কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছয় লেনের চার সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে

মো. কমরুদ্দিন, চন্দনাইশ (প্রতিনিধি) :: চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার যাতায়াতে ভোগান্তি কমাতে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাড়ে ৭’শ কোটি টাকা ব্যয়ে চার নদীর উপর ৪টি ছয় লেনের সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। একই সাথে চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ২’শ ৩৫ কিলোমিটার মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীত করার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পটিয়া ইন্দ্রপুল, চন্দনাইশের বরুমতি, দোহাজারী শঙ্খ ও চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর উপর পুরানো সেতুর স্থলে নতুনভাবে ৬ লেনবিশিষ্ট ৪টি সেতু নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি সেতু বাস্তবায়নের পর কক্সবাজার-চট্টগ্রাম-টেকনাফ ২’শ ৩৫ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পও হাতে নিয়েছে সরকার। জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ক্রস বর্ডার নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (সিবিআরএনআইপি) প্যাকেজ-সি-এর আওতায় চারটি ছোট থেকে মাঝারি আকারের সেতু ও সংযুক্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে গত বছরের ২২ নভেম্বর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। জানা যায়, প্রকল্পগুলো স্পেক্ট্রা, সিআর-২৪ বি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চন্দনাইশের দোহাজারী শঙ্খ নদী, বরুমতি খালের উপর এবং চকরিয়ার মাতামুহুরী নদীর উপর পুরানো ব্রিজের পাশে নতুন করে সেতু নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। দোহাজারী শঙ্খ নদীতে স্প্যান বসানো কাজ চলছে। দোহাজারী সেতুতে ৫টি স্প্যানের উপর দুই লাইন করে তিন ভাগে বিভক্ত করে গার্ডার বসানো হবে। বরুমতি খালে ব্রীজ নির্মাণের দু’পাশের জমি দখল করে সড়ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। একইভাবে চকরিয়া মাতামুহুরী নদীর উপর ব্রীজ নির্মাণের জন্য কয়েকটি স্প্যান বসানোর কাজ এগিয়ে চলছে। এ সকল ব্রিজ এলাকায় লেবার শেড তৈরিসহ নানা সরঞ্জাম মজুত করে পুরোদমে ব্রীজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ৪টি সেতুই গার্ডার সেতু হিসেবে নির্মাণ করা হবে। আগামী ২১ নভেম্বর ২০২১ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সেতুগুলো নির্মাণস্থলের আশপাশ এলাকায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিও অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে চলছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনের তাগিদে ছয় লেনের সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সঙ্গে ফিজিভিলিটি স্টাডি ও সয়েল টেস্টের মাধ্যমে সেতুগুলো নির্মাণের জন্য সাড়ে ৭’শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জাইকা ও বাংলাদেশ সরকার যৌথ উদ্যোগে এ সেতুগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, সেতুগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হলে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় গতি ফিরে আসবে। সে সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ পর্যটন নগরী কক্সবাজার, বান্দরবানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজতর হবে। এতে দৈনন্দিন জীবনে সচ্ছলতার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ চার সেতু নির্মাণের পাশাপাশি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। ২০১৭ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধনকালে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে ঘোষণার আলোকে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হতে চলেছে। অন্যদিকে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী টানেলের খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিকলবাহা ক্রসিং থেকে মহসড়কের কাজ শুরু করার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তারই অংশ হিসেবে শিকলবাহা ক্রসিং থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১’শ ৫৯ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার লিংক রোড থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৭৬ কিলোমিটারসহ ২’শ ৩৫ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। এ লক্ষ্যে সড়কে দখলদারদের তালিকা তৈরি ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এডিবির অর্থায়নে সুইডিস কনসালটেন্ট নামে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজের জরিপ করে প্রকল্প ব্যয় নির্ধারণের পর প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*