বিদেশি চিহ্নিত হয়ে আসামে বন্দি হওয়া প্রাক্তন সেনা আফিসার জামিনে মুক্তি পেলেন


তাহের আহমেদ মজুমদার,আসাম (ভারত)::
গোটা আসামে বিভিন্ন মহলে তমুল সমালোচনা ও নিন্দা ধিক্কার জানানোর পর শনিবার এগারো দিন পর গুয়াহাটি হাইকোর্টের এক নিরর্দেশে ডিটেনশম ক্যাম্পের বন্দিত্ব কাটিয়ে জামিনে মুক্ত হলেন আসামে বহুচর্চিত প্রাক্তন সেনাকর্মী মহম্মদ সোনাউল্লাহ।শুক্রবার গুয়াহাটি হাইকোর্টের এক রায়ে মহম্মদ সোনাউল্লাহ জামিন হয়। সেই সুবাদে শনিবার সোনাউল্লাহ বন্দি শিবির থেকে মুক্তি পান। এদিন জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আসান পুলিশ সোনাউল্লাহ কে বিভিন্ন বিভাগীয় কাজ সম্পন্ন করে তাঁকে ছাড়ে দেয়। এর পর প্রাক্তন সেনাকর্মী সোনাউল্লাহ এগারোদিন পর তাঁর সাতগাঁওয়ের বাড়িতে পৌছেন। বাড়িতে পৌছার পর সোনাউল্লাহর আত্মীয় স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বরণ করেন। এদিন প্রাক্তন সেনাকর্মী সোনাউল্লাহ সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয় জানান দীর্ঘ দিন সেনার পোশাক পরে দেশের সেবা করার পরও পিঠে বিদেশির তকমা নিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে য়াওয়াটা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। তিনি সেটার জন্য তার কপালের লিখনকে দায়ী করেন। তবে তিনি তাঁকে য়েভাবে বিদেশি সাজানো হল তানিয়ে কিছু বলতে চাননী। সোনাউল্লাহ গুয়াহাটি হাইকোর্টে তাঁকে জামিন মঞ্জুর করায় ধন্যবাদ জানান কোর্ট কে। বাকিটা আইনি বিষয় বলে জানিয়ে তিনি সেটা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননী। তিনি হাইকোর্ট ও আইনের উপর তার পূর্ণ আস্হা তিনি ন্যায় বিচার পাবেন বলেও জানান। সোনাউল্লাহ ১৯৬৭ সালে জন্ম গ্রহন করেন । সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ১৯৮৭ সালে। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও পেয়েছিলেন সোনাউল্লাহ। ৩০ বছর সেনাবাহিনীতে থাকার পরে ২০১৭ সালে অবসর নেন তিনি। এরপর এএসআই হিসেবে সীমান্ত শাখায় যোগ দেন। তার সব তথ্য প্রমাণই জমা দেওয়া হয়েছিল। সেনাবাহিনীতে ও পুলিশে যোগ দেওয়ার সময়ে তাঁর নাগরিকত্ব যাচাই করা হয়। কিন্তু শুনানির সময় সোনাউল্লাহ বলেছেন, তিনি ১৯৭৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তাই ভুল তথ্য দেওয়ার অপরাধেই তাঁকে বিদেশি হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়। তিনি য়ে অসম পুলিশের সীমান্ত শাখায় এএসআই হিসেবে কাজ করছিলেন। পুলিশের এই শাখার কাজই হল সন্দেহজনক নাগরিকদের খুঁজে বের করা।রাজ্যের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন ও বর্তমান সেনাকর্মী এবং পুলিশকর্মীর নামে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের নোটিস এসেছিল। কারও নামে আসে ডি-ভোটারের নোটিস। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী-রাষ্ট্রপতির কাছেও স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন অপমানিত সেনাকর্মীরা। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন সোনাউল্লাহ ও তাঁর আত্মীয়, অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার মহম্মদ আজমল হক। আজমলের মামলাটি খারিজ হলেও সোনাউল্লাহর মামলা চলছিল।গত ২৩ মে সোনাউল্লাহকে বকো ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে ডাকা হয়। সেখানেই বিচারক তাঁকে বিদেশি বলে চিহ্নিত করে রায় দেন। আর সোনাউল্লাহকে গোয়ালপাড়া জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ তাঁর পরিবার ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়।, সোনাউল্লাহ ১৯৬৭ সালে জন্মান। সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ১৯৮৭ সালে। রাষ্ট্রপতি পুরস্কারও পেয়েছিলেন সোনাউল্লাহ। ৩০ বছর সেনাবাহিনীতে থাকার পরে ২০১৭ সালে অবসর নেন তিনি। এরপর এএসআই হিসেবে সীমান্ত শাখায় যোগ দেন। তার সব তথ্য প্রমাণই জমা দেওয়া হয়েছিল। সেনাবাহিনীতে ও পুলিশে যোগ দেওয়ার সময়ে তাঁর নাগরিকত্ব যাচাই করা হয়। কিন্তু বিচারক জানান, শুনানির সময় সোনাউল্লাহ বলেছেন, তিনি ১৯৭৮ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তাই ভুল তথ্য দেওয়ার অপরাধেই তাঁকে বিদেশি হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হয়। জানা গেছে বর্তমানে আসামে ডি ভোটারর সংখ্যা ১,২৫,৩৩৩ জন। ২,৪৪,১৪৪টি মামলা ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে গিয়েছিল। তার মধ্যে ১,৩১,০৩৪টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*