পাহাড়ে চাঁদাবাজির কোটি কোটি টাকায় অবৈধ অস্ত্র কিনছে সন্ত্রাসীরা : পিবিসিপি


আলমগীর মানিক,রাঙামাটি ::
পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপকহারে চাঁদাবাজির মাধ্যমে সংগৃহিত কোটি কোটি টাকা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করছে পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলো। এ সকল অস্ত্র দিয়েই পাহাড়ের সন্ত্রাসীরা অত্রাঞ্চলের জনগণকে জিম্মি করে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছে পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুম, খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ, চাঁদাবাজি বন্ধসহ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবীতে রাঙামাটি শহরে আয়োজিত মানববন্ধনে এই অভিযোগ করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় সম্মুখে সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে বিভিন্ন ব্যানার ফেষ্টুন নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নারী-পুরুসহ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, পার্বত্য বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের কলেজ শাখার সভাপতি ফয়েজ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জুনায়েদ আহমেদ, জেলা প্রচার সম্পাদক আব্দুল মোমিন প্রমুখ।
মানববন্ধন শেষে পার্বত্য আঞ্চলে চলমান গুম, খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করে বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ।
এসময় বক্তারা বলেন, পার্বত্যাঞ্চলে কিছু সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কারণে বসবাসরত মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। শান্তি চুক্তির পরও পাহাড়ে গুম, খুন, অপহরণ, মুক্তিপণ, চাঁদাবাজি এখন নিত্য দিনের ঘটনা। পাহাড়ের মানুষ আর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি থাকতে চায়না। তাই তাদের নিমূর্ল করতে পাহাড়ে সেনাক্যাম্প পূনঃস্থাপন ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চিরুণী অভিযান পরিচালনা করতে সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সিএইচটি কমিশনসহ তথাকথিত মানবাধিকার কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরনের সমালোচনা করে বলেন, পাহাড়ের মানবতা ভুলন্ঠিতকারি সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কখনোই এসব মানবাধিকার সংগঠনগুলো কোনো প্রতিবেদন বা বক্তব্য প্রদান করে না। পাহাড়ের নির্যাতিত নীপিড়ীত মানুষের অধিকার নিয়ে এরা কখনো পাশে দাঁড়ায় না। এরকম প্রশ্নবিদ্ধ মানবাধিকার ও নামধারী কিছু সংখ্যক বুদ্ধিজীবীর মায়া কান্না, পক্ষপাতিত্ব পার্বত্য অঞ্চলের দেশদ্রোহী স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীদেরকে তাদের সকল প্রকার কার্যক্রমকে উৎসাহিত করছে। এর ফলে সাধারণ পার্বত্যবাসী জীবন নাশের মুখে পতিত হচ্ছে। মানবাধিকার হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ, মানবতা হচ্ছে ভূলুষ্ঠিত। এহেন পক্ষপাত মূলক কর্মকান্ডের জন্য আইন শৃঙ্খলার অবনতিসহ তথা পার্বত্যাঞ্চলের শান্তি বিনষ্ট হবে এবং জাতিগত সংঘাত লেগেই থাকবে।
রাঙামাটিতে ব্যাপক চাঁদার টাকা দিয়ে সন্ত্রাসীরা কোটি কোটি টাকার অবৈধ অস্ত্র কিনছে জানিয়ে বক্তারা আরো বলেন, বর্তমান রাঙামাটিতে সন্তু লারমার ডান হাত কিরণময় চাকমা (চিংগিস খান) ও অন্য সাধন চাকমা উপজাতীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও জোত মালিক সমিতির সভাপতি/সাধারন সম্পাদক হয়ে অত্র সমিতির মাধ্যমে কাঠ ব্যবসায়ী ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে সম্ভলারমার (জে.এস.এস) এর নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারন নিরিহ ব্যবসায়ীদের ভয় ভীতি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা অবৈধ ভাবে চাঁদা আদায় করে আসছে অভিযোগ করে বাঙ্গালী ছাত্র পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, উক্ত চাঁদার টাকা দিয়ে পার্বত্য অঞ্চলকে অশান্ত করার জন্য পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের অস্ত্র কিনতে সহায়তা করছে উপজাতীয় কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি। এমতাবস্তায় এই দু’জনসহ অত্র পার্বত্য অঞ্চলের সকল চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*