বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি’র ২২তম বর্ষপূর্তি উদযাপন

নয়ন চক্রবর্তী, বান্দরবান :: বান্দরবানে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি’র অগ্রযাত্রার ২২তম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষ্যে
“ঐক্যের মাঝে শান্তি পাই, পাহাড়ী বাঙ্গালী ভাই ভাই” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বান্দরবান জেলা পরিষদ ও সেনা রিজিয়নের যৌথ উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ২২তম বর্ষপূর্তি পালন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (২ ডিসেম্বর ) সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গন থেকে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সদরস্থ রাজার মাঠে এসে শেষ হয়। র‌্যালী শেষে রাজার মাঠে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ ও দুঃস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণের আয়োজন করা হয়। পরে এই উপলক্ষ্যে রাজার মাঠে পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সভায় পার্বত্য জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সি য়ং ম্রো’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান ওতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খন্দকার মোঃ শহিদুল ইমরান এএফডব্লিউসি, পিএসসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার, পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউছার, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য মোঃ শফিকুর রহমান, পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান এ.কে.এম জাহাঙ্গীর, সিভিল সার্জন অং সুই প্রু, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লক্ষীপদ দাস, মোজাম্মেল হক বাহাদুর, ফিলিপ ত্রিপুরা’ সেনাবাহিনী,পুলিশ,বিজিবি সদস্যগন সহ সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ১১ ক্ষুদ্রনৃ গোষ্ঠীর প্রতিনিধি গন উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ দুই যুগ ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিরাজমান সমস্যা তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে শান্তি চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে অবসান হয়ে ছিল। যার ফলে এই শান্তি চুক্তিকে বিভিন্ন রাষ্ট্র স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পুরস্কৃত করা হয়ে ছিল। তারা আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নসহ সমস্ত বিষয়ে প্রধান মন্ত্রী খুবই আন্তরিক।
অপরদিকে বান্দরবান উপজাতীয় সুশীল সমাজ,পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল এর আয়োজনে সকাল সাড়ে ১০টায় বান্দরবান সদরস্থ মাস্টার গেস্টহাউজের সম্মেলন কক্ষে শান্তি চুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে একটি আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। এতে বক্তারা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির সবকটি শর্ত সরকার যতদিন বাস্থবায়ন না করবে আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে।
উল্লেক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেস্টা ও দূরদর্শী নেত্রীত্বে ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ও শান্তি বাহিনীর পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন।এরি ধারাবাহিকতায় আজ দীর্ঘ ২২ বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে গড়ে উঠেছে জাতী,ধর্ম, বর্ণ সহ সকল বিবাদ ভুলে পাহাড়ি বাংঙ্গালী পরস্পরের মধ্যে সৌহার্দ পূর্ণ অবস্থান।
যার বিনিময়ে তিন পার্বত্য জেলায় অধিকাংশই বন্ধ হয়েছিল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ,স্বজন হারানোর আত্ননাদ ও আস্থিতিশীল পরিবেশ।
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের প্রাক্কালে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পাহাড়ি জনগণের একটি প্রতিনিধিদল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পরিচিতির স্বীকৃতি সম্পর্কিত কতিপয় দাবি পেশ করে ছিলেন। পরে তাদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে যোগ হয় শান্তি বাহিনী নামে একটি সামরিক শাখা। ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে শান্তি বাহিনী সামরিক দিক থেকে অধিকতর সংগঠিত হয়। এর সদস্য সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তে থাকে। এরূপ অভিযোগ রয়েছে যে, শান্তি বাহিনী ভারতের ত্রিপুরায় ঘাটি স্থাপন করে সেখান থেকে অভিযান পরিচালনা করত। ১৯৭৭ সালে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া বহরের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছিল অস্থিতিশীল পরিবেশের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*