বাংলাদেশী ইমেজ যোদ্ধা, এয়াকুব সৈনিক


এম এ তাহের ভুঁইয়া, আমিরাত প্রতিনিধি::
আমিরাতে বাঙালিদের ইমেজ বা বাংলাদেশীদের সুনাম ফিরিয়ে আনতে বর্তমান কমিউনিটির মধ্যে যে সকল ব্যক্তিগণ কাজ করে যাচ্ছেন তার মধ্যে অন্যতম এক উদীয়মান ব্যাবসায়ীর নাম মোহাম্মদ এয়াকুব সৈনীক। অতীত ও বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন ভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্যে কাজ করতে দেখা গিয়েছে। তবে তাদের মাঝে অনেকেই স্বার্থের বেড়াজালে আটকে পডতে দেখাগেছে। কিন্তু সমাজে খুব কম সংখ্যক ব্যাক্তি আছেন যারা ইয়াকুব সৈনীকের মতো নিঃস্বার্থে মানুষের জন্য কাজ করেন,পাশাপাশি দেশের ইমেজ বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে দেখা যায়।
এয়াকুব সৈনিকের মতো ব্যক্তিরা সমাজ সেবা করেন মানবিক দৃষ্টি কোন থেকে। কোনো বিনিময়ের জন্য নয়।আর এই ধরণের বিনিময়হীন ব্যক্তিরাই সর্বদা আমাদের সমাজে পর্দার অন্তরালে ঢাকা পডে যায়।মূলত তারাই মনে করেন “সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই” আর এই চিরন্তন বাণীর মতোই সমাজের অবহেলিত দুঃখী মানুষের কাজে লাগতে নিজেকে নিবেদিত করেন।
এমন চিন্তা মাথায় রেখে তিনি নীরবে দেশে ও প্রবাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র – ছাত্রীদের শিক্ষা মূলক সহায়তা সহ গরীব পরিবারের কন্যা বিবাহে আর্থিক সহায়তা করার অনেক উদাহরণ আমাদের দৃষ্টিতে রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, সামাজিক সংগঠনে, রাস্তা-ঘাট তৈরিতে সহায়তা, বিধবা, এতিমদের সহায়তা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান তৈরীতে অসাধারণ ভূমিকা রাখে যাচ্ছেন দুবাই প্রবাসী বাংলাদেশী মোহাম্মদ এয়াকুব সৈনিক।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বিভিন্ন সভা,সেমিনারে বা অন্যান্য কর্মসূচিতে অনুদান দিয়ে আসন বরাদ্ধ করার লোক আমি না, আমি মনেকরি আমার অনুদান যেখানে দিয়ে থাকিনা কেন।তাহা যেন মন্দ ব্যক্তির হাতে না পড়ে বরং ওই অর্থের যথার্থ ব্যবহার হচ্ছে কিনা সেই দিকেও আমার দৃষ্টি থাকে। বর্তমান সমাজে ভালো মানুষের পাশাপাশি মন্দ ব্যক্তির উপদ্রব কম নয়। তাই তাদের প্রলোবন থেকে আমি নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করি।আমি মনে করি ভালোভাবে বাঁচতে চাইলে,বাঁচা যায় এবং সেইক্ষেত্রে আল্লাহ তাকে সাহার্য করেন।
আজ আমি নিজের কিছু কথা শেয়ার করবো আজ থেকে ঠিক কুড়ি বছর পূর্বে আমি যখন আমিরাত আসি।তখন আমার হাতে কোন টাকা পয়সা ছিলোনা।সততা,শ্রম,মেধা বিনিয়োগ করে বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।দুবাইয়ের বুকে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান সরফুদ্দিন রেস্টুরেন্ট,ফিউচার হোম রিয়েল স্টেট্ সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আমি স্বত্বাধিকারী।
এছাড়াও সর্বোপরি দুবাইয়ের মতো একটি ব্যাবহুল ও ব্যস্ত নগরীতে আমার নিজেস্ব কেনা বাড়ি এযেন এক বড় স্বপ্ন পূরণ প্রত্যাশার চেয়ে প্রাপ্তি অনেক বেশি সবই আল্লাহর অশেষ রহমতে।এইতো এখানে আমার স্ত্রী দুই মেয়ে ও দুই ছেলে সন্তান নিয়ে এইদেশে ভালোভাবেই আছি।আমি আবারো মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলতে চাই তিনি আমার লুকিয়ে থাকা ভাসনার কথা শুনেছেন।
ব্যবসা চালাতে গিয়ে আমাকে অনেক আরবীদের সাথে সাক্ষাৎ হয় এবং অনেক সময় তারা আমাকে নন বাঙ্গালী বলে মনেও করলে কিন্তু আমি তাদের ভুল ভাঙিয়ে দিয়ে বলি আমি একজন বাঙালি এবং আমার মতো অনেক বাঙ্গালী আছে যারা এই দুবাইকে তাদের দ্বিতীয় মাতৃভূমি হিসেবে মনে করেন।অব্যশই এক সময় আপনারা বুঝতে পারবেন আমরা এইদেশ ও এইদেশের সরকারকে কতটুকু ভালো বাসি। এবং তখন মনেকরবেন আসলে বাঙ্গালীরা ঐতিয্যবাহী ইমেজ সম্পূর্ণ জাতি।এবং সেই শুভ দিনটির জন্য আমি কাজ করে যাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*