধ স্বপন কান্তি শীল জানান চারার সাথে সাথে ক্রেতাসাধারণ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশণের জৈব সারও কিনছেন। দৈনিক গড়ে ১৫০/২০০ শত কে.জি সার বিক্রয় হচ্ছে। চট্টগ্রাম মহানগর নাসারী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর নার্সারীর স্বত্ত্বাধিকারী আবুল হোসেন জানান, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার বেশী চারা বিক্রয় হচ্ছে। । দিন দিন চারা বিক্রি বাড়ছে। বাহাদুর নার্সারীতে বিরল ১ টি শ্বেত চন্দন চারার দাম দেয়া হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। বনরূপা নার্সারীতে ১ টি লাল জামরুলের চারার দাম দেয়া হয়েছে ২ শত টাকা। মেলায় ৫ টাকায়ও চারা পাওয়া যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য কেন্দ্রে বনা লের মডেল স্থাপন করা হয়েছে। সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা রাফি উদ দৌলা ফরেস্টার জানান, বিকেলে মেলায় চারা রোপণ কৌশল, সংরক্ষণ, পরিচর্যা, বনা লে বন্যপ্রাণীর বিচরণ, বিভিন্ন ইকোপার্ক, লেক, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এর বিভিন্ন কর্মকান্ড, সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বন্য হাঁতীসহ বন বাগান ও বনা লের বড় পর্দায় ভিডিও প্রদর্শণ করা হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন মেলায় আসছে। তারা বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা, বৃক্ষের নাম, প্রজাতি সনাক্তকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করছে।

মেলায় চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য কেন্দ্র, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিএমপি পুলিশ কন্ট্রোলরুম, চট্টগ্রাম বাগান পরিবার ছাড়াও ব্র্যাক নার্সারী, কসমো নার্সারী, আর.এন.জে নার্সারী, নিউ কসমো নার্সারী, ফতেয়াবাদ নার্সারী, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বনরূপা নার্সারী, ন্যাশনাল নার্সারী, বাহাদুর নার্সারী, পুষ্পকলি নার্সারী, জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বনসাই বাড়ী, সবুজ বিপ্লব নার্সারী, চিটাগাং নার্সারী, পুষ্প নার্সারী, চন্দন নগর বনফুল নার্সারী, এইচ বি আর নার্সারী, সবুজ চট্টগ্রামসহ সরকারী, বেসরকারী ৫০ টি স্টল স্থাপন করা হয়েছে। এ মেলা ১২ আগস্ট পর্যন্ত এ মেলা প্রতিদিন সকাল হতে রাত ৯ টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।
——————————-

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*