১৯ মে ভাষা আন্দোলন আসামের বরাক উপত্যকা এক ইতিহাস ও ওপার বাংলার সঙ্গে সম্পর্কের টান

তাহের আহমেদ মজুমদার, আসাম :: ১৯৬১ সালের ১৯ মে আর ২০২০ সালের ১৯ মে। এরই মধ্যে প্রায় ৫৯ টি বৎসর অতিক্রান্ত হয়ে গেল কিন্তুু বিশ্বের বুকে প্রথম নিজের মাতৃভাষার জন্য এগারোটা তরতাজা মানুষ তাদের প্রাণ দিয়েছে শহীদ হয়ে। যে ইতিহাস রচনা করেছিলেন উত্তরপূর্ব ভারতের আসামের বরাক উপত্যকার শিলচরের একাদশ ভাষা শহীদ কমলা ভট্টাচার্য, কানাই লাল নিয়োগীরা । আর আসামে শিলচরের বাংলা ভাষা আন্দোলন ছিল আসাম সরকারের অসমীয়া ভাষাকে রাজ্যের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, যেহেতু ঐ অঞ্চলের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ছিল বাংলাভাষী। এই গণ আন্দোলনের প্রধান উল্লেখযোগ্য ঘটনাটি ১৯৬১ সালের ১৯ মে ঘটে, সেদিন ১১ জন প্রতিবাদীকে শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে আসাম প্রাদেশিক পুলিশ গুলি করে হত্যা করে।
১৯৬১ সালের বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলন প্রেক্ষাপট এভাবে ছিল।
১৯৬০ সালের এপ্রিলে, আসাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিতে অসমীয়া ভাষাকে প্রদেশের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে ঘোষণা করার একটি প্রস্তাবের সূচনা হয়। এতে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। অসমীয়া উত্তেজিত জনতা বাঙালি অভিবাসীদের আক্রমণ করে। জুলাই ও সেপ্টেম্বরে সহিংসতা যখন উচ্চ রূপ নেয়, তখন প্রায় ৫০,০০০ বাঙালি হিন্দু ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে পালিয়ে যায়। অন্য ৯০,০০০ বরাক উপত্যকা ও উত্তর-পূর্বের অন্যত্র স্থানে পালিয়ে যায়। ন্যায়াধীশ গোপাল মেহরোত্রার নেতৃত্বে এক ব্যক্তির একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কামরূপ জেলার গোরেশ্বর অঞ্চলের ২৫টি গ্রামের ৪,০১৯টি কুঁড়েঘর এবং ৫৮টি বাড়ি ধ্বংস ও আক্রমণ করা হয়; এই জেলা ছিল সহিংসতার সবচেয়ে আক্রান্ত এলাকা। নয়জন বাঙালিকে হত্যা করা হয় এবং শতাধিক লোক আহত হয়।
১০ অক্টোবর, ১৯৬০ সালের সেই সময়ের অসমের মুখ্যমন্ত্রী বিমলা প্রসাদ চলিহা অসমীয়াকে আসামের একমাত্র সরকারী ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। উত্তর করিমগঞ্জ-এর বিধায়ক রণেন্দ্রমোহন দাস এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু ২৪ অক্টোবর প্রস্তাবটি বিধানসভায় গৃহীত হয়।
এতেই গোটা বরাক উপত্যকা জুড়ে আন্দোলনের সূচনা
বরাক উপত্যকার বাঙালীদের ওপরে অসমীয়া ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে ১৯৬১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে কাছাড় গণ সংগ্রাম পরিষদ নামক সংগঠনটির জন্ম হয়। অসম সরকারের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে ১৪ এপ্রিল তারিখে শিলচর, করিমগঞ্জ আর হাইলাকান্দির লোকেরা সংকল্প দিবস পালন করেন । বরাকের জনগণের মধ্যে সজাগতা সৃষ্টি করার জন্য এই পরিষদ ২৪ এপ্রিল একপক্ষ দীর্ঘ একটি পদযাত্রা শুরু করেছিল। ২ মে তে শেষ হওয়া এই পদযাত্রাটিতে অংশ নেওয়া সত্যাগ্রহীরা প্রায় ২০০ মাইল উপত্যকাটির গ্রামে গ্রামে ঘুরে প্রচার চালিয়েছিলেন। পদযাত্রার শেষে পরিষদের মুখ্যাধিকারী রথীন্দ্রনাথ সেন ঘোষণা করেছিলেন যে, যদি ১৩ এপ্রিল,১৯৬১ সালের ভিতর বাংলাকে সরকারী ভাষা হিসেবে ঘোষণা করা না হয়, ১৯ মে তে তারা ব্যাপক হরতাল করবেন। ১২ মে তে অসম রাইফেল, মাদ্রাজ রেজিমেন্ট ও কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনী শিলচরে ফ্ল্যাগ মার্চ করেছিল। ১৮ মে তে অসম পুলিশ আন্দোলনের তিনজন নেতা নলিনীকান্ত দাস, রথীন্দ্রনাথ সেন ও বিধুভূষণ চৌধুরী (সাপ্তাহিক যুগশক্তির সম্পাদক) কে গ্রেপ্তার করে।
১৯ মে-এর ঘটনা
সত্যাগ্রহীদের উপর লাঠিচার্জ, বরাক ভাষা আন্দোলন

১৯ মে তে শিলচর, করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দিতে হরতাল ও পিকেটিং আরম্ভ হয়। করিমগঞ্জে আন্দোলনকারীরা সরকারী কার্যালয়, রেলওয়ে স্টেশন, কোর্ট ইত্যাদিতে পিকেটিং করেন। শিলচরে তারা রেলওয়ে স্টেশনে সত্যাগ্রহ করেছিলেন। বিকেল ৪টার সময়সূচির ট্রেনটির সময় পার হওয়ার পর হরতাল শেষ করার কথা ছিল। ভোর ৫:৪০ এর ট্রেনটির একটিও টিকিট বিক্রি হয় নি। সকালে হরতাল শান্তিপূর্ণ ভাবে অতিবাহিত হয়েছিল। কিন্তু বিকালে স্টেশনে অসম রাইফেল এসে উপস্থিত হয়।
বিকেল প্রায় ২:৩০ র সময় ন’জন সত্যাগ্রহীকে কাটিগড়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের একটি ট্রাক তারাপুর স্টেশনের (বর্তমানের শিলচর রেলওয়ে স্টেশন) কাছ থেকে পার হয়ে যাচ্ছিল । পিকেটিংকারী সকলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যেতে দেখে তীব্র প্রতিবাদ করেন। ভয় পেয়ে ট্রাকচালক সহ পুলিশরা বন্দীদের নিয়ে পালিয়ে যায়। এর পর কোনো অসনাক্ত লোক ট্রাকটি জ্বালিয়ে দেয়, যদিও দমকল বাহিনী এসে তৎপরতার সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তারপর প্রায় ২:৩৫ নাগাদ স্টেশনের সুরক্ষায় থাকা প্যারামিলিটারী বাহিনী আন্দোলনকারীদেরকে বন্দুক ও লাঠি দিয়ে মারতে শুরু করে। এরপর সাত মিনিটের ভিতর তারা ১৭ রাউণ্ড গুলি আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে চালায়। ১২ জন লোকের দেহে গুলি লেগেছিল। তাদের মধ্যে ন’জন সেদিনই নিহত হয়েছিলেন; দু’জন পরে মারা যান। ২০ মে তে শিলচরের জনগণ শহীদদের শবদেহ নিয়ে শোকমিছিল করে প্রতিবাদ সাব্যস্ত করেছিলেন।
এই ঘটনার পর অসম সরকার বরাক উপত্যকায় বাংলাকে সরকারী ভাষা হিসাবে ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
এই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে তখন থেকে প্রতি বছর বরাক উপত্যকাসহ ভারতের বিভিন্নপ্রান্তে ১৯ মে কে বাংলা ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আর সেই ভাষা আন্দোলনের পেক্ষাপট থেকে প্রতি বছর ১৯ মে কে বাংলা ভাষা শহীদ দিবস হিসাবে বরাক উপত্যকাসহ ভারতের বিভিন্নপ্রান্তে ১৯ মে কে বাংলা ভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। তবে এই দিনটা কেন্দ্রীয় ভাবে পালন হয় একাদশ শহীদের রক্তে রাঙা শিলচর এর মাটিতে। প্রতি বৎসরের মত এবারও ১৯ মে বাংলা ভাষা দিবস হিসেবে পালন এর প্রস্তুুতি ছিল গোটা বরাক উপত্যকা জুড়ে তবে গোটা দেশের সঙ্গে আসাম রাজ্যেও বর্তমানে করোনা ভাইরাস এর আতঙ্কে মানুষ গৃহবন্দী সেটাকে মাথায় রেখে এবার আর বড় ধরনের কোনও ১৯ মে এর অনুষ্ঠান রাখা হয়নি। তবে এদিন সকাল থেকে শিলচরে গান্ধী বাগের শহীদ স্মৃতি সৌধে, শিলচর শ্বসান ঘাটের একাদশ শহীদের মিনারে ও শিলচর রেল স্টেশন এর শহীদ স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসন সহ শহরের বিশিষ্টজনেরা। এদিন শিলাচর রেল স্টেশন এর শহীদ স্মৃতি সৌধে শ্রদ্ধা জেলা প্রশাসন এর পক্ষে নিবেদন করেন কাছাড়ের জেলা শাসক কৃত্তি জল্লি সহ শিলচরের বিধায়ক তথা আসাম বিধানসভার প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ দিলীপ কুমার পালসহ বিশিষ্টজনেরা।

১৯ মে এর শিলচরের ভাষা আন্দোলন ইতিহাস ও বাংলাদেশের বাংলাভাষী মানুষের টান

যেখানে বাংলা ভাষার জন্য ১৯৬১ সালের ১৯ মে বরাকের শিলচরে বাংলা ভাষার এক সর্বশেষ্ঠ ইতিহাস রচনা হয়েছে। সেই ভাষার জন্য আত্ম বলিদান এর ইতিহাসকে সচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে গত ২০১৭ সালে বাকের ভাষা শহীদ দিবসের দিনটাকে স্মরণীয় করতে সূদুর বাংলাদেশ থেকে শিলচরে ভাষা শহীদের মাটিতে পা রেখেছিলেন, বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিক আমাদের বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান চৌধুরী। বাংলাদেশের স্বনামধন্য সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরীর ২০১৭ সালের ১৯ মে এর শিলচরের ভাষা শহীদ দিবসের স্মৃতি আমি বাংলাদেশের দৈনিক আমাদের বাংলা পত্রিকার আসাম প্রতিনিধি হিসাবে পাঠকের কাছে তুলে ধরতে চাই আবারও । ভারতের আসাম রাজ্যের দক্ষিণ আসামের বরাক উপত্যকার শিলচরে ২০১৭ সালে ৫৭ তম ভাষা শহিদ দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে চারদিনের সফরে আসাম রাজ্যের কাছাড় জেলার শিলচরে এসে সংবর্ধনার জোয়ারে ভাসছেন। বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম, বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক আমাদের বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান চৌধুরী। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ( বিএফইউজে) র তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী। তার সফর সঙ্গী হিসাবে ছিলেন সিলেটের “পাণ্ডুলিপি ” প্রকাশন সংস্থার কর্ণধার তথা বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক বায়োজীদ মাহমুদ ফয়সল । মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রাবন্ধিক বায়োজীদ মাহমুদ ফয়সলকে নিয়ে ত্রিপুরা সিমান্ত দিয়ে বরাক উপত্যকায় পা রাখেন ১৮ মে ২০১৭ বৃহস্পতিবার রাতে। বৃহস্পতিবার রাত ১১ টা নাগাদ মিজানুর রহমান চৌধুরী এিপুরা করিমগ্ঞ্জ হয়ে শিলচরে পৌছান।এদিন রাত্রে শিলচর পৌঁছে মিজানুর রহমান চৌধুরী শিলচরের একটি হোটেলে রাত্রি যাপন করে পরদিন ১৯ মে শুক্রবার সকালে সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী ও প্রাবন্ধিক বায়োজীদ মাহমুদ ফয়সল শিলচরের বিশিষ্ট সাংস্কৃতি কর্মী তথা সাংবাদিক মিলন উদ্দিন লস্কর ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী মাসহুরুল বারীকে সঙ্গে নিয়ে শিলচর গান্ধীবাগের শহিদ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া এদিন সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী ও প্রাবন্ধিক বায়োজীদ মাহমুদ ফয়সলকে নিয়ে মিলন উদ্দিন লস্কর ১৯ মের ভাষা শহিদ দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভাষা শহিদ স্মারক সমিতি,শিলচরের পক্ষ থেকে মধ্যসহর সাংস্কৃতিক সমিতির কার্যালয়ে বেশ বড়সড় পরিসরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজনের করা হয়। এ অনুষ্ঠান বিশিষ্ট কবি সাংবাদিক অতীন দাশ এর পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিধানসভার তৎকালীন উপাধ্যক্ষ তথা শিলচরের বিধায়ক দিলীপকুমার পাল, উধারবন্দের বিধায়ক মিহিরকান্তি সোম, আমাদের চট্টগ্রাম পএিকার সম্পাদক ও স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান চৌধুরী, বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য সাংস্কৃতিক সম্মেলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ড. সৌরিন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য় প্রমুখ। এদিন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখয়োগ্য অবদানের জন্য সাংবাদিক তমোজিৎ ভট্টাচার্য়, বিশিষ্ট সমাজসেবী দিব্যেন্দু শেখর ভট্টাচার্য ও কাছাড় কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক বীরেন্দ্র সিংহ ওই তিনজনকে ভাষা শহিদ স্মারক সম্মান প্রদান করা হয়েছে। ভাষা শহিদ স্মারক সমিতি শিলচরের পক্ষ থেকে।এদিন আয়োজকদের তরফে দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম ও দৈনিক আমাদের বাংলা পএিকার সম্পাদক ও স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান চৌধুরীকেও বিশেষ সম্মান জানানো হয়। এদিন প্রত্যেক বক্তা ১৯৬১ এর ১৯ মে এর ভাষা সংগ্রামের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন। শুক্রবার ভাষাশহিদ দিবসের অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম পত্রিকা ও বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক আমাদের বাংলার সম্পাদক ও স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান চৌধুরী পরদিন শনিবার বিকালে সাউথ আসাম মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশান ( সামা) এর তরফে শিলচর ডিআরডিএর কনফারেন্স হলে আয়োজিত ” বাংলা মাধ্যমে সাংবাদিকতাঃ অঞ্চল ভেদে বৈচিএ বিষয়ক এক অন্তর্জাতিক আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত বক্তা হিসাবে অংশ নেন। এদিন সাউথ আসাম মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশান ( সামা) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাংবাদিক বিকাশ চক্রবতী এর পৌরোহিত্যে শুরু হওয়া আলোচনা সভায়, বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংবাদিক মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেছিলেন বরাক বাংলার প্রতি আমার আকর্ষণ দীর্ঘদিনের। এখানে আসার চিন্তা আমার আনেক দিন থেকে । এখানে এসে এখানকার মানুষের সঙ্গে মিলার, বরাকের ১৯ শে মের ভাষা শহিদদের সম্পর্কে সরাসরি জানার আকা্খংা অনেক আগে থেকে। যার ফলে এবার ভাষা শহিদ দিবসে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে ত্রিপুরা আসা। সীমান্ত দিয়ে এদেশে পা রেখে মহা বিপদে পড়ে যান তিনি । ত্রিপুরায় পা রেখেই তিনি সেখানে হরতালের কব্জায় পড়ে যাান। এর পর তাকে তার পরিচিতরা শিলচর থেকে আবার বাংলাদেশে ফিরে যেতে বলেন। কিন্তুু তিনি বরাকের ভাষা শহিদদের টানে দেশে ফিরে না গিয়ে শিলচর অবধি পৌছে যান। আর শিলচরে এসে ১১ ভাষা শহিদকে শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধা জানাতে পেরে মিজানুর বাবু নিজে সমৃদ্ধ হয়েছেন বলে জানান। বাংলা ভাষায় যারাই কথা বলে তারা এক বলে জানান। বাংলাভাষীদের হিন্দু- মুসলিম বলে আলাদা পরিচয় প্রদান করা লাগে না। বাংলাভাষী বাঙালীদের চেয়ে আর কোনও ভাষার মানুষের মধ্য একাত্মাবোধ নেই বলে উল্লেখ করেন মিজানুর চৌধুরী। সবাইকে মিলে মিশে বাংলা ভাষার উন্নয়নে কাজ করতে বলেন। তাহলেই ভাষা আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করেন। তিনি আরও বলেন বাংলা ভাষার জন্য ১৯৬১ সালের ১৯ মে বরাকের শিলচরে বাংলা ভাষার এক সর্বশেষ্ঠ ইতিহাস রচনা হয়েছে। যার জন্য এখন পৃথিবীর যেখানেই বাংলায় কথা বলা হচ্ছে সেখানকার মানুষ সহ আমরা বরাকের বাংলাভাষীদের শ্রদ্ধ করি কারন আপনারা বাংলার ভাষার জন্য আনেক ত্যাগ দিয়েছেন। ফলে এই বরাক উপত্যকা বাংলা ভাষার রাজধানী হতে হবে বলে জানান সাংবাদিক মিজানুর চৌধুরী। তিনি জানান অঞ্চল ভেদে বাংলা ভাষার অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। পাকিস্তান ১৯৭১ সালে ২১ ফেব্রুয়ারী বাংলা ভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তখন গোটা বাংলার মানুষ ঢাকার রাজপথে সেদিন প্রতিবাদে নেমেছিলেন। ফলে সেদিন সালাম-জব্বার-বরকতরা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে শহিদ হন। আজ বাংলার ২১ ফেব্রুয়ারী অন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্থান পেয়ে গেছে। কিন্তুু যেখানে বরাকের শিলচরে ১১ জন ভাষার জন্য শহিদ হয়েছেন। এরা কেন এখনও সরকারী স্বীকৃতি পাননি তা নিয়ে সরকারী স্বীকৃতি আদায় করতে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য বাংলাভাষীদের কাছে দাবি তুলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইইনিয়ন ( বিএফইউজে) র তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী।এদিন আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সিলেটের “পাণ্ডুলিপি ” প্রকাশন সংস্হার কর্ণধার তথা প্রাবন্ধিক বায়োজীদ মাহমুদ ফয়সল, বিশিষ্ট কবি -সাংবাদিক অতীন দাশ, সাউথ আসাম মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশান ( সামা) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাংবাদিক বিকাশ চক্রবতী প্রমুখ। এদিন আলোচনা সভার আয়োজক সাউথ আসাম মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশান ( সামা) এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ( বিএফইউজে) র সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেটের “পাণ্ডুলিপি ” প্রকাশন সংস্হার কর্ণধার তথা বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক বায়োজীদ মাহমুদ ফয়সলকে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এদের হাতে উপহার তুলে দেন সাউথ আসাম মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশান ( সামা) এর পক্ষ সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ ভট্টাচার্য ও রতন দেব। এদিন আলোচনা সভা শেষে এক প্রকাশ্য সভা অনুষ্ঠিত হয় এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, আসাম বিধানসভার তৎকালীন উপাধ্যক্ষ তথা শিলচরের বিধায়ক দিলীপকুমার পাল, সম্মনিত অতিথী শিলচর লোকসভা কেন্দ্রের তৎকালীন সাংসদ সুস্মিতা দেব, সুবিমল ভট্টাচার্য়, নীলোৎপল চৌধুরী প্রমুখ। প্রকাশ্য সভার পৌরোহিত্যে করেন সাউথ আসাম মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশান ( সামা) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাংবাদিক বিকাশ চক্রবতী। এভাবে গত তিন বছর আগের ১৯ মে এর দিনটি ছিল আমার কাছে একটা স্মরণীয় দিন যে দিন আমি প্রত্যক্ষ সাক্ষাৎ পেয়েছিলাম ওপার বাংলার সুসন্তান বিশিষ্ট সাংবাদিক বিশিষ্ট সমাজসেবী মিজানুর রহমান চৌধুরীর। আর এই কটি দিন আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ও স্মৃতি মধুর দিন হিসেবে গাঁথা থাকবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*