আনোয়ারায় বেড়ে যাচ্ছে ভন্ডপীর,প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ জনগণ

এস,এম,সালাহ্উদ্দীন ::
আপনার শত্রুকে জিন চালান দিয়ে ধ্বংস করে দেয়া হবে অথবা আপনার স্বামীকে বশ করার জন্য এই তাবিজটা পানিতে ডুবিয়ে খাওয়াতে হবে এসমস্ত কথা বলে গ্রামের সহজ সরল মানুষের অন্ধ বিশ্বাসকে পুজিঁ করে আংটি, পাথর, তাবিজ, বান-টোনা ও ঝাড়- ফুঁক এর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আনোয়ারা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পাঁচজন জ্যোতিষী ও প্রায় ৫০ জনের মত ভন্ড হুজুর রয়েছে। কোন ধরণের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা বলে নিজেদের জ্যোতিষী পরিচয় দিয়ে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা আর প্রতারিত হচ্ছে গ্রামের সহজ সরল অসহায় লোকজন। স্থানীয় কিছু দালাল এবং প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির সহায়তায় তারা এই প্রতারণামুলক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেক ভুক্তভোগী। সরেজমিনে উপজেলার প্রায় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বসতঘরে অফিস সাজিয়ে ও সাইনবোর্ড টাংগিয়ে ঝাড়ফুক, পানিপড়া, তাবিজ কবজ, বান টোনা ও জিন চালান এর কথা বলে চিকিৎসা দিচ্ছে এসব আচার্য্য ও ভন্ড হুজুর নামের প্রতারকরা । আর তাদের অফিস অথবা বাড়িতে গ্রাম্য মহিলাদের ভিড় লক্ষ্যণীয়। বিভিন্ন শারিরীক ও মানসিক সমস্যা বা শত্রু বিনাশের জন্য তারা এসব জ্যোতিষী ও ভন্ড হুজুদের কাছে আসছে। আর জ্যোতিষীরা আগত মহিলাদের সমস্যা ও আথির্ক অবস্থা বুঝে ৫০০ থেকে পাচঁ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। বিনিময়ে তাদেরকে পাথর, আংটি, তাবিজ ও পানি পড়া, দিয়ে সেগুলো খেতে কিংবা হাতে গলায় বা মাটিতে পুতে রাখার পরামর্শ দিচ্ছে। আনোয়ারা শোলকাটাঁ গ্রামের মুহাম্মদ মোবিন বলেন, বটতলী এক ভন্ড হুজুরের কাছে পরিবারের আয় উন্নতির জন্য তাবিজ আনার জন্য গিয়েছিলাম এবং তাবিজ এর জন্য ৬০০০ টাকা দিয়েছি । কিন্তু সে তাবিজে কোন ফল পায়নি ।প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকার যুবক যুবতীগন এসব হুজুরদের কাছে এসে প্রতারিত হচ্ছে এবং মোটা অংঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে জনগণের সাথে প্রতারিত করে যাচ্ছে অনেক ভন্ডপীররা এভাবেই প্রতারিত করছে গ্রাম্য জনসাধারণকে। মুলত নবগ্রহ জ্যোতিষ, কুষ্টি লিখা ও পুজা অর্চনার কথা বললেও তাদের মুল ব্যবসা হলো আংটি, পাথর, তাবিজ ও জাদুটোনা করা। জ্যোতিষ শাস্ত্রে কোনধরণের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই তারা এসব ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের এসব চিকিৎসার কোন ফল না পেয়ে আর্থিক ও মানষিক ক্ষতীর পাশাপাশি নানা ভাবে হয়রানীর সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ মানুষ। বৈরাগ গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যোতিষী জানান, পারিবারিক বাপ দাদার পেশার সুত্র ধরেই তিনি এই পেশায় আসেন। তিনি এর আগে কৃষক হিসেবে কাজ করলেও এখন গ্রামের মূর্খদের কাছে তিনি এখন বড় মাপের হুজুর। পরে এই পেশায় কেন এলেন বা তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু সে প্রশ্নের জবাব তিনি দিতে পারেননি। এ ব্যাপারে আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি শুনেছি তবে দেখি নাই । তবে তিনি সাধারন জনগনকে এসব ভূয়া জ্যোতিষীদের কাছ থেকে দূরে থাকার উপদেশ দেন। এ ব্যাপারে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্যা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু জাহিদ মুহাম্মদ সাইফউদ্দীন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান , এ ধরনের ভূয়া জ্যোতিষীদের উপদ্রব যত্রতত্র বেড়ে চলেছে আর তাদের হাতে প্রতারিত হচ্ছে সাধারন মানুষ। তবে ডাক্তারী মতে এসব জ্যোতিষীদের কোন প্রকার ভিত্তি নেই। এ ব্যাপারে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি)দুলাল মাহমুদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে আসে না বলেই পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারে না। এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে পুলিশ শীঘ্রই মাঠে নামবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*