প্রোটিয়াদের হারিয়ে বিশ্বকাপে টাইগারদের দাপুটে শুরু

ওয়ার্ল্ড কাপ ডেস্ক :: দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানের হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে দারুণ খেলে এদিন প্রোটিয়াদের হারায় টাইগাররা।
রোববার (০২ জুন) লন্ডনের দ্য ওভালে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৩০ রানে বিশাল সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। জবাবে পুরো ওভার খেললেও ৮ উইকেট হারিয়ে ৩০৯ রানের বেশি করতে পারেনি দ.আফ্রিকা।
বাংলাদেশের দেওয়া ৩৩১ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে টাইগার বোলারদের দাপটে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দশম ওভারে মেহেদি হাসানের করা বলে রান নিতে গিয়ে ভুল বোঝাবুঝি করে রান আউটের শিকার হন কুইন্টন ডি কক। উইকেটের পেছনে থাকা মুশফিক থ্রো করে স্টাম্প ভাঙেন। প্রথম উইকেট হারায় দ.আফ্রিকা।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৫৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েন এইডেন মার্করাম ও ফাফ ডু প্লেসিস। তবে ২০তম ওভারে এসে নিজের চতুর্থ বলে মার্করামকে সরাসরি বোল্ড করে দারুণ এক কীর্তি গড়েন সাকিব আল হাসান।
ওয়ানডেতে ৫০০০ রান ও ২৫০ উইকেটে ‘ডাবল’ আছে মাত্র চার জন ক্রিকেটারে। এইডেন মার্করামকে আউট করে সেই ডাবলের মালিক হলেন সাকিব। দ্রুততম সময়ে এই কীর্তি গড়ে ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। ১৯৯ ম্যাচে রেকর্ডটি হলো তার।
সেট ব্যাটসম্যান ফাফ ডু প্লেসিসকে দারুণ এক ঘূর্ণিতে বোল্ড করলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ৫৩ বলে ৫টি চার ও একটি ছক্কায় ৬২ করেন প্রোটিয়া অধিনায়ক।
কিলার খ্যাত ডেভিড মিলারকে মেহেদি হাসান মিরাজের ক্যাচে ফেরান কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। ৪৩ বলে ২টি চারে ৩৮ রান করেন এই ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান। তৃতীয় উইকেট জুটিতে তিনি রাসি ভন ডার ডুসেনের সঙ্গে ৫৫ রান করেছেন।
আন্দিলে ফেলুকায়োকে (৮) ফুলটস বলে সাকিব আল হাসানে ক্যাচে মাঠ ছাড়া করান মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। নিজের আগের ওভারেই ৪১ রান করা রাসি ভন ডার ডুসেনকে সরাসরি বোল্ড করেন সাইফুদ্দিন। ৩৮ বলে দুটি চার ও এক ছক্কায় নিজের ইনিংস সাজান ডুসেন।

সর্বশেষ বাউন্ডারি লাইনে থাকা সৌম্য সরকারের ক্যাচে ক্রিস মরিসকে (১০) প্যাভিলিয়নে পাঠান মোস্তাফিজুর রহমান। নিজের পরের ওভারেই একপাশ আগলে রাখা জেপি ডুমিনিকে ইনসাইডেজ বোল্ড করেন ফিজ খ্যাত এই তারকা।
টাইগার বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ তিন উইকেট পান মোস্তাফিজুর রহমান। সাইফুদ্দিন দুটি এছাড়া মিরাজ ও সাকিব একটি করে উইকেট পান।
এর আগে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৩৩০ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। যা বিশ্বকাপে টাইগারদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। শুধু তাই নয়, ওয়ানডেতেও এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এর আগে ২০১৫ সালে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩২৯ রান করেছিল টাইগাররা।
আর ২০১৫ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩১৮ রান তাড়া করতে নেমে ৩২২ রান করে ম্যাচ জিতে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেন সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবাল। দলীয় ৬০ রানের মাথায় কুইন্টন ডি ককের ক্যাচ বানিয়ে তামিমকে (১৬) ফেরান আন্দিলে ফেলুকায়ো। দলীয় ৭৫ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪২ রানে সাজঘরে ফেরেন সৌম্যও।
এরপরের সময়টা কেবল সাকিব আল হাসান এবং মুশফিকুর রহিম শো হয়ে থাকলো। দু’জনে মিলে ১৪২ বলে করেছেন ১৪২ রানের জুটি। যা বিশ্বকাপে বাংলাদেশর সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডও। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ক্যারিয়ারের ৪৩তম ওয়ানডে হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন সাকিব। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা চার বিশ্বকাপ আসরে নিজেদের উদ্ধোধনী ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করলেন বিশ্বের এই সেরা অলরাউন্ডার।
সেই সঙ্গে ক্রিকেটের তিন সংস্করণে ১১ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করলেন সাকিব। প্রোটিয়াদের বিপক্ষে নামার আগে এই মাইলফলক থেকে ৬ রান দূরে ছিলেন তিনি।তবে অষ্টম সেঞ্চুরি পাওয়া হলো না সাকিবের। ৮৪ বলে ৭৫ রান করে ইমরান তাহিরের বলে বোল্ড হন তিনি। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৮ চার ও ১ ছক্কায়।
এরপরেই সাকিবের দেখানো পথে হাঁটেন মুশফিকও। ৮০ বলে ৭৮ করে মুশি ফেরেন ফেলুকায়োর বলে। মুশফিকের আগে তাহির তার দ্বিতীয় শিকার বানান মোহাম্মদ মিঠুনকে (২১)। বাংলাদেশকে তিনশ পেরোনো স্কোর এনে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মোসাদ্দেক ২৬ রানে আউট হলেও ৪৬ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে ফেলুকায়ো, মরিস ও তাহির দুটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*