চন্দনাইশে নিষিদ্ধ গাইড বইয়ে সয়লাব

মোঃ কমরুদ্দীন, চন্দনাইশ :: চন্দনাইশের বিভিন্ন লাইব্রেরিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত গাইড বইয়ে সয়লাব হয়ে পড়েছে। প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত গাইড বই নিষিদ্ধ হলেও উপজেলার বিভিন্ন বইয়ের দোকানে এ সকল বই প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বইয়ের দোকানগুলোতে দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত নোট-গাইড প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। এ সকল দোকানগুলোতে লেকচার, পাঞ্জেরি, জুপিটার, মাতৃছায়া, গ্যালাক্সি, অনুপম, নবদূত, কাজল, ক্লাসফ্রেন্ড, গ্লোবাল, টপটেন, অ্যাডভান্স, স্টারসহ বিভিন্ন প্রকাশনীর গাইড বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার গাছবাড়িয়া খানহাট, মৌলভী বাজার , বরকল, বরমা, বৈলতলী, দোহাজারী এলাকায় বিভিন্ন লাইব্রেরিতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত নোট-গাইড। কোনো ধরনের মনিটরিং না থাকায় বই বিক্রেতারা নিষিদ্ধ এসব গাইড বই লাইব্রেরিতে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখছেন। অনেক আগে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন গাইড বই প্রকাশনীর গোপন চুক্তির অভিযোগ রয়েছে। প্রতি বছরই প্রকাশনীগুলো তাদের গাইড, বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ পাঠ্য করাতে বই বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় পুরো উপজেলায় দাবড়িয়ে বেড়ায় গাইড বই প্রকাশনীর অসাধু দালালচক্র। বছরের নভেম্বর থেকেই তারা শুরু করে গোপন চুক্তির কার্যক্রম। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কতিপয় শিক্ষককে ম্যানেজ করে এ সকল গাইড, বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ পাঠ্য করানো এবং বই ক্রয়ে অভিভাবকদের বাধ্য করানোই তাদের মূল কাজ। গোপন চুক্তির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে দ্বন্ধের সৃষ্টি হয়েছে বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে। প্রকাশনী ভেদে গাইড গুলোর মূল্য ১০০ থেকে ৮৫০ টাকা। প্রাথমিকের পাশাপাশি উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের নোট-গাইড বই কিনতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা বাধ্য করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা যেন মূল পাঠ্যপুস্তক পড়ে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে, তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে বিজ্ঞমহল মনে করেন। শিক্ষক আর প্রকাশকদের এ শৃঙ্খল ভেঙ্গে দিতে না পারলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে এর চরম মূল্য দিতে হবে বলেও তারা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*