চন্দনাইশে ১৫ একর জমিতে হরেক রকমের ফলের চাষ

মো. কমরুদ্দীন, চন্দনাইশ :: সখের বশে দেশ-বিদেশ থেকে চারা, বীজ এনে চন্দনাইশের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ১৫ একর জায়গায় ৩১ প্রকারের ফলের বাগান করেছেন চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী।সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার হাশিমপুর চৌকিঘাটা পাহাড়ে চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী তার পৈত্রিক প্রায় ১৫ একর সমতল ও পাহাড়ি টিলায় দেশি-বিদেশী প্রায় ৩১ রকমের ফলের চাষ করেছেন। বিগত ১ বছর পূর্বে এ পাহাড়ি এলাকায় রোপন করা হয় ড্রাগন, সাদা জাম, কালো জাম, চাইনা কমলা, আপেল কুল, বাউ কুল, আ¤্রপালি, চোষা, হরিপাদা, বেননা ম্যাঙ্গু, গৌরি, বারিপোড়, কিউজাই আম, চাইনা লিচু, রাজশাহী লিচু, থাইল্যান্ডি লিচু, চাইনা কমলা, দেশী কমলা, কাঁঠাল, মিশরী ও দেশী মাল্টা, থাই আমলকি, তেজপত্র, আজুয়া, মরিয়ম খেজুর, ভিয়েতনামের নারিকেল, আনার, চাইগোটা, লাম্বুতান, শাম্মাম, শাহী পেয়ারা, থাই তেতুলঁ, মিষ্টি তেতুলঁ, থাই আমলকি, জলপায়, আমড়াসহ দেশী-বিদেশী ৩১ রকমের ফলের চাষ করেছেন। যা এখন কিছু কিছু গাছে ফলন দিতে শুরু করেছে। আগামী কয়েকমাস পরে সব রকম গাছে ফল দিতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ ১ বছর ধরে এ ফলের বাগান পরিচর্যার জন্য ৫ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ড্রাগনের বাগানে গেলে দেখা যায় অন্য রকম একটি দৃশ্য। একটি পিলারে গাড়ির ট্টায়ার দিয়ে ড্রাগন গাছকে দাড়ঁ করিয়ে রাখা হয়েছে সারি সারি ভাবে। একইভাবে লিচু, লেবু, কুল, আমলকি, আম, জাম, পেয়ারা, কাঁঠালসহ বিভিন্ন জাতের দেশি-বিদেশী ফলের সুগন্ধে পুরো পাহাড়ি এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে। পাহাড়ের পাদদেশে সারি সারি পেয়ারা, লেবু, আম, জাম, আমলকি গাছ দেখলে সবার নজর কারে। চেয়ারম্যান জব্বার চৌধুরী বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের রাজশাহী, হাটহাজারী, কৃষি গবেষনা কেন্দ্র, বান্দরবান, নরসিংদী, লাল মনিরহাট, মিশর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ-বিদেশ থেকে বীজ ও চারা সংগ্রহ করে এ বাগান করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন আগমী ৬ মাস পরে এ সকল গাছে ফল দেয়া শুরু করলে তার পূজি উঠিয়ে লাভের মুখ দেখবেন। তিনি বলেন, খেজুর আজুয়া, মরিয়ম গাছের চারা আনা হয়েছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা দামে। তাছাড়া প্রত্যেকটি ফলের বীজ ও চারার দাম অনেক বেশি । এ সকল চারা ও বীজ ক্রয় করে রোপন করতে ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমানে ড্রাগন ফল আসতে শুরু করেছে। এ ফল প্রতি কেজি ৬ থেকে ৭’শ টাকা বিক্রি হচ্ছে। লেবু প্রতিটি আকার ভেদে ৫ থেকে ৮ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এখানকার প্রতিটি ফল দামী এবং দুষ্প্রাপ্য। এখানকার উৎপাদিত প্রতিটি ফলই সুস্বাদু। যারা এ সকল ফলের চারা সরবরাহ করেছেন, তারা ৩ মাস পর পর এসে পরিচর্যা করেন এবং নিয়ম শিখিয়ে দেন। ফলে বাগান পরিচর্যার জন্য সার্বক্ষনিক শ্রমিক কাজ করে যাচ্ছে। তিনি শখের বশে এ বাগান করেছেন বলে জানান। তিনি তার কর্মব্যস্ততার মাঝেও প্রতি মাসে কয়েকবার বাগানে গিয়ে এ সব গাছ দেখেন এবং শ্রমিকদের সাথে কথা বলে বাগান পরিচর্যার বিষয়ে খবরাখবর নেন। (ছবি আছে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*