লোভ-লালসা একটি মারাত্মক ব্যাধি

বায়েজীদ মাহমুদ ফয়সল :: লোভ-লালসা মানুষের অন্তরের মারাত্মক ব্যাধি। সীমাহীন লোভ-লালসা মানুষকে তার সামর্থ্যরে বাইরে ঠেলে দেয়। তার বিবেক-বুদ্ধি লোপ করে তাকে দুর্নীতি ও পাপের পথে পরিচালিত করে।লোভ-লালসার কবলে পড়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে ইতিহাসে এমন মানুষের সংখ্যা অগণিত।লোভ-লালসা হচ্ছে মানুষের চরিত্রের দুর্বলতম ও হীনতম বৈশিষ্ট্যের একটি। যার সাহায্যে সৃষ্টি হয় অন্যায় ও অবৈধ কাজের বিভিন্ন রাস্তা। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সব মানুষই প্রবৃত্তির এই অদৃশ্য শক্তিশালী চাহিদার শিকার হয়।লোভ মানুষের পারিবারিক জীবনে, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সৃষ্টি করে নানা সমস্যা এবং নিরাপত্তাহীন অশান্তির অস্বস্তিকর পরিবেশ। এমনকি আপন সহোদরের মাঝে ধন-সম্পদ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ, ভাই-বোনের সম্পর্ক নষ্ট, আত্মীয়-স্বজনের সম্পর্কে বিচ্ছেদ এবং পাড়া-প্রতিবেশীর সঙ্গে মামলা-মোকাদ্দমা এবং দুর্নীতিতে জড়িত হওয়ায় ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা পালন করে- সর্বনাশী লোভ।
লোভ-লালসার প্রকৃতিতে আত্মসমর্পণ করে অন্যায়ভাবে অপরের ধন-সম্পত্তি আত্মসাৎ করায় এবং মানুষের মান-সম্মান ধূলিসাৎ, এমনকি অন্যদেরকে হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করে না। পার্থিব জীবনে স্বাবলম্বীর প্রত্যাশায় ও প্রচেষ্টায় অবৈধভাবে ধন-সম্পত্তি উপার্জনের আসক্তিতে মানুষ পারলৌকিক জীবন ভুলে যায়। প্রচুর পরিমাণে ধন-সম্পত্তি থাকলেও তার কোনো তৃপ্তি নেই সে আরও বেশি চায়।লোভ সম্পর্কে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি কোনো মানুষের এক উপত্যকা ভরা স্বর্ণ থাকে, তবে সে তার জন্য দু’টি উপত্যকা (ভর্তি স্বর্ণ) হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করে। তার মুখ মাটি ছাড়া (মৃত্যু হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত) আর কিছুতেই ভরে না। আর যে ব্যক্তি তওবা করে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।’ -(সহিহ বোখারি)
লোভ মানুষের অধঃপতনের অন্যতম কারণ। লোভ একটি নৈতিক ত্রুটি। লোভ মানুষের জীবন থেকে সুখ কেড়ে নেয়। লোভী মানুষ আল্লাহতায়ালার কোনো নিয়ামতের শোকরিয়া আদায় করে না, বরং আল্লাহ তাকে যা দান করেছেন তার চেয়ে সে আরও অনেক বেশি কিছু চায়।লোভের উৎপত্তি হিসেবে বলা হয়েছে- ভয়, কৃপণতা ও লোভ একই প্রকারের। আর তাদের মূলে হলো- খারাপ ধারণা পোষণ করা। ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, কৃপণ ব্যক্তিরা সর্বদা বঞ্চিত হয় এবং তারা কোনো কাজেই সফল হয় না। কেননা তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করে না বরং নিজের লালসা মেটানোর জন্য কাজ করে।লোভী মানুষ দু’টি উৎকৃষ্ট গুণ হতে বঞ্চিত। ফলশ্রুতিতে সে দু’টি দোষের অধিকারী।
এক. সে জীবনে পরিতৃপ্ত হওয়া থেকে বঞ্চিত, ফলে সে জীবন থেকে প্রশান্তিকে হাতছাড়া করেছে। ‍
দুই. লোভী যেহেতু সন্তুষ্টি হতে বঞ্চিত, ফলে সে অপরের বিশ্বাসকে খুইয়েছে।
মুমিন বান্দারা যেসব নেয়ামত আল্লাহ তাদেরকে দান করেছেন সেগুলোর জন্য সর্বদা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে ও তাতেই সন্তুষ্ট থাকে। আর যদি পরবর্তীতে কিছু তার সম্পদ বৃদ্ধি পায় তার জন্যও সে আল্লাহর দরবারে পূর্বাপেক্ষা অধিক কৃতজ্ঞতা আদায় করে। সে ভুলেও অন্যের সম্পদের প্রতি দৃষ্টি দেয় না। মুমিনদের এ দলটি সর্বদাই সুখে ও শান্তিতে বসবাস করে। কেননা তারা আল্লাহতায়ালার নৈকট্য বৈ অন্য কিছু চায় না।
লোভ, হিংসা, অহংকার বহু পাপের জন্ম দেয়। লোভ পরিত্যাগ করে একজন আদর্শ মানুষ হওয়ার জন্য ইসলাম তথা পবিত্র কোরআন-হাদিসে বিভিন্ন ভঙ্গিতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ইসলামের মৌলিক শিক্ষাই হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার ভয়, আদর্শের অনুশীলন, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জ্ঞানার্জন, আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি ও বিবেকের শিক্ষাকে রপ্ত করার অভ্যাস সৃষ্টি করতে হবে। নাহলে ধ্বংস অনিবার্য।
কারণ, প্রকৃত মোমিন কখনও লোভের জালে বন্দি হতে পারে না। কেননা লোভ-লালসা মানুষের দ্বীন ও ঈমানের জন্য মারাত্মক হুকমি। বিষয়টি নবী করিম (সা.) একটি উপমা দ্বারা স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনম ‘দুইটি ক্ষুধার্ত বাঘ মেষপালে ছেড়ে দিলে যে পরিমাণ ক্ষতি সাধন করতে পারে, সম্পদ কিংবা পদমর্যাদার মোহ মানুষের দ্বীনের জন্য এর চেয়ে ক্ষতিসাধন করে।’ –(সুনানে তিরমিজি)
বেশিরভাগ সামাজিক অনাচারের পেছনে লোভ-লালসার বিরাট প্রভাব রয়েছে। তাই হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) লোভ-লালসাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বলেছেন, ‘তোমরা লোভ-লালসা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা এ জিনিসই তোমাদের পূর্ববর্তীদের ধ্বংস করেছে এবং পরস্পরকে রক্তপাত ঘটানোর ব্যাপারে উসকে দিয়েছে। লোভ-লালসার কারণেই তারা হারামকে হালাল সাব্যস্ত করেছে।’ –(সহিহ মুসলিম)
যদি বৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের পরও মানুষের মনে তৃপ্তি না আসে, তাহলে বুঝতে হবে তার মনে লোভ বাসা বেঁধেছে। লোভী ব্যক্তি নিজের অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে চায় না। হাতে যা আছে তাতে সুখী না থেকে অন্যায়ভাবে আরো বেশি কিছু পাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। অতিরিক্ত কিছু পাওয়ার আকাঙ্খা ও অন্যের বস্তু আত্মসাৎ করার প্রবণতা ইসলামসম্মত নয়। লোভাতুর দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তির জীবনে কখনো শান্তি আসতে পারে না।
লোভের বশবর্তী হয়ে কিছু মানুষ ধর্ম-কর্ম ভুলে নিজের জীবনের সর্বনাশ ডেকে আনে। লোভ-লালসা মানুষকে অন্ধ করে তার বিবেকবুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে তাকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং ভালো-মন্দ, পাপ-পুণ্য বিচারের ক্ষমতা নির্মূল করে ফেলে। তাই লোভ মানুষের চরম শত্রু, জীবনের বিনাশ সাধনই এর কাজ। লোভ-লালসা নিয়ন্ত্রণ ও দমন করতেই হবে, নইলে মানুষের নৈতিকতার বিকাশ, সৎ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন যাপন করা সম্ভব হবে না।
দুর্নীতিবাজ লোভাতুর ব্যক্তি কখনো পরোপকার ও জনকল্যাণকর কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয় না। লোভ-লালসা বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন অর্থসম্পদ, মানসম্মান, প্রভাব-প্রতিপত্তি, ক্ষমতা, পদমর্যাদা, প্রসিদ্ধি ও সুখ্যাতি লাভের প্রবল লোভ মানব চরিত্র গঠন ও সংশোধনের পথে বিরাট অন্তরায়।এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যা দিয়ে আল্লাহ তোমাদের কাউকে অপর কারো ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তোমরা তার লালসা করো না।’ -(সূরা আন নিসা: ৩২)
ধর্মপ্রাণ মুমিন বান্দা কখনো অন্যের সম্পদের দিকে লোভাতুর দৃষ্টিতে তাকায় না। ধনসম্পদ আহরণ দোষের হয় তখন, যখন অন্যের সম্পদের ওপর লোভাতুর দৃষ্টি নিক্ষেপ করা হয় এবং অবৈধ উপায়ে তা অর্জনের চেষ্টা চালানো হয়।খ্যাতি-ক্ষমতা-প্রতিপত্তি ও ধনসম্পদের মোহ সমাজজীবনে সব অনিষ্টের মূল। প্রকৃতপক্ষে ধন-সম্পদের লিপ্সা ও খ্যাতির প্রতি অতিশয় মোহ নিতান্তই ক্ষতিকারক।
নবী করিম (সা.) উপমাসহকারে বলেছেন, দু’টি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘ ছাগলের পালে ছেড়ে দিলে যে ক্ষতির আশঙ্কা থাকে, সম্মান লিপ্সা ও সম্পদের লোভ মানুষের দ্বীনের জন্য তার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর।’ –(তিরমিজি)
এ জন্য মানুষের মধ্যে ঘুষ-দুর্নীতি, হিংসাবিদ্বেষসহ নানা মারাত্মক ব্যাধির সৃষ্টি হয়। পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, কলহ-বিবাদ, হানাহানি এমনকি পর্যায়ক্রমে তা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণ, গুম ও খুনখারাবির কারণ হয়ে যায়।ধনসম্পদের লোভ-লালসা ও আত্মসাৎপ্রবণতা মানুষের মন্দ স্বভাবের মধ্যে অত্যন্ত ঘৃণ্য ব্যাপার। লোভী অন্যের ধনসম্পদের প্রতি লোভাতুর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে এবং অবৈধ উপায়ে তা হস্তগত করার হীন অপপ্রয়াস চালায়। পবিত্র কোরআনে এমন জঘন্য লোভ-লালসাকে চিরতরে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) লোভ-লালসাকে দুশ্চিন্তা ও যন্ত্রণার উপকরণ বলে উল্লেখ করে বলেছেন, ‘ইমান ও লোভ এক অন্তরে একত্র হতে পারে না। এর কারণ অত্যন্ত সুস্পষ্ট। কেননা, ইমানের পরিণাম হচ্ছে ধৈর্য, সহনশীলতা ও অল্পে তুষ্ট থাকা। লোভ-লালসার পরিণাম অশান্তি, ধৈর্যহীনতা ও অস্বস্তিবোধ।’ -(নাসাঈ ও তিরমিজি)
বলা হয়ে থাকে, ‘লোভী বঞ্চিত।’ যেহেতু লোভ মানুষের সব দুর্নীতি ও অপকর্মের মূল উৎস, তাই ইহলৌকিক ও পরকালীন জীবনে সাফল্যের জন্য লোভ-লালসার কবল থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে হবে। মানুষকে সৎ চরিত্রবান হতে হলে, মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হলে ও আদর্শ সুশীলসমাজ গড়তে হলে প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুমিন মুসলমানের উচিত জীবনের সর্বক্ষেত্রে লোভ-লালসা ও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকা।
মানব জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো আখেরাত বা পরকাল। দুনিয়া হচ্ছে পরকালের সঞ্চয় জমানোর স্থান। এ স্থানে মানুষ সুনির্দিষ্ট সময় অবস্থান করে উত্তম আমল ও আখলাকের মাধ্যমে চিরস্থায়ী জীবনের পাথেয় সংগ্রহ করে।দুনিয়া মহব্বত ততটুকু করতে হবে; যতটুকু করলে পরকালের পাথেয় সংগ্রহে যথেষ্ট হবে। কারণ দুনিয়া হলো মানুষের প্রয়োজন পূরণের স্থান। আর রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণায় তা হলো পরকালে আবাদ ভূমি। তিনি বলেছেন- ‘দুনিয়া আখেরাতের শস্যক্ষেত্র।’ আখেরাতের সম্বল সংগ্রহে মানুষকে আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে একটা সময় ফ্রেম দিয়ে দিয়েছেন। কর্মের স্বাধীনতা দিয়েছেন। ভাল-মন্দ সংমিশ্রণ করে বিবেক বা জ্ঞানের পরীক্ষায় ফেলেছেন। দুনিয়ার কাজ-কারবার, স্ত্রী-পুত্র, বন্ধু-বান্ধব, ধন-সম্পদ, রং-তামাশা ও সংসার দিয়েছেন।আবার এ জীবন-সংসারকে সুন্দর ও সুচারুরূপে পরিচালনা করার জন্য বিধান দিয়েছেন। অন্তরে দুনিয়ার প্রেম-মহব্বত খুব বেশি দিয়েছেন। এর সবই মানুষের জন্য পরীক্ষাগার।
দুনিয়ার এ পরীক্ষাগারে মানুষের জীবনাচারই প্রকৃত উদ্দেশ্য নয়; বরং মানব জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হল আখেরাত বা পরকাল। যেখানে জীবনের শুরু আছে শেষ নেই। তাই দুনিয়ার এ নির্ধারিত ক্ষণস্থায়ী জীবনের মোহে পড়ে পরকালের পাথেয় সংগ্রহ থেকে উদাসীন হওয়া যাবে না।দুনিয়ার জীবনের প্রেম-মোহ যেন মানুষকে গাফেল করে না ফেলে এ জন্য আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে সুস্পষ্ট ভাষায় সতর্কবার্তা তুলে ধরেছেন-
‘তোমরা জেনে রেখ, পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক, জাঁকজমক, পারস্পরিক গর্বপ্রকাশ, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ব্যতীত আর কিছু নয়। এর উপমা হলো ‘বৃষ্টি’, যার দ্বারা উৎপন্ন শস্য ভাণ্ডার কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে, তারপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তুমি তা পীতবর্ণ দেখতে পাও। অবশেষে তা খড়-কুটায় পরিণত হয়। পরকালে রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। দুনিয়ার জীবন ছলনাময় ভোগ ব্যতীত কিছুই নয়। (সুরা হাদিদ : আয়াত ২০)
আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রকৃত বন্ধু ও অভিভাবক। তিনিই মানুষকে অতি ভালবেসে সৃষ্টি করেছেন। যে কারণে আল্লাহ দুনিয়ার এ পরীক্ষাগারে কোনো মানুষকেই রিজিক, আলো-বাসাতসহ তাঁর প্রদত্ত কোনো নেয়ামত থেকেই বঞ্চিত করেননি। ভাল-মন্দের চূড়ান্ত ফয়সাল যা হওয়ার; তা হবে পরকালে।
সুতরাং কুরআনের সতর্কবার্তার পর প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সতর্কবার্তাও মানুষের সঠিক পথে চলার পাথেয়। তিনি বলেছেন-
‘সাবধান! দুনিয়া অভিশপ্ত তবে আল্লাহর স্মরণ (বিধি-বিধান পালন) তাঁর প্রিয় আমল। আর আলেম ও মুতাআল্লিম (জ্ঞানী ও জ্ঞান অন্বেষণকারী) ব্যতিত পৃথিবীতে যতকিছু আছে সবই অভিশপ্ত।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, মিশকাত)
স্মরণযোগ্য কথা হলো দুনিয়া ও পরকাল পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থানের জায়গা। যার একটিকে প্রাধান্য দিতে গেলে অন্যটি মারাত্মকভাবে ক্ষতি গ্রস্ত হবে। তাই দুনিয়াকে পরকালের পাথেয় সংগ্রহের স্থান মনে করে সঠিক পথে চলতে হবে।দুনিয়াকে আমলের স্থান হিসেবে মর্যাদা দিয়ে আল্লাহর বিধানের হক আদায় করতে হবে। আর পরকালকে চূড়ান্ত জীবনকাল মনে করে দুনিয়ার নেয়ামতগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। তবেই আসবে সফলতা। তবেই সার্থক হবে প্রিয়নবির ঘোষণা, ‘দুনিয়ার পরকালের শস্যক্ষেত্র।’
তাই সঠিক পথে চলার জন্য প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ অমীয় বাণীকে অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেছেন-
‘যে ব্যক্তি দুনিয়াকে মহব্বত করল সে তার পরকালকে ক্ষতিগ্রস্ত করল। আর যে ব্যক্তি পরকালকে মহব্বত করল সে তার দুনিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করল। সুতরাং তোমরা অস্থায়ী বস্তুর ওপর চিরস্থায়ী বস্তুকে প্রাধান্য দাও।’ (মুসনাদে আহমাদ, বায়হাকি, মিশকাত)
মানুষকে পরকালের পাথেয় সংগ্রহের নসিহত প্রদান করে অন্য হাদিসে তিনি বলেছেন-
‘দুনিয়া পেছনের দিকে চলে যাচ্ছে। আর পরকাল সামনে চলে আসছে। (মানুষের অন্তরে) এ দু’টির প্রতিটিরই রয়েছে (প্রবল) আসক্তি। সুতরাং তোমরা পরকালের প্রতি আসক্ত হও। দুনিয়ায় আসক্ত হইও না। কারণ এখন (দুনিয়া) আমলের সময়; কিন্তু (কোনো) হিসাব নেই। আর আগামীকাল (পরকাল) হবে হিসাবের; সেখানে আমল করার (কোনো) সুযোগ নেই।’ (বুখারি)
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে চিরস্থায়ী পরকালের জন্য ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াকে আমলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করে তাঁর বিধি-বিধান পালনের মাধ্যমে অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*