“এ্যাম্বুলেন্স চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় রাঙামাটির এফপিএবি ক্লিনিকে প্রসূতি স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ” শিরোনামে সংবাদের প্রতিবাদ

বিগত ০৮/০২/২০২০ খ্রি. তারিখ www.dainikamaderchattagram.com অনলাইন পত্রিকায় “এ্যাম্বুলেন্স চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ায় রাঙামাটির এফপিএবি ক্লিনিকে প্রসূতি স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটিতে পরিপূর্ণ সত্য উপস্থাপন না করে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করায় এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রকৃত সত্য হলো চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গাটি একটি পাহাড়ী উঁচু-নিচু জায়গা ছিল। উহার উপর দিয়ে কেবল পায়ে হেঁটে অতি কষ্টে যাতায়াত করা যেত। উক্ত জায়গায় বা তার পাশে কোন প্রকার রাস্তা ছিল না। বরং পাহাড়টির দক্ষিণ পাশে সম্পূর্ণ ঢালু এবং লেইক থাকার কারণে উহা খুবই ভংগুর ছিল। এছাড়া উক্ত স্থানে প্রায় ৬র্০ (ষাট ফুট) গভীর খাদ ছিল যা স্থাপত্য অধিদপ্তর, ঢাকা এর স্মারক নং-১৩০৩, তারিখ ঃ ০১/০৯/২০১৬ খ্রি. মূলে প্রধান সমন্বয়ক, বাংলাদেশের ৬৪ জেলা সদরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ (১ম পর্যায়) প্রকল্প, পূর্ত ভবন, সেগুন বাগিচা, ঢাকা বরাবর লিখিত পত্রে উল্লেখ আছে। উক্ত কারণে উল্লেখিত প্রকল্পের অর্থায়নে ৯৯,৮৪,৫১৯/- (নিরানব্বই লক্ষ চুরাশি হাজার পাঁচশত উনিশ) টাকা ব্যয়ে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জন্য নির্ধারিত জায়গার দক্ষিণ পাশ দিয়ে একটি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হয় যা গণপূর্ত বিভাগ, রাঙ্গামাটি এর Contract No:25.36.8400.113.02.6-1(15).17/900, Date 30/04/2017 এ উল্লেখ আছে। উক্ত রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের ফলে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জায়গার দক্ষিণাংশটি মাটি ভরাটের মাধ্যমে সমতল করা হয়। যা আদালতের বিচারকদের চলাচল পথ হিসাবে নির্ধারিত আছে। এফপিএবির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে এফপিএবির জন্য রেকর্ডীয় কোন জায়গা বা রাস্তার অস্তিত্ব নেই। জেলা জজ আদালত এলাকা এবং সদর এসি ল্যান্ড অফিসের মাঝ বরাবর যে রাস্তাটি আছে তা জেলা জজ আদালত এলাকার দক্ষিণ-পূর্ব কোন পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। ঐরাস্তা কখনোই এফপিএবি পর্যন্ত সম্প্রসারিত ছিল না। এছাড়া উক্ত রাস্তটির পূর্ব প্রান্ত এখনো কেবল ০র্৬ (ছয় ফুট) প্রশস্ত এবং উহার শেষ প্রান্তে একটি ৯০ (নব্বই) ডিগ্রি বাঁক আছে। উক্ত বাঁক দিয়ে একটি এম্বুলেন্স যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সে কারণে এফপিএবি’র এম্বুলেন্স কখনো ঐ রাস্তায় প্রবেশ করেনি। বর্তমানে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের জন্য উক্ত পাহাড়ী জায়গাটির দক্ষিণ পাশ দিয়ে রিটেইনিং ওয়াল করে আদালতের জন্য যে চলাচল পথ তৈরী করা হয় তাকে কৌশলে এফপিএবির রাস্তা দাবী করা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার।
প্রকৃত পক্ষে এফপিএবি ক্লিনিকের এম্বুলেন্স এবং অন্যান্য গাড়ী জেলা প্রশাসন অফিস এবং অপরাপর অফিসের মাঝ দিয়ে থাকা রাস্তায় চলাচল করে। এফপিএবি এর উত্তর-পশ্চিম দিকের আনুমানিক ১র্২/১র্৩ ফুট প্রশস্ত উক্ত রাস্তাটি এখনো উন্মুক্ত আছে। এফপিএবি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই উক্ত রাস্তা ব্যবহার করে আসছে এবং তা বর্তমানেও ব্যবহার না করার কোন কারণ নেই। সরজমিনে পরিদর্শনকারী যেকোন ব্যক্তির নিকট বিষয়টি পরিস্কার হবে। উক্ত রাস্তার বিষয়টি এফপিএবি সভাপতি কর্তৃক চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, রাঙ্গামাটি বরাবর স্মারক নং-এফপিএবি/রাঙ্গা/৩৮৯/২০১৯, তারিখ ঃ ২২/১২/২০১৯ ইং তারিখের পত্রে স্বীকার করেন এবং উক্ত পত্রের সূত্রে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, রাঙ্গামাটি কর্তৃক তার পত্র স্মারক নং- সি.জে.এম (প্রশা)/২০১৯-৩৮১, তারিখ ঃ ২৩/১২/২০১৯ খ্রি. মূলে যে উত্তর প্রদান করেন তাতে এফপিএবি এর উত্তর-পশ্চিম দিকের রাস্তাটির আরো উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে সার্বিক সহযোগিতা করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক, রাঙ্গামাটিকে অনুরোধ করা হয়েছে এবং উক্ত পত্রের একটি কপি জেলা প্রশাসক, রাঙ্গামাটিকে প্রদান করা হয়েছিল। উল্লেখ্য উক্ত রাস্তা দিয়ে এফপিএবি অফিসের লোকজন এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও অন্যান্য সরকারী অফিসের পূর্ব পার্শে বসবাসকারী প্রায় ৫০/৬০ টি পরিবারের লোকজন চলাচল করেন। এরূপ একটি প্রতিষ্ঠিত জন চলাচল পথটি উন্নয়নের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ার কোন যুক্তি নেই। তথাপি এফপিএবি উক্ত পথের অস্তিত্ব গোপন করে সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য দিয়ে আদালতের বিচারকদের চলাচল পথকে এফপিএবির জন্য দাবী করা বিচারকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে গৌণ করে দেখার সামিল। এফপিএবির চলাচলের জন্য উত্তর-পশ্চিম দিকে উপযুক্ত পথ থাকায় এফপিএবি কোন প্রকার অমানবিকতার সম্মুখীন বলার সুযোগ নেই। আদালত মানুষের অধিকার এবং মানবিকতার আশ্রয়স্থল। তথ্য গোপন করে আদালতের বিরুদ্ধে মানবিকতা লংঘনের অভিযোগটি কেবল অন্যায় নয়, আদালতের প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং উদাসীনতার সামিল। এমতাবস্থায়, অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন সূত্রে প্রকাশিত সংবাদটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করার জন্য এফপিএবি কর্তৃপক্ষকে আহবান জানানো হচ্ছে। অন্যথায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার দায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

(এ.এন.এম. মোরশেদ খান)
চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*