রাঙামাটি থেকে চুরি যাওয়া মোটর সাইকেল সন্দীপে উদ্ধার, আটক-১

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি::
পার্বত্য শহর রাঙামাটি থেকে চুরি যাওয়া মোটর সাইকেল দীর্ঘ প্রচেষ্টা চালিয়ে চট্টগ্রামের সন্দীপ থেকে উদ্ধার করার পাশাপাশি মামুন নামে এক চোরকে আটক করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ সত্যজিৎ বড়–য়া জানান, থানার এসআই মোবারক হোসেন বুধবার সন্ধ্যায় আটককৃত চোর ও উদ্ধারকৃত মোটর সাইকেলটি নিয়ে আসেন কোতয়ালী থানায়। শহরের ফরেষ্ট কলোনী থেকে আগষ্ট মাসের ১০ তারিখে চুরি যাওয়া টিভিএস কোম্পানীর আরটিআর মোটর সাইকেলটি অবশেষে ৩২ দিনের মাথায় উদ্ধার করতে সক্ষম হলো কোতয়ালী থানা পুলিশ। থানা সূত্র জানায় শহরের বনরূপাস্থ ফরেষ্ট কলোনী এলাকার বাসিন্দা শাকিলের দোকানের সামনে থেকে ১০/০৮/২০১৮ শুক্রবার সকালে তার টিভিএস আরটিআর মোটর সাইকেলটি চুরি হয়। পরে দোকানে থাকা সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা যায়, পার্শ্ববতী দোকানদান আল-মামুন মোটর সাইকেলটি নিয়ে গেছে। ঘটনার পর হতেই মামুন পলাতক ছিলো। এই ঘটনা জানিয়ে সেদিনই রাঙামাটি কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন শাকিল। দন্ড বিধি ৪৫৭/৩৮০ ধারায় দায়েরকৃত মামলা নাম্বার-৫,তারিখ-১০/০৮/২০১৮ইং। কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ সত্যজিৎ বড়–য়া ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে এই অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দেন এসআই মোঃ মোবারক হোসেনকে। এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে পুলিশ চোর মামুনের সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। পরে প্রযুক্তির ব্যবহারে তার অবস্থান নিশ্চিত হয় পুলিশ। এসআই মোবারক জানান, আমি আসামী অবস্থান নিশ্চিত হয়ে চট্টগ্রামের সিএমপি’র ডিবি পুলিশের সহায়তা নিয়ে পাঁচলাইশ থানাধীন হামজারবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এরপর আটককৃত মামুন মোটর সাইকেলটি চুরির কথা স্বীকার করে সেটি চট্টগ্রামের সন্দীপে বিক্রি করে দেওয়ার তথ্য দেয় পুলিশকে। এসআই মোবারক জানান, আমি খোঁজ নিয়ে মোটর সাইকেলটি সন্দীপে রয়েছে মর্মে নিশ্চিত হয়ে আসামীকে সাথে নিয়ে সন্দীপ থানা পুলিশের সহায়তায় উক্ত মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করি। আটককৃত আসামীকে বুধবার রাতে কোতয়ালী থানায় নিয়ে আসা হয়েছে জানিয়ে এসআই মোবারক জানান, বৃহস্পতিবার আসামীকে আদালতে উপস্থাপন করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।
এদিকে দীর্ঘ প্রচেষ্টা চালিয়ে অবশেষে প্রিয় মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে দেওয়ায় কোতয়ালী থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন উদ্ধার হওয়ার গাড়ির মালিক শাকিল ও তার পরিবার। শাকিল জানান, আমি আসামীর সার্বিক তথ্য পুলিশকে দিয়ে অপেক্ষায় ছিলাম। পুলিশের পক্ষ থেকে আমাকে আশ্বস্থ করা হয়েছিলো তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবে বলে। আমি কোতয়ালী থানা পুলিশের উপর আস্থা রেখে অপেক্ষার পাশাপাশি মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তার সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখছিলাম। অবশেষে দীর্ঘ ৩২দিন প্রচেষ্টার পর আমার প্রিয় মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করে দেওয়ায় পুলিশের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*