চট্টগ্রামে পরিবহন নৈরাজ্যে ম্লান ঈদযাত্রার আনন্দ

স্টাফ রিপোর্টার :: দুই মেয়ে আর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়া যাবেন আহমেদ উল্লাহ। উদ্দেশ্য পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করা। দুর্ভোগের বৃষ্টি মাড়িয়ে বহদ্দারহাট এলাকার বাসা থেকে নগরের নতুন ব্রিজ বাস কাউন্টারে আসতেই ফের দুর্ভোগে পড়লেন তিনি।
স্বাভাবিক সময়ে নতুন ব্রিজ থেকে সাতকানিয়ার বাস ভাড়া ১০০ টাকা আদায় করা হলেও ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের বাড়তি ভিড়কে পুঁজি করে বাস চালকরা ভাড়া দাবি করছেন ৩০০ টাকা!
একদিকে বৃষ্টি আর বাড়তি বাস ভাড়া, অন্যদিকে লক্কড়মার্কা বাসে দুর্ঘটনার ঝুঁকি- এসব দুর্ভোগ মাথায় নিয়েই শেষ পর্যন্ত ঈদযাত্রা শুরু করেন নগরের টেরিবাজারের খুচরো কাপড় বিক্রেতা আহমেদ উল্লাহ।
শুধু আহমেদ উল্লাহ নন, নগর থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং বান্দরবানমুখী হাজারো যাত্রী শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে নতুন ব্রিজ এলাকায় এমন দুর্ভোগে পড়েন।
চকরিয়ার এক যাত্রী জানান, গাড়ি চালক আর তার সহকারীর আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তাদের দয়া ছাড়া বাড়ি যাওয়া সম্ভব নয়। ন্যায্য ভাড়া দিয়ে বাড়ি যেতে চাই। পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করতে চাই। তবে তা আর হলো কই।
তিনি বলেন, ১৫০ টাকার ভাড়া ২৫০ টাকা চাইছেন গাড়ি চালক। মানুষকে একপ্রকার জিম্মি করেই তারা এসব করছেন। ঈদযাত্রায় মানুষের এমন সীমাহীন দুর্ভোগেও প্রশাসন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। পরিবহন সিন্ডিকেটের কাছে তারাও জিম্মি হয়ে গেছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা কী সরকার এবং প্রশাসনের চেয়েও শক্তিশালী? প্রশ্ন এ চাকুরিজীবীর।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নতুন ব্রিজ বাস কাউন্টার ছাড়াও বিআরটিসি, একে খান গেইট, অলঙ্কার মোড়, অক্সিজেন এবং নতুন কাপ্তাই রাস্তার মাথায় ঈদে ঘরমুখো মানুষের ঢলকে পুঁজি করতে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিবাদ করলেই মিলছে তিরষ্কার কিংবা গালি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বাড়তি বাস ভাড়া আদায়, লক্কড়মার্কা গাড়ির ঝুঁকিপূর্ণ চলাচলসহ পরিবহন নৈরাজ্য ঠেকাতে গত ঈদে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বিরতিহীন অভিযান চালান।
নগরের বিভিন্ন বাস কাউন্টারে তাদের অভিযানের মুখে বাড়তি ভাড়া আদায় যেমন বন্ধ হয়, তেমনি পরিবহন নৈরাজ্যও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসে।
তবে এবার ঈদের শুরুতেই বাধার মুখে পড়ে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অভিযান। ৪ আগস্ট ঈদ উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন বাস কাউন্টারে বাড়তি বাস ভাড়া আদায় ঠেকাতে অভিযান শুরু করলে ওইদিন সন্ধ্যায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেন পরিবহন মালিকরা।
তবে রাতে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন পরিবহন মালিকরা।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, ঈদ উপলক্ষে বাস কাউন্টারে ফের অভিযান চালানো হবে না- এমন আশ্বাস পাওয়ার পর পরিবহন মালিকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন।
যার প্রমাণও মিলেছে গত কয়েকদিনে। ৪ আগস্টের পর নগরের কোনো বাস কাউন্টারে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের অভিযান পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জানান, পরিবহন নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেই তারা বিভিন্ন ঝামেলা করে। এর পরেও মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আমরা কাজ করছি।
‘কোথাও বাড়তি ভাড়া বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক অভিযান চালাবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।’ যোগ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*