বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৩৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান


আরব আমিরাত থেকে মাহাবুব হাসান হৃদয় ::
এবার রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড পেল ৩৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠানো উৎসাহিত করতে এবার ৩৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করল বাংলাদেশ ব্যাংক।
রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৮ গ্রহন করছেন টোকিও সেট গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহাবুব আলম মানিক। বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৮ সংযুক্ত আরব আরব আমিরাতের জনতা ব্যাংক দুবাই শাখা থেকে এবার ৬ জন বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স অ্যাও য়ার্ড ২০১৮ পেয়েছেন। যথাক্রমে (১)মাহাবুব আলম মানিক (২) নূর মোহাম্মদ (৩) আব্দুল করিম (৪) মোহাম্মদ শাহজাহান বাবলু (৫) মোহাম্মদ আব্দুল নূর কাউছার ও (৬) ওয়ালিউর রহমান।
সোমবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৩৬টি বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে রেমিটেন্স পাঠিয়ে এবং পাঠাতে সহায়তা করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এবার সাধারণ পেশাজীবী ক্যাটাগরিতে ১০ জন, বিশেষজ্ঞ পেশাজীবী ৮ জন, ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে ১০ জন, রেমিটেন্স আহরণকারী পাঁচ ব্যাংক এবং অনাবাসী বাংলাদেশি মালিকানাধীন তিনটি একচেঞ্জ হাউজকে ক্রেস্ট ও সনদ দেয়া হয়।
চলতি অর্থবছরে ২০ বিলিয়ন ডলার (দুই হাজার কোটি ডলার) রেমিটেন্স আসবে বলে আশা করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।সোমবার বিকালে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড ২০১৮’ প্রদান অনুষ্ঠানে এ আশার ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।অনুষ্ঠানে রেমিটেন্স পাঠিয়ে এবং পাঠাতে সহায়তা করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৬ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেন অর্থমন্ত্রী।এতে মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স আহরণ করে ভারত।যার পরিমাণ প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শ্রীলংকা, এরা বছরে ৬৭ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স অর্জন করে।
“অথচ আমরা বছরে মাত্র ১৫ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আহরণ করি। রেমিট্যান্স বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের আরও নজর দিতে হবে।” “তবে বর্তমানে যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে তাতে করে এবার ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করছি।”
মন্ত্রী প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, “আমি আশা করি, আপনারা রেমিটেন্সের পরিমাণ বাড়াতে পারবেন। আর রেমিট্যান্স বাড়ানোর বিষয়ে যতভাগে সহযোগিতা দরকার তা সরকার দেবে।” “আর কিছুদিন বিদেশে থেকে আমাদের সহযোগিতা করুন। এরপর আর বিদেশে থাকতে হবে না। আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা হতে নিয়েছি। এগুলো বাস্তবায়ন হলে আর বিদেশে থাকতে হবে না। দেশে এসে তখন আপনারা ব্যাবসা করবেন।আর মানুষকে কাজ দিবেন।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, বিদেশগামীদের দক্ষতা উন্নয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষতার কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর শ্রমিকরা বিদেশে অনেক বেশি বেতনে কাজ করছে। কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করে বিদেশ যাওয়া ভালো।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম বলেন, বৈধপথে রেমিটেন্স পাঠানো ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য অভিবাসন নীতিমালা করার সময় এসেছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব সেলিম রেজা বলেন, “যারা সম্মাননা পাচ্ছেন, তারা বিদেশে আরও বেশি কাজের সুযোগ দিতে সহযোগিতা করলে রেমিটেন্স আরও বাড়বে।বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ৪৫১ কোটি ০৪ লাখ (৪.৫১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।এই অংক গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি।
গত বছরের এই তিন মাসে ৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ (৩.৮৬ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল বাংলাদেশে।গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এক হাজার ৬৪১ কোটি ৯৬ লাখ (১৬.৪২ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা ছিল আগের বছরের (২০১৭-১৮) চেয়ে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ এবং অতীতের যে কোন বছরের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক বছরে এই পরিমাণ রেমিটেন্স আসেনি।২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ (১৪.৯৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। ওই অঙ্ক ২০১৬-১৭ অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি ছিল।বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হল বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থ বা রেমিটেন্স।
বর্তমানে এক কোটির বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান ১২ শতাংশের মত।রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। ১ জুলাই থেকে প্রবাসীরা ১০০ টাকা দেশে পাঠালে ২ টাকা প্রণাদনা পাচ্ছেন।আর এ জন্য নতুন বাজেটে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*