স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রাঙামাটিতে রেকর্ড সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে : পুলিশ সুপার


আলমগীর মানিক,রাঙামাটি::
প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বদ্ধ পরিকর বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি মোঃ জাবেদ পাটোয়ারী-পিপিএম। তারই অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনানুসারে মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষনিক মনিটরিং টিমের উপস্থিতিতে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে এবারই প্রথম সর্বোচ্চ সংখ্যক ৯৩ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মোঃ আলমগীর কবীর। এর আগে রাঙামাটির ইতিহাসে এতগুলো প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে রাঙামাটির সকল স্তরের গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, বাংলাদেশ পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (বিআরসি) পদে নিয়োগের ব্যাপারে রাঙামাটির সংবাদকর্মীরা ব্যাপকভাবে প্রচার করায় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হয়। যার ফলশ্র“তিতেই একটি স্বচ্ছ ও আর্থিক লেনদেন মুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে মন্তব্য করে এসপি আলমগীর বলেন, মাননীয় আইজিপি স্যার যে নিদের্শনা দিয়েছিলেন তা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করে একটি স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। মাদক মুক্ত মেধাবী ও সুঠাম দেহের অধিকারী প্রার্থীদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই প্রার্থীরা নিজেদের পদায়নের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত যে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে সেগুলো যাতে পরিচ্ছন্নভাবে হয় এবং কোনো ধরনের হয়রানীর শিকার না হয় সেদিকেও কঠোর নজর রাখছে রাঙামাটির পুলিশ বিভাগ।
সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই নিয়োগে মাত্র ১০ জনকে চাকুরিতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিলো, কিন্তু বিগত নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলোতে থেকে যাওয়ায় সবগুলো মিলে সংরক্ষিত আরো ৮৩টি পদসহ আমরা এবার মোট ৯৩জনকে নিয়োগ দিয়েছি। ডোপ টেষ্টের মাধ্যমেই এসকল চাকুরি প্রার্থীকে পদায়ন করা হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর কামাল, এএসপি রণজিৎ কুমার পালিত, রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর জাহেদুল হক রনি, কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক সত্যজিৎ বড়–য়া, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এসএম শামসুল আলম, কোষাধ্যক্ষ পুলক চক্রবর্তী, সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নন্দন দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বাহাদুর, সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ সোলায়মান, সাধারণ সম্পাদক হিমেল চাকমা, কোষাধ্যক্ষ আলমগীর মানিকসহ রাঙামাটিতে কর্মরত সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপার জানান, যে কোন পর্যায়ে কোন প্রার্থী কর্তৃক দাখিলকৃত তথ্য মিথ্যা, ভুল, প্রার্থীর কোন প্রতারণা প্রমাণ হলে তাকে নিয়োগের অযোগ্য/বহিস্কার/চাকুরীচ্যুতিসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
তিনি সবাইকে সর্তক করে দিয়েছিলেন যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোন ব্যক্তি বা পুলিশ সদস্য অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের সাথে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ, বিভাগীয় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এব্যাপারে কোন ছাড় দেয়া হবে না।
আর এরই আলোকে গত ২৪ জুন সুখীনীলগঞ্জ পুলিশ লাইন্স মাঠে ৬০৪জন প্রার্থী অংশগ্রহন করেন। তার মধ্যে পুরুষ প্রার্থী ৫১০জন এবং নারী প্রার্থী ৯৪জন ছিল। প্রাথমিক ভাবে পুরুষ ৩১৪জন এবং নারী ৫৩জন মোট ৩৬৭ জন নির্বাচিত হয়। প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে ১৬৯ জন উত্তীর্ণ হয়। পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষায় চুড়ান্ত ভাবে ৯৩জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিল। এর মধ্যে পুরুষ সাধারণ কোটায় ৭৫জন, পুরুষ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩জন, পুরুষ পোষ্য কোটায় ১জন ও মহিলা সাধারণ কোটা ১৪জন মোট ৯৩জন উত্তীর্ণ হন। এছাড়া সাধারণ কোটা অপেক্ষামান (পুরুষ) ১০জন, পোষ্য কোটা অপেক্ষামান (পুরুষ) ১জনসহ ১০৪ জন প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত করা হয় বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*