রাঙামাটিতে প্রকাশ্যে যুবকের পেটে ধারালো অস্ত্র ঢুকিয়ে হত্যার চেষ্ঠা

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি :: রাঙামাটি শহরে রাতের অন্ধকারে এক যুবককে পেটে ধারালো অস্ত্র ঢুকিয়ে হত্যার চেষ্ঠা করেছে প্রতিবেশী কয়েকজন বখাটে যুবক। গুরুত্বর আহত যুবকের নাম জামাল হোসেন(৩৩)। সে বর্তমানে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে নয়টার সময় শহরের ফিসারী ঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটায় সন্ত্রাসীরা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনি।
আহত জামালের ছোট ভাই কামাল জানান, মঙ্গলবার রাতে তারা দুই ভাই একই সাথে এশার নামাজ আদায় শেষে বাসায় ফেরার পথে ফিসারী ঘাট এলাকায় কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই স্থানীয় বখাটে সাদ্দাম, শেখ চাঁন, রমিজ ও সাগর মিলে দুই ভাইকে বেদড়ক পেঠাতে থাকে। এসময় সাদ্দাম ফার্নিচারের কাজে ব্যবহৃত লোহার ধারালো বাটাইল জামালের পেটে ঢুকিয়ে দেয়।
জামালের শরীরের চারটি স্থারে বাটাইল ঢুকিয়ে দিয়ে জামালকে হত্যার চেষ্ঠা চালায়। স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সাদ্দামরা সকলেই পালিয়ে যায়। এসময় প্রচুর রক্তক্ষরণে গুরুত্বর আহতাবস্থায় জামালকে উদ্ধার করে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে জামালের শরীরের কয়েকটি স্থানে সেলাই করে দেওয়া হয়েছে, ২৪ ঘন্টা নাপেরুলে আপাতত তাকে আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছেনা। এদিকে, আহত জামালকে দেখতে রাঙামাটি পৌরসভার প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দিনসহ শতাধিক এলাকাবাসী ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ হাসপাতালে ভীড় জমায়। এসময় তারা সকলেই এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। এই ঘটনার মূল নেতৃত্বদানকারি সাদ্দাম ফিসারীর ভেতরে একটি ভাতের হোটেল চালায় বলে জানিয়েছে আহতের পরিবার। তার বাবার নাম: নুর হোসেন।
এদিকে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহেদুল হক রনী জানিয়েছেন, আমরা খবর পাওয়ার পরপরই ফিসারী ঘাট এলাকায় পুলিশ পাঠিয়েছি। সেখানে কাউকে নাপেয়ে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাই। এসময় আমরা আহতকে এবং তার স্বজনদের থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলেছি। তিনি জানান, এরই মধ্যে আমরা এই ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*