করোনা ভাইরাস ঝুঁকিতে ঈদগাঁওবাসী

কক্সবাজার প্রতিনিধি :: কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে লক্ষাধিক জনগোষ্ঠী করোনা ভাইরাস ঝুঁকিতে দিনাতিপাত করছে। মানা হচ্ছে না সরকারী নির্দেশনা। এ অবস্থায় চলতে থাকলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মহামারি আকার ধারণ করতে বেশীদিন লাগবে না বলে অভিমত সচেতম মহলের। বৃহত্তর ঈদগাঁওতে এই মাসে বিদেশ থেকে দেশে এসেছে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী। যে দেশ গুলোতে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রয়েছে। যাদের কেউই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে দেখা যায়নি। অথচ সংক্রমণ এড়াতে সদ্য বিদেশ থেকে আসা সকল প্রবাসীদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে সরকারি সংস্থাগুলো বার বার তাগিদ দিচ্ছে। কিন্তু সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মালেশিয়া, কাতার, চীন, ওমান ইত্যাদি দেশ থেকে আসা প্রবাসীরা তা অমান্য করে ঘুরে বেড়াচ্ছে অনায়াসে। অনেক প্রবাসীকে বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন করা হলেও করোনা ভাইরাস তাদের সংক্রমণ হয়নি অজুহাতে কর্ণপাত করছে না। ফলে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে গ্রাম পর্যায়ে। ঈদগাহ বাজার ও গ্রামের বিভিন্ন চায়ের দোকান গুলোতেও চলছে নিয়মিত জমজমাট আড্ডাবাজি। সতর্কতার বালাই নেই তৃণমূল পর্যায়ের এই জনগোষ্ঠীর। অথচ যেটাকে করোনাভাইরাস ছড়ানো অন্যতম মধ্যম বলে ঘোষণা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। উত্তরবঙ্গে ইতালি ফেরত প্রবাসীদের সাথে বিয়ের দাওয়াতে গিয়ে এ ভাইরাসে অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও খবর বেরিয়েছে। কিন্তু বাজার ও গ্রাম এলাকার হোটেল- চায়ের দোকান বন্ধ করা না গেলে এ আড্ডাবাজি বন্ধ হবে কিনা প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। প্রয়োজনে এই অহেতুক আড্ডার বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া অন্যান্য ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান সীমিত করা প্রয়োজন। সরেজমিন ঈদগাহ বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, কাপড়ের দোকান, কসমেটিকসের দোকান, স্বর্ণের দোকান খাবার হোটেল ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান গুলোতে মহিলা ও পুরুষ ক্রেতাদের বিপুলসংখ্যক উপস্থিতি। তাও আবার সদ্য বিদেশ ফেরত বিভিন্ন প্রবাসীর আত্মীয়-স্বজন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে ৩ ফুট দূরত্ব দুরের কথা গা ঘেঁষে অবস্থান করছে দীর্ঘ সময়। যা করোনা ভাইরাস প্রতিরুধে সর্বউচ্চ বাধা হতে পারে। তাই অসচেতন এই ঈদগাহবাসীকে করোনা ভাইরাস ঝুকি এড়াতে কার্যকরি প্রদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, যেসব প্রবাসীরা হোম কোয়ারেন্টাইন নীতি মানছে না এবং চায়ের দোকান গুলোতে অহেতুক যারা আড্ডা দিচ্ছে তাদের বিষয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি ইতিমধ্যেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছাড়া অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*