লোহাগাড়ায় গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যুঃ স্বামী আটক

রায়হান সিকদার,লোহাগাড়া :: চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর রশিদার ঘোনা এলাকায় ৭ আগষ্ট মঙ্গলবার হাসনাহানা বিউটি (২০) নামের এক গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। সে ওই এলাকার মৃত দেরাছ মিয়ার পুত্র সাকিবের স্ত্রী।স্হানীয় সুত্রে জানা যায়, নিহত গৃহবধু হাসনাহেনা উপজেলা সদর ফোরকান টাওয়ারে ভাড়া বাসায় স্বামী, শ্বাশুড়ী, দেবর, ননদের সাথে থাকতো। প্রেমের সম্পর্কে দেড় বছর পুর্বে তাদের বিয়ে হয়। সংসারে ২১ দিনের এক পুত্র সন্তান রয়েছে বলেও জানা যায়।
স্থানীয়রা বলেন, নিহত গৃহবধু বিউটি মারা যাওয়ার পর মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় গোপনে দাফন করার জন্য রশিদার ঘোনা এলাকায় নিয়ে গেলে নিহতের পিতা দরবেশহাট এলাকার বাসিন্দা যুবলীগ নেতা জাফর আলম জানতে পারলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌছে লোকজন সাথে নিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। লাশ থানায় নিয়ে আসার পর পরই নিহতের স্বামী সাকিবকে লোহাগাড়া থানা পুলিশ আটক করে।
এ ঘটনায় নিহত গৃহবধু বিউটির শ্বাশুড়ি ফাতেমা বেগম পালিয়ে যায়।
নিহত বিউটির স্বামী সাকিব বলেন, প্রায় সময় তাদের ঝগড়া লেগে থাকত। ঘটনার দিন আগেও তাদের ঝগড়া হয়। ঘটনারদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে পড়েন। এর কিছুক্ষণ পর তার স্ত্রী বিউটি তাকে ফোন করে বলেন, সে হারপিক খেয়েছেন। তাৎক্ষনিক সে বাসায় এসে বিউটিকে গাড়িতে করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখাইনেই মৃত্যু বরণ করেন গৃহবধু বিউটি।
নিহত গৃহবধু বিউটি উপজেলার দয়ার পাড়া যুবলীগ নেতা জাফর আহমদের কন্যা। জাফর আহমদ বলেন, তার মেয়ে উপজেলার ফোরকান টাওয়ার ভাড়া বাসায় থাকতেন। ভাড়াটিয়াদের মাধ্যমে জানেন তার মেয়ে বিউটি ও মেয়ে জামাই সাকিবের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে বাসার লোকজন হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে মৃত্যু হলে তাদেরকে না জানিয়ে দাফন করার পরিকল্পনা নেন। তিনি দাফনের বিষয় জানতে পেরে এলাকার লোকজন নিয়ে উপজেলার রশিদার ঘোনা এলাকায় গেলে বিউটির লাশ নিয়ে থানায় নিয়ে আসে।
তিনি আরো বলেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা না করলে, গোপনে দাপন করা ব্যবস্থা করছে কেন এমটা মন্তব্য করছেন তিনি। তিনি এ ঘটনার সাথে জড়িত দোষীদের শাস্তি দাবী করছেন প্রশাসনের প্রতি।
লোহাগাড়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই হাসেম বলেন, এ ঘটনায় নিহত গৃহবধুর স্বামী সাকিবকে আটক করা হয়। মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করার জন্য নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*