মানবতার কল্যানের জন্য কোরানের পথ অনুসরন করতে হবে,সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী


তাহের মজুমদার, আসাম ( ভারত) : :
মাতৃভাষার জন্য আত্মবলিদান করার এক মাএ উদাহরণ হল বরাক বাংলার এই শিলচর আর আমাদের বাংলাদেশ। শিলচরে ১১ জন মাতৃভাষার জন্য নিজের প্রাণ বলিদান করেছেন আর আমাদের বাংলাদেশর চার জন নিজের মাতৃভাষা রক্ষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন। যদিও আমরা বাংলার মানুষ মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছি কিন্তুু শিলচরের টা এখনও মিলেনী। তাই শিলচরের মাটিটা আমার কাছে প্রিয়। শিলচর শুধু আমার কাছে একটা স্থান বা বরাক বাংলা নয়। এটা আমার কাছে সোনার বাংলার মত প্রিয়। তাই এখান থেকে যখন আমার কাছে ডাক আসে আমি চলে আসি। এভাবে ৯ জুন ২০১৯ রবিবার রাতে আসামের বরাক উপত্যকার শহীদ এর শহর শিলচর এর বঙ্গ ভবনের ভাষা শহিদ স্মৃতি মঞ্চে ঈদ সম্মিলনি উদযাপন কমিটির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ” ঈদ মিলনোৎসব সন্ধ্যা ২০১৯ এর অনুস্টানে উপস্থিত হয়েছি। বাংলাদেশের প্রথম সারির পএিকা দৈনিক আমাদের বাংলার সম্পাদক তথা বিশিষ্ট সাংবাদিক সমাজকর্মী মিজানুর রহমান চৌধুরী এইসব কথা বলেন। এদিন মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন পৃথিবীর মধ্যে শুধু দুটি দেশের মানুষের মধ্যে একটা আত্মার মিল রয়েছে। আর এটার কারনে বাংলাদেশ -ঢাকা – চট্টগ্রাম ও শিলচরে মধ্যে একটা মিলন সেতু রয়েছে। আর সেটা তৈরী করে দিয়েছেন শিলচরের বিশিষ্ট সংস্কৃতিকর্মী মিলন উদ্দিন লস্কর। তিনি বলেন,শিলচরের এই অনুস্টানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো তে তিনি আয়োজকদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবেন চিরদিন। প্রসঙ্গক্রমে মিজানুর রহমান বলেন, আল্লাপাক কোরান নাজিল করেছেন শুধু মুসলমানের জন্য নয়। কোরানকে মানবতার কল্যানে নাজিল করা হয়েছে । কোরান মানুষকে সম্মান জানাতে শিখিয়েছে। কোরানই হল এক মাএ মুক্তির পথ। কোরান মানলে সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে বলে জানান। মিজানুর আরও বলেন আজ কিছু মানুষ পবিএ কোরান ও তার মধ্যে লিপিবদ্ধ সুরা বা আয়াত গুলি না বুঝতে পেরে অস্ত্র হাতে তুলে নিচ্ছেন। তাই তিনি কোরান এর পথ অনুসরন করতে বলেন। কোরানই একমাএ মুক্তির পথ বলে উল্লেখ করেন। কোরান মানলে সব দূর হয়ে যাবে বলে জানান সাংবাদিক মিজানুর। পাশাপাশি তিনি সত্যিকারের মানুষ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বলেন। তিনি আরও বলেন আমাদের পরিচয় মুসলমান হিসাবে তুলে না ধরে সত্যিকারের মানুষ হিসাবে তুলে ধরতে হবে। তিনি আরও জানান শিলচর বরাক এর সঙ্গে বাংলাদেশের এক আত্নার সম্পর্ক রয়েছে। এখানকার মানুষ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক অবদান রেখেছেন । যার জন্য এখানে বার বার আসতে মন চায় । যখনই শিলচর থেকে ডাক পড়ে তিনি হাজির হন । তিনি একাদশ শহিদের রক্তস্নাত বরাক বাংলার শিলচর কে তিনি সম্মানের রাজধানী বলে জানান। তিনি শিলচর এর বাংলাদেশের মধ্যে যে আত্মার বন্ধন সৃষ্টি হয়েছে সেটা যাতে চিরকাল থাকে সেটার দাবি জানান । এদিন ঈদ মিলনোৎসব সন্ধ্যা ২০১৯ এর অনুষ্ঠানের শুরুতেই পরশমণি পর্বে পবিত্র কোরান পাঠ করেন হাফিজ কারী সাকির আহমদ লস্কর । এরপর পবিএ কোরান এর বাংলা অনুবাদ করেন মিলন উদ্দিন লস্কর। শুরুতে নাত ও হামদ পরিবেশন করেন মাহি আরমান লস্কর।এদিন অনুস্টানের শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বলন করে অনুস্টানের উদ্বোধন করবেন কাছাড়ের জেলা উপায়ুক্ত লায়া মাদ্দুরি আইএএস।


গুণীজন হিসেবে উপস্থিত নামর আলি মজুমদার, মানপএ পাঠ করেন মিলন উদ্দিন লস্কর, মিজানুর রহমান চৌধুরীর হাতে উপহার ও মানপএ তুলে দেন শিহাব উদ্দিন আহমদ। কল্যাণ চক্রবর্তী, এর মানপএ পাঠ করেন মশহরুল বারী তার হাতে উপহার ও মানপএ তুলে দেন বিধায়ক আমিনুল হক লস্কর। মেহেরুন্নেসা বেগম। এর মান পএ পাঠ করেন ইকবাল বাহার লস্কর। উনার হাতে উপহার ও মানপএ তুলে দেন কাছাড়ের জেলা উপায়ুক্ত লায়া মাদ্দুরি আইএএস। এদের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বাংলাদেশ থেকে আসা বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সমাজসেবী মিজানুর রহমান চৌধুরী। এর হাতে মান পএ ও উপহার সামগী তুলে দিয়ে সম্বর্ধনা প্রদান করা হয়। তার হাতে মানপএ ও উপহার তুলে দেন মাহবুবুল বারী। এদিন বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথি শিল্পী সোহেল রানা এর হাতে মানপএ ও উপহার তুলে দেন তৈমুর রাজা চৌধুরী। ঈদ সম্মিলনি উদযাপন কমিটির মুখপএ সওগাত এর মোড়ক উন্মোচন করেন সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী। অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্ব ঈদের সাওগাত অংশে ছিল বাংলা গজল, কাওয়ালি, মুর্শিদি, মারিফতি, ভক্তিমূলক ইসলামী নজরুল সঙ্গীত, ঈদের গান, আঞ্চলিক লোকসঙ্গীত। এতে অংশ নেন অতিথি শিল্পী সোহেল রানা (বাংলাদেশ) সোহেল রানা বেশকটি গান পরিবেশন করে গোঠা অনুস্টানকে মাতিয়ে দেন।একইভাবে স্থানীয় শিল্পী তাহেরা বেগম লস্কর, মৌসিকা কায়েস লস্কর, দেবপ্রিয়া নাগ এবং সম্মিলিত লোকমঞ্চ শিলচর ও পরশমণি সাংস্কৃতিক সংস্থা, সোনাই এর শিল্পী রা গান পরিবেশন করেন । রাত এগারোটা পর্য়ন্ত ঈদ সম্মিলনি উদযাপন কমিটির ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ” ঈদ মিলনোৎসব সন্ধ্যা ২০১৯ এর অনুস্টানে চলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*