লাল সবুজের রঙে সেজেছে লোহাগাড়ার ৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়


রায়হান সিকদার, লোহাগাড়া::
লোহাগাড়া উপজেলায় লাল-সবুজের রঙে সেজেছে ৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়গুলো এখন হয়ে উঠেছে একেকটি লাল সবুজের বাংলাদেশ।
লোহাগাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সর্বমোট ১০৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টি বিদ্যালয় ভবনকে জাতীয় পতাকার রঙ আর রূপে সজ্জিত করা হয়েছে। বাকি বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত হওয়ায় নতুন ভবন নির্মাণ শেষে একই রূপে সজ্জিত করা হবে। শিশুদের বিদ্যালয়গামী করা, ঝরে পড়া রোধ, জাতীয় পতাকা ও সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রঙ আর বৈচিত্র সেজেছে উপজেলার ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন। পেশাদার শিল্পীদের দিয়ে ভবনগুলো অঙ্কন করায় একেকটি স্কুল দেখলেই মনে হয় যেন, একেকটি লাল-সবুজের বাংলাদেশ। একইভাবে বেশ কিছু বিদ্যালয়ের ভেতরের দেয়ালও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন চিত্রে সাজানো হয়েছে।
শিক্ষা অফিস সুত্রে আরো জানা যায়, শিশুদের নজর কাড়তে দেয়ালে আঁকা হয়েছে নানা ধরনের ছবি। জাতীয় পতাকা, বর্ণমালা, স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, ছয় ঋতুসহ নানা ধরনের চিত্রে বিদ্যালয়ের প্রতিটি দেয়াল যেন শিক্ষার এক একটি রঙিন ক্যানভাস। বাদ পড়েনি বিদ্যালয়গুলোতে সদ্য নির্মিত সীমানা প্রাচীরও। সেখানেও লেখা হয়েছে মনীষীদের বাণী, আঁকা হয়েছে ফুল, ফল, পাখি, মিনা-রাজুর ছবিসহ শিক্ষামূলক সব অঙ্কন। এছাড়াও উপজেলার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের অমর একুশে ভবন, বিজয় একাত্তর ভবন ও ৭মার্চ ভবন নামকরণ করা হয়েছে।
শিক্ষকরা বলছেন, এ কার্যক্রমের ফলে ক্লাসে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও মুগ্ধ করেছে রঙের ছোঁয়ায় রাঙানো বিদ্যালয়।
আমিরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাষ্টার শাহাব উদ্দিন জানান, এটি একটি মডেল। এখন আর কাউকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুঁজতে হবে না। লাল-সবুজ পতাকায় মোড়ানো ভবন মানেই এখন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এমন রূপে সাজানোর ফলে বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পড়া শিশু সহজে জাতীয় পতাকার রঙ জানতে পারবে। লাল-সবুজ রঙয়ের বিশেষত্ব সম্পর্কে অবগত হয়ে শহীদদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে শিশুরা। লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ওমর ফারুক জানান, উপজেলার ১০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৫০হাজার শিশু পড়ালেখা করে। মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ শেখানোর পাশাপাশি প্রত্যেকটি বিদ্যালয়কে শিশুদের জন্য সেকেন্ড হোমের ভাবনা থেকে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। এর সাফল্য হিসেবে ইতোমধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি।
তিনি আরো বলেন, সরকারিভাবে যেসকল বিদ্যালয়ে মেরামতের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেসব বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকার আদলে লাল-সবুজ পতাকায় সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এটিই দেশের রোল মডেল। এ রূপে সাজানোর ফলে স্কুলের প্রথম শ্রেণীতে পড়া কোমলমতি শিশুও এখন সহজেই জাতীয় পতাকা ও এর রঙ সহজে জানতে পারছে। সেক্ষেত্রে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতেই লাল-সবুজের রঙে নতুন রূপে সাজিয়েছি প্রতিটি বিদ্যালয়। তাছাড়া পর্যায়ক্রমে সব বিদ্যালয়ই লাল-সবুজের রঙে রাঙিয়ে তোলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*