আনোয়ারায় চলছে রমরমা সুদ বাণিজ্য, দেখার নেই কেউ


এস,এম,সালাহ্উদ্দীন ::
আনোয়ারার প্রতিটি ইউনিয়নে চলছে রমরমা সুদ বাণিজ্য। মানুষকে নিঃস্ব করার অন্যতম উপায় সুদের ব্যবসা আর এখন সুদ মানুষকে নিঃস্ব করার ট্যাবলেট হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে এ ব্যবসা জমজমাট ভাবে চলছে আনোয়ারার প্রতিটি ইউনিয়নে। ফলে সুদ ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে সমাজের নিচু ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। এ সব দেখার যেন কেউ নেই। সর্বত্র প্রকাশ্যে চলছে সুদের ব্যবসা। প্রতি এক হাজার টাকা ঋণের বিপরীতে এলাকা ভেদে মাসে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা সুদ আদায় করছে সুদি কারবারীরা । যারা দাদন নিচ্ছেন তারা মূলত ব্যাংকের শর্ত ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি এবং বেসরকারি এনজিও সংস্থাগুলোর কারণে দারস্থ হচ্ছেন দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে। ঋণ গ্রহীতারা ফাঁকা স্ট্যাম্পে সাক্ষর ও ফাঁকা ব্যাংকের সাক্ষরিত চেক নেয়ার কারণে পরে তারাই আবার মামলায় জড়িয়ে যাচ্ছেন। দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে দেনার টাকা পরিশোধ করতে না পেরে নিজ ভিটা ছেড়ে পালিয়েছেন অনেকে। উপজেলার বন্দর সেন্টার, জাইল্লাঘাট, বৈরাগ, চৌমহুনী, বটতলী, এলাকায় দাদন ব্যবসায়ীদের কর্মকান্ড সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ওই সব স্থানগুলোতে প্রকাশ্যে রমরমা সুদী ব্যবসা চলছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু সংখ্যক ব্যাক্তি সর্বাধিক সুদ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ওই সব সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচার ও চক্রবৃদ্ধি সুদের রোষানলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রাম অঞ্চলের সাধারণ অসহায় মানুষ। আর্থিক প্রয়োজনে বেকায়দায় পড়ে ওই সব সুদ ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ছে মধ্যবিত্ত কৃষক, বর্গাচাষী, স্বল্প আয়ের লোকজনসহ স্কুল, মাদ্রাসা ও বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণও। তারা কষ্টকর জীবন অতিবাহিত করতে গিয়ে বিপদে পরে বাধ্য হয়ে ওইসব সুদ ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকার ননজুডিশিয়াল সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর বা টিপ দিয়ে টাকা নিতে হয়। আর ওই সব সাদা ষ্ট্যাম্পে সাক্ষী নেওয়া হয় সুদ ব্যবসায়ীদের পছন্দমত ব্যক্তিদের এবং ইচ্ছামত তারা ষ্ট্যাম্প পূরণ করে রাখেন কিংবা প্রয়োজন মত লেখার জন্য ফাঁকা রাখেন। আর বেকায়দায় পড়া ব্যক্তিদের অনেকে সুদ ব্যবসায়ীদের চাপে বন্ধক রাখে জমির দলিলপত্র, স্বর্ণালংকার, চাকরিজীবীদের মাসিক বেতনের চেকও বন্ধক রাখতে বাধ্য হচ্ছেন সুদ ব্যবসায়ীদের কাছে। সাপ্তাহিক এমনকি দৈনিক ভিত্তিতে নগদ ঋণ দিয়ে দেড় থেকে দুই গুন মুনাফা লাভ করে। সুদ ব্যবসায়ীদের অত্যাচার ও লাঞ্ছনায় আত্নহত্যার নজিরও রয়েছে এ উপজেলায়। একদিকে যেমন সুদ ব্যবসায়ীরা সম্পদের পাহাড় গড়ছেন অন্যদিকে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ দিন দিন গরিব ও ভূমিহীনে পরিণত হচ্ছে। অথচ সুদ ব্যবসায়ীদের এমন কর্মকান্ডে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও নেই কোন পদক্ষেপ। প্রশাসনও রয়েছে নীরব। আর যে কারণে ঋণের নামে এ সব শোষণ বেড়েই চলছে। সুদ ব্যাবসায়ীদের সার্বিক এ পরিস্থিতে বিভিন্ন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ ব্যাপারে জরুরী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন, অন্যথায় এর ব্যপ্তি অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*