বাণিজ্যিক ছবিতেও অনুদান দেওয়া হবে : তথ্যমন্ত্রী


আমাদের ডেস্ক::
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সামাজিক ছবির পাশাপাশি বাণিজ্যিক ছবিতেও ক্ষেত্রবিশেষে অনুদান দেওয়া হবে। আর বাজারদর বিবেচনায় অনুদানের পরিমাণ ৬০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। তবে অনুদানের অর্থে সঠিকভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও পরিবেশন করতে হবে।
তিনি আজ চট্টগ্রামে ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প ও বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা সুপ্রভাত বাংলাদেশ সেমিনারের আয়োজন করে। কবি ও প্রাবন্ধিক আবুল মোমেন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ এর সম্পাদক রুশো মাহমুদ। মূল প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন সংসদ সদস্য ওয়াসেকা আয়শা খান, দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক, দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক ড. রমিজ উদ্দিন চৌধুরী, কবি ও সাংবাদিক ওমর কায়সার, আরটিভির সিইও আশিক রহমান, চলচ্চিত্র নির্মাতা অমিতাভ রেজা প্রমুখ।
মূল প্রবন্ধে চলচ্চিত্র শিল্পের বিগত এক শতকের চিত্র তুলে ধরা হয়। শতাব্দীর চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মূল প্রবন্ধে বলা হয় অতি অল্প সময়ে দেশের প্রেক্ষাগৃহ প্রায় ১৫শত থেকে ১৫০ এ অবনমিত হয়েছে। প্রবন্ধে বলা হয় চলচ্চিত্র এখন আর লাভজনক শিল্প নয়। মানুষ প্রেক্ষাগৃহে যেতে চায়না। চলচ্চিত্রও সময়ের চাহিদামতো ডিজিটালাইজেশন করা যায়নি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য মন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ ঝুকিঁপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিধায়, বিনিয়োগকারীরা চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ করতে চান না। এর থেকে উত্তোরনের জন্য গণমানুষের হাসি-কান্না সুখ-দুঃখের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে। বিশেষত সামাজিক মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে।
চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাগৃহ কমে যাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রেক্ষাগৃহের পরিবেশ মানসম্পন্ন না হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রেক্ষাগৃহে যেতে চায়না। সময়ের চাহিদামতো প্রেক্ষাগৃহ আধুনিকায়ন করতে হবে। এর জন্য সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন স্স্থু ধারার চলচ্চিত্রের প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণে সরকার সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বহুতল শপিংমলের যে কোন একটি ফ্লোরে প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণে সরকার অনুপ্রাণিত করছে। তিনি বলেন চলচ্চিত্র সুটিং ও পরিস্ফুটনের সহযোগিতার জন্য সরকার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এফডিসি আধুনিকায়নের প্রকল্প নিয়েছে।
চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে তথ্য মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এখন একটা সংকটকাল অতিক্রম করছে। বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্র শিল্পই এ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর উত্তোরণ ঘটাতে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। ভাল স্ক্রিপ্ট এর সাথে ভালো শিল্পনির্দেশনা ও ভাল প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে মানুষের রুচির পরিবর্তন হয়েছে। সে তুলনায় সিনেমা হলগুলোর মান উন্নত হয়নি। তিনি আরো বলেন, চলচ্চিত্র এক ধরণের সংস্কৃতি। শিক্ষার বাহক হচ্ছে সংস্কৃতি। শিক্ষা ও সংস্কৃতি হাত ধরাধরি করে চলছে। সংস্কৃতি আমাদের সমাজ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বিধায় শিক্ষা গ্রহণ করেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*