চট্টগ্রামে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনিশ্চিত


স্টাফ রিপোর্টার::
সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে যুবলীগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে অনিশ্চিত হয়ে গেছে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সম্মেলন।
আগামী ২৩ নভেম্বর যুবলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে চট্টগ্রামে যুবলীগের সম্মেলন শেষ করার কথা ছিল।
শুক্রবার (১১ অক্টোবর) ওমর ফারুক চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত নেতারা এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জানা গেছে, বৈঠকে কেন্দ্রীয় সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হলেও চট্টগ্রামের সম্মেলনের ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের দুই প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু ও সৈয়দ মাহমুদুল হক চৌধুরী।
আলতাফ হোসেন বাচ্চু জানান, কেন্দ্রীয় সম্মেলনের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রামের সম্মেলন শেষ করার জন্য সিদ্ধান্ত চেয়েছিলাম। তবে তাৎক্ষণিক তা পাওয়া যায়নি।
নানান জটিলতায় দীর্ঘদিন গঠন করা যায়নি চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কমিটি। মেয়াদোত্তীর্ণ আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে সাংগঠনিক কাজ।
২০১৩ সালে কেন্দ্র থেকে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দিয়ে ৯০ দিনের মধ্যে সম্মেলন করে নগর যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই কমিটি হয়নি ছয় বছরেও। উত্তর জেলায়ও বিরাজ করছে একই অবস্থা।
অন্যদিকে দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয় ২০১০ সালে। এর দুই বছরের মধ্যে ঘোষণা করা হয় ৩ বছর মেয়াদী পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এরপর কয়েকবার নতুন কমিটি গঠনের গুঞ্জন শোনা গেলেও তা আর হয়নি।
এর আগে যুবলীগের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর নির্দেশনায় অক্টোবরে সম্মেলনের জন্য কাউন্সিলরদের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত করতে তালিকা তৈরির কাজও শুরু হয়।
কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ২৫ জনের তালিকা তৈরিরও নির্দেশনা আসে। নগরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং জেলায় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ তালিকা করতে বলা হয়।
যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চুকে নগর ও উত্তরে এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল হককে দক্ষিণ জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আলতাফ হোসেন বাচ্চু বলেন, যেহেতু উনি (ওমর ফারুক চৌধুরী) নাই, তাই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিন্তু আমাদের সাংগঠনিক নেত্রী হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সরিয়ে অন্যদের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে চেয়ারম্যান তো এখনও বহাল রয়েছেন। তার বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে পারি। এতে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*