কক্সবাজারের বিকল্প আনোয়ারা পারকী সমূদ্র সৈকত

এস.এম সালাহ্ উদ্দীন, আনোয়ারা :: পারকী সমূদ্র সৈকত চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার অন্তর্গত একটি উপকূলীয় সমূদ্র সৈকত। স্থানীয় ভাষায় এটিকে “পারকীর চর” আর পর্যটনীয় ভাষায় “পারকী বীচ” বা পারকী সমুদ্র সৈকত” বলে। চট্টগ্রাম শহর থেকে “পারকী বীচের” দূরত্ব প্রায় ২৫ কিঃমিঃ। যেখানে যেতে সময় লাগবে প্রায় ১ (এক) ঘন্টা। অর্থাৎ কর্ণফূলী নদীর মোহনার পশ্চিম তীরে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এবং পূর্বদক্ষিন তীরে পারকী সমুদ্র সৈকত। চট্টগ্রাম সার কারখানা (সিইউএফএল) ও কাফকো যাওয়ার পথ ধরে এই সৈকতে যেতে হয়। পারকী সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার পথে দেখা মিলে অন্যরকম এক দৃশ্য। আঁকা বাকা পথ ধরে ছোট ছোট পাহাড়ের দেখা মিলে। চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিঃ এবং কাফকোর দৃশ্যও পর্যটকদের প্রাণ জুড়ায়। বীচে ঢুকার পথে রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গাছ, সবুজ প্রন্তর আর মাছের ঘের দেখতে পাবেন। বীচে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মতো অসংখ্য ঝাউ গাছ আর ঝাউবন। ঝাউবনের ফাঁকে ফাঁকে অসংখ্য খাবার দোকান আছে। ফুসকা, চটপটি, বা দুপুরের খাবার ও সারতে পারেন এখানে। বীচে ঘোড়া, রাইডিং বোট, বসার জন্য বড় ছাতা সহ হেলানো চেয়ার রয়েছেন। বিভিন্ন জুস ও পানীয় ব্যবস্থাও লক্ষ্য করা যায়। বর্তমানে এখানে গড়ে উঠছে ছোট ছোট হোটেল। আবাসিক হোটেলেরও ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছে। শীতের মৌসুমে এই সমুদ্র সৈকতে দৈনিক শতাধিক বাস পর্যটক আসে শুধুমাত্র বনভোজনে। এরকম আরো অনেকে বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে বেড়াতে আসে এখানে। সুতরাং যে কোন সময় আপনি ঘুরে আসতে পারেন কক্সবাজার এর বিকল্প “পারকী সমুদ্র সৈকত”। সমুদ্র সৈকতের বালিয়ারি, ঝাউবাগান, বন্দরের বহির্নোঙ্গরে সারি সারি জাহাজ, রাতের আলোকচ্ছটা যেন প্রতিনিয়তই আহ্বান করে পর্যটকদের। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বসে দেখা যায় বড় বড় ঢেউ। শোনা যায় সাগরের গর্জন। কিন্তু পারকি সমুদ্রে বসে দেখা যাবে ছোট ছোট ঢেউ। কক্সবাজার থেকে যেমন দেখা যায় সাগর জলে টুপ করে সূর্য ডুব দেয়ার দৃশ্য ঠিক তেমনি পারকি সমুদ্র সৈকতেও দেখা যায় সেই দৃশ্য। নদী পথে কর্ণফুলীর ১৫ নম্বর ঘাট থেকে ১৫ মিনিটের দূরত্ব। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে যে টানেল হচ্ছে সেই টানেল নির্মাণ শেষ হলে শহর থেকে এই সৈকতের দূরত্ব হয়ে যাবে ৫-১০ মিনিটের। বঙ্গবন্ধু টানেল পারকি সমুদ্র সৈকতের চেহারা বদলে দেবে। এমনটাই বলছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান ও পারকি বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য তৌহিদুল হক চৌধুরী বলেন, ২০২১ সালের মধ্যেই পারকী বিচে লক্ষ্যণীয় এবং দর্শনীয় পরিবর্তন হবে। পারকিকে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন করার স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রস্তাব করেছিলেন। সেই প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করে আজ থেকে ৮ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী নিজেই চট্টগ্রামে একটি জনসভায় এসে আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর উপস্থিতিতে আনোয়ারার পারকিকে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন ঘোষণা করেন। এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার এরই মধ্যে একনেকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ইতিমধ্যে শুরু হতে চলেছে উন্নয়ন কাজ। এই সুফল হিসেবেই পারকী সমূদ্র সৈকত হবে অন্যতম আরেকটি কক্সবাজার সমূদ্র সৈকত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*