সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ আর নেই


ঢাকা অফিস::
প্রখ্যাত লেখক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।
রোববার (২১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিক নেতা মহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, মাহফুজ উল্লাহর বড় মেয়ে অঙ্গনা আমায় বিষয়টি জানিয়েছেন।
এর আগে ২ এপ্রিল সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউ-তে ভর্তি করা হয়। হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। এরপর সেখান থেকে গত ১০ এপ্রিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংকক নেয়া হয়।
১৯৫০ সালের ১০ মার্চ নোয়াখালীতে জন্ম নেয়া মাহফুজ উল্লাহ বাংলাদেশের প্রতিটি অধিকার আদায়ের আন্দোলনের একজন নেতৃস্থানীয় কর্মী ছিলেন। ছাত্র অবস্থাতেই সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন তিনি।
বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রাসহ দেশের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন। মাঝে চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসে, কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগেও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন সিনিয়র এই সাংবাদিক।
সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি জেনারেল মাহফুজ উল্লাহ বাংলাদেশে পরিবেশ সাংবাদিকতার সূচনা করেন। রাজনীতি উন্নয়ন ও পরিবেশ বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা তার বইয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট সদস্য এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর করজারভেশন অব নেচারের একজন নির্বাচিত সদস্য ছিলেন তিনি।
মৃত্যুর আগে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ। মাহফুজ উল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর করেন। তার বাবা শিক্ষাবিদ মরহুম হাবিবুল্লাহ ও মাতা মরহুমা ফয়জুননিসা বেগম।
তৎকালীন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কমরেড মোজাফফর আহমদের নাতি সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*