মহেশখালীতে আত্মসমর্পনকৃত ৪৩ জলদস্যু মুক্তি পাচ্ছে

মহেশখালীত প্রতিনিধি :: আগামী মে মাসের প্রথম সাপ্তাহেই মুক্তি পাচ্ছে মহেশখালীতে বিগত সালের ২০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে আত্মসমর্পনকৃত ৪৩ জলদস্যু। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৮ সালের অস্ত্র আইনে মহেশখালী থানায় দায়েরকৃত মামলাটি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে একটি সূত্র জানিয়েছে।
চলতি মার্চ মাসের শেষদিকে প্রক্রিয়াটি শতভাগ সম্পন্ন হলেই জলদস্যুদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হবে। জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ ও মুক্তির বিষয়ে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত একটি বিশ্বস্ত সূত্র এতথ্য নিশ্চিত করেছে।
সুত্র মতে, জলদস্যুদের আত্মসমর্পণের শর্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রের একটি বাহিনীর পক্ষ থেকে দায়েরকৃত মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। তাছাড়া বিগত সালের ২০ অক্টোবর মহেশখালীতে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি তাঁর বক্তব্যে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে তাদের পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে উল্লেখ করেছিলেন। র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের উদ্যোগে লেঃ কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বিপিএম-বার,পিপিএম সেবা-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত মহেশখালী-কুতুবদিয়া অন্ঞ্চলের জলদস্যুদের উক্ত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে র‍্যাব ফোর্সেস-এর মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বিপিএম-বার বিশেষ অতিথি, সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিপিএম সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ৬ টি সশস্ত্র কুখ্যাত জলদস্যু বাহিনীর ৪৩ জন সদস্য তাদের অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করেছিল। এই ৬ টি ভয়ংকর বাহিনীর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত ৫ টি বাহিনীর ৩৭ জন জলদস্যুই চ্যানেল-২৪ টিভি’র সাংবাদিক এম.এম আকারাম হোসাইনের মধ্যস্থতায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন। সুত্রটি জানিয়েছে-আত্মসমর্পণকৃত ৪৩ জন জলদস্যুকে পূণর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে মোট ৪৩ লাখ নগদ টাকা জলদস্যুদের নিজ নিজ ব্যাংক একাউন্টে ইতিমধ্যে জমা করা হয়েছে। এছাড়াও আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যুদের আরো বিভিন্নভাবে পূণর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে সুত্রটি জানিয়েছে। সুত্রমতে, আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে যাতে তারা অভাব অনটনে সম্মুখীন হয়ে আবারো অপরাধকর্মে জড়িয়ে নাপড়ে সেজন্য জলদস্যুদের পর্যাপ্ত পূণর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আত্মসমর্পণকৃত ৪৩ জলদস্যুর প্রত্যেকের বাড়ি কক্সবাজার জেলার মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*