৫ দিনের হালকা ও মাঝারি বর্ষণে রাঙামাটিতে বিপর্যস্থ জনজীবন ঝুঁকিপূর্ন এলাকার লোকজনকে সড়িয়ে এনে আশ্রয় কেন্দ্রে রাখছে জেলা প্রশাসন

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি :: টানা পাঁচদিন ধরে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে অব্যাহতভাবে অঝোর ধারায় ঝরছে বৃষ্টি। দিনে-রাতে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বর্ষণ চলছে। এতে মানুষের জীবন যাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বর্ষনে বিভিন্ন স্থানে মাটি ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনের ফলে ঘাঘড়া এলাকায় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢল নামতে শুরু করায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতাও বাড়তে শুরু করায় রাঙামাটির লংগদু, বাঘাইছড়ি উপজেলার নিন্ম এলাকার কয়েকশ বসতঘর ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ৫ দিনের টানা বর্ষণের ফলে রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে নিজেদের সহায় সম্বল রক্ষায় এখনো অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের খাদে বসবাস করছে।
এদিকে পাহাড় ধসে প্রানহানি এড়াতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে শহরের অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে শহরে ৫টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রায় ৫শত লোককে সড়িয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। সকাল থেকে আবারো ভারী বর্ষণ শুরু হলে মানুষের মাঝে আতংক দেখা দেয়। এসময় জেলা প্রশাসনের সকল স্তুরের কর্মকর্তারা রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে ঝুকিঁপূর্ন এলাকাগুলোতে গিয়ে বাসিন্দাদের ঘর থেকে বের করে নিকটস্থ আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। এদিকে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে আশ্রিতদের মাঝে খাবার বিতরণ করছেন জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ।
রাঙামাটির সবচেয়ে ঝুকিপূর্ন এলাকা মনোঘর, যুব উন্নয়ন এলাকা, শিমুলতলী, ভেদেভেদী, সনাতন পাড়া, লোকনাথ মন্দিরের পেছন সাইড, রূপনগর, আরশি নগর, টিভি সেন্টার এলাকা, আউলিয়া নগরসহ বেশ কিছু ঝুকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের বেশ কয়েকটি মোবাইল টিম কাজ করছে। আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে খাবার পর্যাপ্ত না থাকায় মানুষ আশ্রয় কেন্দ্র মুখী হতে পারছে না। খাবার দাবারের আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরে রান্না বান্ন করে খাবার খেয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে ফিরে আসছে। দিনের বেলায় আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে লোকজন না থাকলেও রাতের বেলায় আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে লোকজনের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে রাঙামাটি চট্টগ্রাম সড়কের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার মাটি সরি গিয়ে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। বন্ধ হয়ে রয়েছে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি-বান্দরবান, রাঙামাটি-মারিশ্যা রুটের সকল যানবাহন। এছাড়া ঘাগড়ার কলাবাগান এলাকায় ছড়ার পানির কারণে ভেঙ্গে গেছে রাঙামাটি চট্টগ্রাম সড়কের রাস্তার বিশাল অংশ। বিকাল থেকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারীরা রাস্তা সংস্কারের জন্য দ্রুত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, আমরা প্রত্যেক ঝুকিপূর্ন স্থানে নিজেরা গিয়ে লোকজনকে সরিয়ে আনার চেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছি। দূর্যোগ মোকাবেলায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সার্বিক প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিসহ পর্যাপ্ত পরিমানে খাদ্যশষ্য মজুদ রয়েছে। বিভিন্ন উপজেলাগুলোতেও আমরা আমাদের উপজেলার ইউএনওদেরকে সারাক্ষণ মনিটরিংয়ে রেখেছি। তিনি জানান, দূর্যোগের যেকোনো তথ্য তাৎক্ষনিকভাবে পেতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে।
এদিকে, রাঙামাটি দুর্যোগ মোকাবেলায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন সব সময় প্রস্তুত আছে বলে জানিয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা উপমা।
অপরদিকে রাঙামাটি পাহাড় বেষ্টিত হওয়ায় রাঙামাটি জেলার সব কয়টি উপজেলার ইউনিয়ন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রাঙামাটি সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তর্পন দেওয়ান জানিয়েছেন সবকয়টি ইউনিয়নে প্রতিদিনই মাইকিং করা হচ্ছে নিরাপদে সরে আসার জন্যে।
রাঙামাটি পৌর এলাকায় ২১ টির মতো আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলো খুলে দেয়া হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ গুলো আশ্রয় নেয়ার জন্য। বৃষ্টি কমলেই মানুষের মাঝে স্বস্থি ফিরে আসবে এমনটাই আশা করছেন সচেতন মহল।
উল্লেখ্য, এ মাসে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর গত সোমবার কাপ্তাই কেপিএম এলাকায় এক মহিলা ও এক শিশু পাহাড় ধসে মাটি চাপায় নিহত হয়। আহত হয় আরো ৩জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*