মাফিয়া অনুগত দাসত্বের সাংবাদিকতার শিকড় উপড়ে ফেলতে জনমত গঠন করুন

*মিজানুর রহমান চৌধুরী*

অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী, বিজনেস ক্রিমিনাল, ব্যাংক লুটেরা মাফিয়াদের চাকর-বাকর দাসত্বকারী এক শ্রেণীর সাংবাদিকতা আমাদের দেশে চলছে। মাফিয়ারা এক শ্রেণীর সংবাদপত্রও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। সরকারি জমি দখল, জাল দলিল সৃষ্টি, টেন্ডার জালিয়াতি, ব্যাংক লুটেরা বিদেশে টাকা পাচার ইত্যাদির মাধ্যমে এরা হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছে। বিদেশে পাচার করেছে টাকা। সমাজে, রাজনীতিতে, ধর্মীয় বিষয়েসহ নানাবিধ বিতর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে মাফিয়ারা তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তার করে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এরা সরকারের ভিতরে কৌশলে আশ্রয় নিয়ে তাদের বেপরোয়া অপরাধ কর্ম করে নিরাপদে ও বহাল তবিয়তে অবৈধ সম্পদের বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে। সরকারের নানা ধরনের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন কাণ্ডের পরও এসব মাফিয়া অপশক্তির চতুর্মুখী লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হিমশিম খাচ্ছে। মাফিয়ারা রাজনীতিতে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড পলিসি অবলম্বন করে মারাত্মক হিংসা, হানাহানির পরিবেশ সৃষ্টি করতে সফল হয়েছে। এসব চিহ্নিত মাফিয়া বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে পরিচয় দিলেও অতীতে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে জামাত-বিএনপি’র চিহ্নিত অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের সাথে নানা ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। ব্যাংকসহ নানা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিল। সরকারি জায়গা জমি দখল করে শিল্প-কারখানা গড়ে ভিন্ন মতের দরিদ্র মানুষের জায়গা জমি দখল করেছিল। এ চক্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানুষজনদের নানা রকম জুলুম নির্যাতন চালিয়েছিল, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছিল । সমাজে নানা ধরনের অপশক্তি লেলিয়ে দিয়ে প্রতিবাদী জনগোষ্ঠীকে কোণঠাসা ও জিম্মি করে তাদের এবং তাদের পরিবারের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। সমাজ ও রাজনীতিতে কোণঠাসা করতে সক্ষম হয়েছিল। বর্তমানেও পরিচিত অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী মাফিয়ারা তাদের অবৈধ কালো টাকার বিনিময়ে বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের নাম ভাঙ্গিয়ে দাপট অব্যাহত রেখেছে।
ফলে দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র, ধর্মীয় গোত্র ও গোষ্ঠীতে আজ নানা রকম অস্থিরতা বিরাজ করছে। হিংসা, হানাহানি, ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে। সমাজের প্রতিবাদী ভাল মানুষগুলো জিম্মি হয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এভাবে একটি দেশ ও সমাজ চলতে পারে না। এসবের সহযোগী হয়েছে একশ্রেণীর দাসত্ব বরণকারী সাংবাদিক ও সংবাদপত্র, বুদ্ধিভিত্তিক কিছু পেশাজীবী। মজলুম, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, নিপীড়িত মানুষের মুক্তির প্রয়োজনে দাসত্বের সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*