কেউ বলতে পারবে না কারো গলা টিপে ধরেছি : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা অফিস::
কথা বলার স্বাধীনতা সবারই আছে। সংবাদপত্র, সাংবাদিকদের স্বাধীনতার কথা আমরা সব সময় বিশ্বাস করি। এটা কেউ বলতে পারবে না যে কারো গলা টিপে ধরেছি, কারো মুখ টিপে ধরেছি অথবা কাউকে বাধা দিয়েছি- দেইনি, দেই না। বরং সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা দরকার আমরা করেছি।
বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনাজনিত আহত সাংবাদিক ও নিহত সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের অনুকূলে আর্থিক সহায়তা ভাতা/অনুদানের চেক প্রদান অনুষ্ঠানে এ একথা বলেন প্রধনামন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এসময় গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের দেশের কল্যাণে গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতা ভালো, আবার একটা কথা আছে- যে স্বাধীনতা ভালো তবে তা বালকের জন্য নয়। কাজেই এ ধরনের বালখিল্য ব্যবহার যেনো কেউ না করে সেটার দিকেও দৃষ্টি দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, গঠনমূলক, দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যেটা দেশের কল্যাণে কাজে লাগবে। এটা হলো বাস্তবতা। আমি আশা করি আপনারা সেটা করবেন।
পক্ষে-বিপক্ষে কে কি লিখলো চিন্তা করি না:
সততা, দেশপ্রেম, আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমার পক্ষে বিপক্ষে কে কি লিখলো না লিখলো সেটা নিয়ে আমি চিন্তা করি না।
‘আমি চিন্তা করি- আমি যেটা করছি আমার আত্মবিশ্বাসটা আছে কিনা। আমি সঠিকটা করছি কিনা। আমি আমার আত্মবিশ্বাসের ওপর নির্ভর করেই চলি।
সংবাদপত্র-টেলিভিশনে কখনো ভালো প্রচার পাননি মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কাজ করে যাচ্ছি দেশের জন্য। তবে আমি এটা ব্যক্তিগতভাবে বলবো আমি তো কখনো সংবাদপত্রে বা টেলিভিশনে খুব ভালো প্রচার ওভাবে পাইনি, সহযোগিতা ওভাবে পাইনি।
‘হতে পারে সেখানে যারা মালিক হয়তো তাদের কারণে। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে একটা সম্পর্ক সব সময় রয়েছে।’
সংবাদপত্রের সঙ্গে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। প্রেসক্লাবে যাওয়া, ডালপুরি খাওয়া- সেটাও একটা সম্পর্ক ছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সংবাদপত্রের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা জানেন যে ছাত্রজীবন থেকে জাতির পিতার সংবাদপত্রের সঙ্গে একটা সম্পর্ক ছিল। প্রথমে ইত্তেহাদ নামে একটি পত্রিকা, তার আগে ছিল মিল্লাত নামে একটি পত্রিকা। এরপর ইত্তেফাক বের হলো। তিনি কিন্তু সব সময় এসব পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। নিজের হাতে ইত্তেফাক বিক্রি করার কাজও করেছেন। এবং পূর্ববঙ্গের পক্ষ থেকে তিনি এসব পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশন করতেন।
‘সেভাবে সাংবাদিকতায় তার কাজ ছিল তিনি করতেন। আত্মজীবনীতেও এ কথা লেখা রয়েছে। তিনি যে সংবাদপত্রের লোক ছিলেন সেটা কিন্তু তার আত্মজীবনীতে স্পষ্ট লেখা আছে। সেদিক থেকে আপনারা আমাকে যদি আপনাদের পরিবারের একজন মনে করেন আমি খুশি হবো। আত্মজীবনীতে পৃষ্ঠা ৮৮ তে স্পষ্ট লেখা আছে।
সরকারি চাকরি-ভাতা প্রদানসহ সাংবাদিকদের কল্যাণে বঙ্গবন্ধুর নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতির পিতা সাংবাদিকদের জন্য পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। ছোটবেলা থেকে সংবাদপত্র পাঠের অভ্যাসের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পত্রিকা যে সব সময় আমার জন্য সব ভালো কথা লেখে তা নয়। তারপরও পড়ি। কোথাও কোনো ঘটনা আছে কিনা, কেউ কোনো কষ্টে আছে কিনা, পাশে একটি দাগ দেই। সরকারে থাকায় সুবিধা আছে। এটা মার্ক করে রেখে দেই বা আমার পিএস বা এপিএস তাদের একটা এসএমএস পাঠাই ওমুক জায়গায় এই অসুবিধা আছে তোমরা দেখো।
সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে প্লট-ফ্ল্যাট:
সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানের সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
আবাসন সমস্যা নিয়ে সাংবাদিক নেতারা সহযোগিতা চাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে আবাসনের সমস্যার কথা উঠেছে। বিষয়টি আমি জানি। আমি যখন ন্যাম ফ্ল্যাট করেছি তখন বলেছিলাম কিছু ফ্ল্যাট থাকবে যেটা হায়ার পারসেজে সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিক তারা নিতে পারবেন। যে কোনো কারণেই সেটা আর হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা এখন কিছু ফ্ল্যাট করছি যেটা সামান্য টাকা দিয়ে, কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করে এই ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারবেন। যারা চান তারা হতে পারবেন। ভাড়া থেকেই মূল্যটা পরিশোধ হবে। প্রতিমাসে ভাড়া হিসেবে যেটা সেটা মূল্য হিসেবে ধরা হবে। সেভাবে আমরা ফ্ল্যাট দিতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন প্লট দেওয়া হয়েছে তখন সাংবাদিকদের অনেকে পেয়েছেন। এখন মনে হচ্ছে ওভাবে প্লট না দিয়ে আমরা যদি ক্লাস্টার করে দিয়ে দিতাম অনেকে মিলে হয়তো বাড়ি করতে পারতো।
সাংবাদিক কল্যাণ ফান্ডে ২০ কোটি টাকা অনুদান ঘোষণা:
সাংবাদিক কল্যাণ ফান্ডে ২০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই ফান্ডে সংবাদপত্র ও টেলিভিশন মালিকদের অনুদান দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০ লাখ টাকার একটা ফান্ড করে দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে কল্যাণ ফান্ড করে দিলাম। এখন ফান্ডে ১৪ কোটি টাকা আছে। এই ফান্ডে আরো ২০ কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
মালিকদের ফান্ডে টাকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মাত্র দু’জন মালিক দিয়েছেন। বাকিদের দেওয়ার অনুরোধ করবো। মালিকরা অনুদান দিলে ফান্ডটা আরো বাড়বে।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমে কল্যাণে কাজ করতে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কতটুকু সফল হলাম বা হলাম না, এর সুফল মানুষ কতটুকু পেলো না পেলো সেটা মানুষই বিচার করবে। তিনি বলেন, যখনই সুযোগ পাচ্ছি জনগণের সেবা করে যাচ্ছি- সেবক হিসেবে এবং সেটা আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেই কাজ করি।
‘প্রধানমন্ত্রীকে হওয়াকে আমি দায়িত্ব মনে করি- দেশের প্রতি, জনগণের প্রতি।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, তথ্য সচিব আবদুল মালেক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*