আম্পান: চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি

স্টাফ রিপোর্টার :: চলতি শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া প্রথম ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, সিএমপি, ফায়ার সার্ভিস, রেডক্রিসেন্ট, মেডিক্যাল টিমসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকরা। সংস্থাগুলোর পক্ষে কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান গতি-প্রকৃতি বজায় থাকলে ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার (২০ মে) বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৯০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৫ থেকে ২৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হচ্ছে।
এদিকে নগর ও উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে ৪ হাজার ৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে প্রায় চার লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। নগরীতে প্রস্তুতকৃত আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা ১১২টি। জেলা ও উপজেলায় এক হাজার ৭৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলায় ৫২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র আছে। চসিক এলাকায় আছে ৭২টি। এর মধ্যে নগরে ৪০টি। এর বাইরে ১ হাজার ২৪৩টি সহ মোট ১ হাজার ৭৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ২ হাজার ২৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১ হাজার ২৫০টি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৬ হাজার ৬৬০ সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক, আট হাজার জন রেডক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক এবং ৩৬০ জন স্কাউট সদস্য। গঠন করা হয় ২৮৪টি মেডিক্যাল টিম।
জানা গেছে, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় মজুদ রাখা হয়েছে ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২৮.৩৩ মেট্রিক টন চাল, নগদ দুই লাখ ২০ হাজার টাকা, ১৩৩ বান্ডিল ঢেউটিন ও ৫০০টি তাঁবু। এছাড়া এক হাজার মেট্রিক টন চাল, ৫০ লাখ টাকা, ২০ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ৫০০ বান্ডিল ডেউটিন বরাদ্দ চেয়ে দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে (০৩১-৬১১৫৪৫ ও ০১৭০০৭১৬৬৯১) যোগাযোগ করা যাবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মজুদ রেখেছে ৫০ হাজার পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং এক হাজার ৪০০ পিস হাইজিন কিডস।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, চার হাজার আশ্রয়কেন্দ্রে চার লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। ইতোমধ্যে ৫০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া রেসকিউ টিম, মেডিক্যাল টিম, শুকনো খাবার ও ওষুধপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে।
চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আমাদের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫ নম্বর মোহরা, ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী, ৩৭ নম্বর উত্তর মধ্যম হালিশহর, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর, ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা, ৪১ নম্বর দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ড ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে আছে। এ ছাড়া ভারী বর্ষণ হলে পাহাড়ধস ভূমিধসের আশঙ্কায় আছে কিছু ওয়ার্ড।
তিনি বলেন, এসব বিষয় মাথায় রেখে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হচ্ছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলররা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মাইকিং করেছেন। পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছি। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আলো, টয়লেটের সুব্যবস্থা করছি। চসিকের দামপাড়া নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে উপকূলীয় ওয়ার্ডগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*